‘শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়েছে ঠিকই কিন্তু শয়তানি ছাড়েনি’ মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারতে গিয়ে আবার শয়তানি শুরু করেছে। ছাত্রলীগকে উসকায়ে দেয় এই তোমরা গোলমাল করো, মিটিং করো, মিছিল করো, মারামারি করো, নেতাদেরকে মারো। তাই করেছে। নূরকে মেরেছে এরাই। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আয়োজিত খাল পরিষ্কার কর্মসূচি উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। নেতাকর্মীদের সতর্ক করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা সাবধান থাকবেন, যদি আপনাদের কারো ওপর হাত পড়ে ওই আওয়ামী লীগের, সেই হাত আপনারা ভেঙ্গে দিবেন। একদম ভেঙে দেবেন। একটা কথা মনে রাখবেন, এই দুই হাজার শিশু, ছেলে, কিশোর, নারীদের রক্তে আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছি। তার আগে ৭১ সালে আমরা লাখ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছি। এই দেশটা কারো ধারে নয়, আমাদের রক্ত দিয়ে পাওয়া দেশ। সেই কারণেই শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে আমরা আমাদের দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করব, আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব। এতে কোনো আপস নাই।’ পুলিশের প্রতি আহ্বান রেখে তিনি বলেন, ‘এখন আর অপকর্ম করতে দেয়া যাবে না। অতীতে আপনারা যে খারাপ কাজ করেছেন। এখন দয়া করে ভালো হয়ে যান। জনগণের সাথে থাকেন।’ গুজব চারদিকে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘গুজবে কান দেবেন না। কারণ গুজব ছড়ানো হয় আমাদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য। আওয়ামী লীগ ভারত থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে। আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নাই, আমাদের মধ্যে ঐক্য আছে। এই ঐক্য নিয়ে আমরা জয়ী হব। ইনআশাল্লাহ।’ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থেই একটা সমৃদ্ধশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হিসেবে তৈরি করার জন্য একটি নতুন দল গঠন করেছিলেন। এই দলটি দল হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তার আগে তিনি একটা জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট তৈরি করেছেন। সেই ফ্রন্টে আওয়ামী লীগ ছাড়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো সবাই যোগ দিয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি গঠন হওয়ার পরে বাংলাদেশে একটা নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছিল। মানুষ ৭২ সাল থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দুঃশাসন, লুটপাট, হত্যা, গণতন্ত্রকে হত্যা করা দেখেছে, এবং সবশেষে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করে দিয়ে একটি মাত্র দল বাকশাল তৈরি করেছিল। সমস্ত পত্রপত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল, কোনো বাকস্বাধীনতা ছিল না। কেউ কথা বলতে পারতো না এবং মানুষের নূন্যতম যে মানবিক অধিকার সে অধিকারগুলো শেখ মুজিবুর রহমান কেড়ে নিয়েছিলেন। অথচ আমাদের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদেরকে সেখান থেকে মুক্তি দিয়ে একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ করার কাজ শুরু করেছিলেন। আগে ছিল মাত্র একটা দল বাকশাল আর আমাদের নেতা করলেন অনেক দল অর্থাৎ বহুদল।’ জিয়াউর রহমানের শাসনামলের বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘সব দল মতামত প্রকাশ করবে। মানুষ তাদের মতামত প্রকাশ করবে। সেই স্বাধীনতা থাকবে। এটাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। শুধু তাই নয়, একদিকে যেমন তিনি এই রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তন করলেন। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিলেন। অন্যদিকে, অর্থনীতিতে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনলেন। কৃষিতে আনলেন একটা বিপ্লবের সূচনা। যে বাংলাদেশে ৭৪ সালে ভাইরাল দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। লাখো মানুষ না খেতে পেয়ে মারা গিয়েছিল আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের কারণে। অথচ ৭৬,৭৭ সালে উদ্বৃত্ত ধান উৎপাদনের দেশে পরিণত করলেন এবং বাংলাদেশ থেকে ধান রফতানির ব্যবস্থা করলেন। প্রতিটি কলকারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই কলকারখানাগুলোকে করে দিয়ে তিন শিফটে কারখানা চালু করার ব্যবস্থা করলেন। তিনি গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে পায়ে হেঁটে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করলেন। নদী-খাল খনন করলেন।’ দেশের পোশাকশিল্পের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জিয়াউর রহমান এই অর্থনীতির পরিবর্তন সূচনা করলেন, গার্মেন্টস আনলেন। পোশাকশিল্প করলেন। এখান থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি আয় আনে। বিদেশ থেকে ডলার সে ডলার নিয়ে আসে নারী শ্রমিকরা কাজ করে। বিদেশি শ্রমিক পাঠানো কাজটি তিনি করেছিলেন।’ বিদেশীরা জিয়াউর রহমানকে স্যালুট করতো জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন গরীব দেশ থেকে এত সৎ যোগ্য একটা নেতা উঠে আসতে তারা আর আগে কখনো দেখেনি। তারই উত্তরসূরি আমরা। সেই বিএনপি করি। যদি আমরা আওয়ামী লীগের মতো চাটার দলে পরিণত হই তাহলে কি মানুষ আমাদের ভালোবাসবে? না। এটা মাথায় রাখবেন। কাজে দেখাতে হবে, আমরা দেখাতে চাই, আমরা আমাদের নেতা জিয়াউর রহমানের মতোই সৎভাবে দেশ পরিচালনা করতে জানি।’