বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক জনাব তারেক রহমান-এর নির্দেশনায়- চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আহত, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী ও অসহায় অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা করেছে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’। আজ রোববার দুপুর ০৩.০০ ঘটিকায় (১০ আগস্ট ২০২৫) বিএনপি চেয়ারপার্সন-এর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই মানবিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি মিডিয়া সেল-এর আহবায়ক অধ্যাপক ডাঃ মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল। এছাড়া ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহবায়ক আতিকুর রহমান রুমন-এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনটির উপদেষ্টাবৃন্দ, সদস্য সচিব, অন্যান্য সদস্য ও বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ।
এসময় বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন এবং গত ১৬ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে যারা প্রাণ দিয়েছেন, গুম হয়েছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন কিংবা স্থায়ী অঙ্গহানি বরণ করেছেন, তারা সবাই জাতীয় বীর। তিনি বলেন, শুধুমাত্র চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ৩৬ দিনেই একটি ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে, তা নয়। এই রক্তের সিঁড়ি তৈরি হয়েছে দীর্ঘ ১৬ বছরের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। মানবাধিকার সংস্থার তথ্য তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০০৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, পুলিশি নির্যাতনসহ নানা প্রতিহিংসামূলক হামলায় সাত হাজার ১৮৮ জন ভুক্তভোগী হয়েছেন। এর মধ্যে ৭০৯ জন গুমের শিকার, তার মধ্যে অনেকে এখনো ফিরে আসেনি, আমার মতো সৌভাগ্যবান নয় তারা। দুই হাজার ৬৯৩ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। জুলাই আন্দোলনে ১৪ শ’র বেশি হত্যা, ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত এবং প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি দুই চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন।তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা এখনো সঠিক তালিকা প্রণয়ন করতে পারেননি। হাসপাতালের রেজিস্টার গায়েব, গণকবরের সন্ধান অজানা- তবুও উদ্যোগ নিতে হবে।’ সালাহউদ্দিন বলেন, ‘শহীদ ও আহতদের প্রতি রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাদের জন্য রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও দলীয়ভাবে আমাদের করণীয় রয়েছে এবং তা আমরা পালন করব, ইনশা আল্লাহ।’ মানসিক ও দৃষ্টিভঙ্গির সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন করলেই হবে না; যারা রাষ্ট্র চালাবে এবং যারা নাগরিক- উভয়ের মানসিক পরিবর্তন জরুরি। শুধু সরকারের কাছ থেকে সব আশা না করে, জনগণকেও দেশের জন্য কী করা যায় তা ভাবতে হবে।’ তিনি বলেন, স্বাধীনতায় শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে মানবিক, কল্যাণমুখী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়তে হবে। যারা আজ অন্ধত্ব বরণ করেছেন বা অঙ্গ হারিয়েছেন, তাদের সন্তানরা যেন কাঙ্ক্ষিত সমাজ ও রাষ্ট্র দেখতে পায়- সেটাই আমাদের লক্ষ্য। বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনর্জন্ম না হয়, সেজন্য রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানসিক সংস্কার অব্যাহত রাখতে হবে।