বগুড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটার পর বগুড়া জেলা পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বিকাল চারটার দিকে থেকে জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে এনসিপির জেলা সমন্বয় সভা চলছিলো। এই প্রোগ্রামে উপস্থিত ছিলেন সারজিস আলম। অনুষ্ঠান শেষ করে সারজিস আলম সাংবাদিকদের বলেন, পুরো বাংলাদেশকে নিয়ে যারা চক্রান্ত করছে, ষড়যন্ত্র করছে; ফ্যাসিস্টদের, দোসরদের আস্ফালন দেখতে পাচ্ছি। এবং সাংগাঠনিক ইন্টারনাল অনুষ্ঠান অডিটোরিয়ামের মধ্যে হচ্ছে, যেখানেও যখন অডিটোরিয়ামের বাহিরে ককটেল বিস্ফোরণ হতে পারে, তখন আমরা আমাদের জায়গা থেকে মনে করি; বাংলাদেশের নিরাপত্তার সাথে জড়িত যারা দায়িত্বে আছেন তাদের জায়গায় যতটুকু এক্টিভ থাকার কথা ততটুকু হয়তো তারা এখন থাকছেন না। এখনই যদি তারা (ফ্যাসিস্ট ও দোসর) যদি এতোটা আস্ফালন করতে পারে তাহলে নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করবে। এর আগে বিকাল ৩ টায় শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ সংলগ্ন স্থানে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন সারজিস আলম। এর আগে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। ঘটনার বর্ননা দিয়ে এনসিপির বগুড়া জেলা সমন্বয়কারী সদস্য সুলতান মাহমুদ বলেন, আমাদের পূর্ব নির্ধারিত জেলা সমন্বয় মিটিং ছিল। সেখানে সারজিস আলম, সাকিব মাহদীসহ বেশ কিছু উর্ধ্বতন নেতা উপস্থিত ছিল। আমরা আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে সাংবাদিক সম্মেলন শেষ করে জেলা পরিষদ মিলনায়তন চত্ত্বরে আসার পরেই একটি চারতলা ভবন থেকে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে দুবৃত্তরা। তার মধ্যে একটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। আমাদের সবাই নিরাপদ আছেন। এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার আরেক সমন্বয়কারী সদস্য শওকত ইমরান অভিযোগ করেন, তার দলের নেতাদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য পুলিশ যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেননি। ঘটনা ঘটনার পর পুলিশ এসেছে। এটি তাদের দায়িত্ব অবহেলা বলেই আমাদের কাছে মনে হয়েছে। তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আর আওয়ামী লীগ পালিয়ে গেলেও তাদের দোসর ও দালাল দেশে রয়ে গেছে। তাদের পুর্নবাসন করার জন্য যারা দায়িত্ব নিয়েছে তারাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমরা মনে করি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) হুসেইন মোহাম্মদ রায়হান। তিনি বলেন, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। সেখানে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হয়েছে এমন কোন খবর আমরা পাইনি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।