মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: বৈষম্যমূলক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশোধনসহ তিন দফা দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কমসূূচি পালন করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে বিভাগের সভাপতির অপসারণ চেয়ে নতুন দাবি যুক্ত করেছেন তারা। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর, ২০২৫) সকাল থেকে বিভাগের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে বেলা ১টার দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এতে বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের তিন দফা মূল দাবিগুলো হলো বৈষম্যমূলক শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করে আগের নিয়ম পুনর্বহাল, ইন্টার্নশিপ ভাতা চালু এবং বিসিএস পরীক্ষায় চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিষয়কে টেকনিক্যাল ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে পূর্বে শুধুমাত্র চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ ছিল। কিন্তু মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এনামুল হক চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই নিয়মে পরিবর্তন এনে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদেরও আবেদনের সুযোগ করে দেন। যাহা বৈষম্যমূলক বলে শিক্ষার্থীরা মনে করছেন। সমাবেশে বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, আমরা তিন দিন ধরে আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন করে আসছি। আমরা বিভাগের সভাপতিকে ২৪ ঘণ্টার সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তিনি আমাদের দাবি মেনে নেননি এবং আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের কথা বলেননি। তিনি আমাদের প্রতি অসহযোগিতা করেছেন।
আন্দোলনের মুখে নতুন করে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এনামুল হকের অপসারণের দাবি তুলেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, সভাপতি শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছেন এবং অসহযোগিতা ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়েছেন। মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ফারহানা জেবিন লিজা বলেন, তিনদিন ধরে আমরা কর্মসূচি পালন করছি। আমাদের তিনটি দাবি ছিল। এসব দাবির ব্যাপারে আমরা উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছি। কিন্তু এসব বিষয়ে আমাদের চেয়ারম্যান স্যার কোনো রেসপন্স করছেন না। এজন্য আজকে আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি।
আরেক শিক্ষার্থী সুমন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, যেহেতু তিনি আমাদের অসহযোগিতা করেছেন এবং গতকালকে আমরা পিএসসিতে স্মারকলিপি পাঠানোর জন্য একটি স্মারকলিপি তৈরি করে স্বাক্ষর নিতে যাই, তখন তিনি স্বাক্ষরও করেননি। আবার আমাদের সঙ্গে দেখাও করেননি। এ কারণে আমরা বর্তমান চেয়ারম্যান প্রফেসর এনামুল হকের অপসারণ চাই। তবে শিক্ষার্থীদের অসহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এনামুল হক। তিনি বলেন, আমি তাদের সহযোগিতা করছি। অলরেডি একটা দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। তাদের শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে কথা হয়েছে। উনি বলেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি ও পিএসসির সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করতে। তিনি আরও জানান, শিক্ষক নিয়োগ এবং ইন্টার্নশিপ ভাতার বিষয়েও উপাচার্যের সাথে কথা বলেছেন এবং ইউজিসির সঙ্গে আলোচনা করে ভাতার বিষয়টি সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
এর আগে, মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) শিক্ষার্থীরা প্রথম দফার আন্দোলন হিসেবে বিভাগে তালা ঝুলিয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন এবং উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য এই শাটডাউন কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।