শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথ বেয়েই দেশ এগিয়ে যাচ্ছিল জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তবে বারবার সাম্রাজ্য ও আধিপত্যবাদী শকুনেরা খুবলে খুবলে খাওয়ার চেষ্টা করেছে এই দেশের মানচিত্রকে। বুধবার (২০ আগস্ট) নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। রিজভী বলেন, এ দেশের এক ক্ষণজন্ম সন্তান এক অধম্য সাহসী বীর সেনানায়ক জিয়াউর রহমান। ১৯৭১ সালে দেশ মাতৃকার স্বাধীনতার জন্য যিনি মহান স্বাধীনতার ঘোষক হিসেব জাতির কাছে ইতিহাসে একটি গৌরব উজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। এই দল অনেক অর্জনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে তার রাজনৈতিক বিচরণ অব্যাহত রয়েছে এবং এই বিচরণ গৌরবের। এই বিচরণ সাহসের। এই বিচরণ অসংখ্য অর্জনের এক ভূষিত পংক্তিমালা দিয়ে তৈরি। তিনি বলেন, বাকশালের অন্ধকার অঞ্চল থেকে আলোকিত বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মানুষের বাক স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের অবাধ চর্চা নিশ্চিত করেছিলেন- সেই ব্যক্তিটির নাম জিয়াউর রহমান।
রিজভী বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তে ৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জিয়াউর রহমানকে নির্মভাবে হত্যা করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যে যে পুরুষ মানুষকে দিয়েছিলেন নিরাপত্তা, স্বস্তি এবং বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা। কিন্তু এটা কারো সহ্য হয়নি তাই তাকে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, এরপর তার সহধর্মিনী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বামীর প্রদর্শিত পথ এবং তার রেখে যাওয়া পতাকা, সেই পতাকা বুকে ধারণ করে তিনি সেই বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। এরশাদের সেই গণতন্ত্র হত্যার প্রচেষ্টার মধ্যে নতুন করে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন জাতিকে। ৯ বছর সংগ্রাম করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেই পথ বেয়েই দেশ এগিয়ে যাচ্ছিল। বারবার আধিপত্যবাদী শকুনেরা খুবলে খুবলে খাওয়ার চেষ্টা করেছে এই দেশের মানচিত্রকে। তিনি বলেন, ছাত্রজনতার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে বিদায় হয় ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের। যে আন্দোলনের পটভূমি রচনা করেছিলেন এবং আন্দোলনকে সুসংগঠিত করেছেন জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য জ্যেষ্ঠ পুত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, আমাদের এখনো কাজ শেষ হয়ে যায়নি। গণতন্ত্র এখনো পুনরুদ্ধার হয়নি। আমাদের সেই গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের জন্য আমাদেরকে হয়তো আরো বিপদ সংকুল পথ অতিক্রম করতে হবে। এ কারণে আমাদের দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং জাতীয়তাবাদী শক্তিকে প্রস্তুত থাকতে হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এখনো নিশ্চিত হয়নি। নানা ধরনের চক্রান্তের কথা শুনি, নানা ধরনের মাস্টার প্ল্যানের কথা শুনছি আমরা।