1. nobinbogra@gmail.com : Md. Nobirul Islam (Nobin) : Md. Nobirul Islam (Nobin)
  2. bd.momin95@gmail.com : sojibmomin :
  3. bd.momin00@gmail.com : Abdullah Momin : Abdullah Momin
  4. bd.momin@gmail.com : Uttarkon2 : Uttar kon
বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
ভারতের সংসদ শ্রদ্ধা জানালো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে একটি দলের শীর্ষ নেতারা পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে: বিএনপি প্রযুক্তি খাত থেকেই ভবিষ্যৎ রচনা হবে : ড. ইউনূস বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র-মার্কিন রাষ্ট্রদূত সহিংসতা বন্ধ করে কল্যাণের রাজনীতির পক্ষে দাঁড়াতে চাই-ডা: শফিকুর রহমান বগুড়ায় আসছেন তারেক রহমান বইছে উৎসবের আমেজ বগুড়াতে বিএনপির বাহিরে অন্য প্রার্থীকে ভোট দিবেনা মানুষ-ভিপি সাইফুল মোহনপুরে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের একদিনের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত গাবতলীতে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণা ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে ১০৮টির মধ্যে ৭০টি অবৈধ

কাজিরহাট-আরিচা নৌরুটে স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ

  • সম্পাদনার সময় : সোমবার, ২৬ মে, ২০২৫
  • ৫২ বার প্রদশিত হয়েছে

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার কাজিরহাট-আরিচা নৌপথে স্পিডবোটে পারাপারে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বোট মালিকদের বিরুদ্ধে। ২১০ টাকার ভাড়া নেয়া হচ্ছে ২৫৫ টাকা। এছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ না করারও অভিযোগ রয়েছে। এসব নিয়ম মানতে বিভিন্নভাবে তাগিদ দিলেও কাউকেই মানছেন না বোট মালিকরা। এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন যাত্রীরা। সংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে সবশেষ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ১৫০ টাকা করে স্পিডবোটের ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়া হয়। এরপর আর সরকারিভাবে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়নি। বোট পরিচালনা ব্যয় ও যাত্রী স্বার্থ বিবেচনায় বিআইডব্লিউটিএ ও বোট মালিকরা মৌখিকভাবে নির্ধারণ করে এতোদিন ভাড়া আদায় করেছেন। এরপর চলতি বছরের ৯ এপ্রিল আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে স্পিডবোটের যাত্রী ভাড়া ২১০ টাকা নির্ধারণ করে বিআইডব্লিউটিএ। কিন্তু এ ভাড়া নীতিমালা মানছেন না বোট মালিকরা। রোববার (২৫ মে) সরেজমিনে কাজিরহাট ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কাউন্টার থেকে ২৫০ টাকায় স্পিডবোটের টিকিট নিচ্ছেন যাত্রীরা। টিকিটেও এর মূল্যমান ২৫০ টাকা-ই লেখা রয়েছে। তার সাথে ঘাটে প্রবেশ ফি বাবদ নেয়া হচ্ছে ৫ টাকা। মোট ২৫৫ টাকা ভাড়া গুণতে হচ্ছে যাত্রীদের। তবে টিকিটে বিআইডব্লিউটিএ, সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সিল নেই। কোনো কোনো যাত্রীরা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার কথা বললেও এই ভাড়ায়ই যেতে হবে বলে জানানো হচ্ছে কাউন্টার থেকে। ফলে বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত টাকায়ই টিকিট নিচ্ছেন যাত্রীরা।যাত্রীরা বলছেন, সাধারণ ভাড়ার তুলনায় নেয়া হচ্ছে ৪৫ টাকা বেশি। ১২ জন করে নেবার নিয়ম থাকলেও এক বোটে গাদাগাদি করে ১৮-২২ জন করেও যাত্রী নেয়া হচ্ছে। কখনো লাইফ জ্যাকেট দিচ্ছেন, কখনো দিচ্ছেন না। এতে ঝুঁকি ও ভোগান্তির শেষ নেই তাদের। পাবনা থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন রাশিদুল ইসলাম নামের এক যাত্রী। তিনি বলেন, এরা সরকারকেও মানে না। সেখানে আমাদের মানবে? কাউন্টারে গেলে অতিরিক্ত কোনো কথা বলার সুযোগ নেই। এই ভাড়াতেই যেতে হবে, নাহলে অন্যভাবে যান বলে অপমানজনক আচরণ করা হয়। এগুলো দেখবে কে? ঢাকার সাভারে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকুরী করেন শফিকুর রহমান। ঈশ্বরদী প্রজেক্ট ভিজিট শেষে সাভার ফিরছেন জানিয়ে এ যাত্রী বলেন, ২১০ টাকা ভাড়া বেধে দিলো সরকার। অথচ নেয়া হচ্ছে ২৫৫ টাকা। কাউন্টারে ২৫০ টাকা ও ঘাটে ঢুকতেই আরেকটি টিকিট হাতে ধরিয়ে দিয়ে নেয়া হচ্ছে আরো ৫ টাকা। অথচ যতটুকু জানি তাতে ওই ২১০ টাকার মধ্যেই ঘাটে প্রবেশ ফি রয়েছে। এভাবেই সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এগুলো বন্ধ করা উচিত। দুলাল হোসেন ও শরিফুল ইসলাম সহ আরো কয়েক যাত্রী জানান, যে বোটটি ছাড়বে, দেখুন এতে ২০-২২ জন যাত্রী তোলা হয়েছে। এভাবে ঠাসাঠাসি করে বসা যায় না জানালে চালকরা দুর্ব্যবহার করে। আবার এখন বলেছি এবং আপনাদের (সাংবাদিক) দেখেছে জন্য লাইফ জ্যাকেট দিচ্ছে, এতক্ষণ দেয় নাই। এভাবেই অনিরাপত্তা ও ভোগান্তিতে নদী পার হতে হয় যাত্রীদের। তবে এসব অভিযোগের বিপরীতে নানা যুক্তি রয়েছে বোট চালক ও মালিকদের। স্পিডবোট চালক শফিকুল ইসলাম ও শামিম হোসেন বলেন, এক ট্রিপে ২২ লিটার তেল লাগে। সে হিসেবে ২৭০০-২৯০০ টাকার তেল লাগে। সাথে চালক ও ঘাট খরচ আছে। তাতে এসব খরচ মিটিয়ে মালিকদের কিছুই থাকে না। সকার নির্ধারিত ভাড়ায় স্পিডবোট চালালে মালিকরা লোকসানে পড়বে। বোট চালাতে পারবে না। লাইফ জ্যাকেট ও অতিরিক্ত যাত্রীর প্রশ্নে তারা বলেন, লাইফ জ্যাকেট দিলেও যাত্রীরা পরে না। গরমের জন্য খুলে ফেলে। বড় বোটে যাত্রী বেশি নেয়া যায়। এজন্য দুএকজন বেশি নেয়া হয় কখনো। বোট মালিক সমিতির সভাপতি রইস উদ্দিন বলেন, অনেক আগে থেকেই ২৫০ টাকা ভাড়া-ই নেয়া হয়। ওইভাবেই নেয়া হচ্ছিলো। এখন সপ্তাহ দুয়েক আগে প্রজ্ঞাপন হয়েছে নতুন ভাড়ার। কম হলেও ভাড়া সমন্বয় করতে হবে। ব্যস্ততায় আমি আমি বাইরে থাকার কারণে এটি করা হয়নি। ফিরে দ্রুতই ভাড়া আদায়ের ব্যাপারটা সমন্বয় করা হবে। বিআইডব্লিউটিএ সূত্র বলছে, গত ১৪ ডিসেম্বর প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি বোটের রুট পারমিট দেয়া হয়। পরে কয়েকটি ধাপে আরো বেশকিছু বোটকে রুট পারমিট দেবার পর আরিচা ও কাজিরহাট দুই পাড়ে এখন মোট ১৪২টি স্পিডবোট চলাচল করছে। নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নেবার সুযোগ নেই জানিয়ে বিআইডব্লিউটিএ এর নগরবাড়ি-কাজীরহাট ঘাট কার্যালয়ের পোর্ট অফিসার আব্দুল ওয়াকিল বলেন, সপ্তাহ দুয়েক আগে এই রুটে ২১০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে বোট মালিকদের সাথে নতুন ভাড়া আদায় ও অন্যান্য নিয়ম পালনের ব্যাপারে কথা বলেছি। কিন্তু তারা সেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এখনো অব্যাহত রেখেছেন। তিনি বলেন, আমরা আবার তাদের সাথে কথা বলব। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় অভিযান চালাবো। এরপরও যদি তারা নির্দেশ না মানেন তাহলে প্রয়োজনে তাদের রুট পারমিট বাতিল করা হবে। ঈদযাত্রা শুরুর আগেই আমরা এটির একটি সমাধান করব। এ ব্যাপারে পাবনার বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোরশেদুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন আগেও আমরা অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছি। কিন্তু এতেও এ অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না। অভিযানে গেলে দুইপাড় থেকেই বোট চালানো বন্ধ করে দেয়। এরপরও আমরা তৎপর রয়েছি। বিআইডব্লিউটিএ সহযোগিতা চাইলে অবশ্যই সেটি করা হবে।

প্রসঙ্গত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর ও সময় বাঁচানোর লক্ষ্যে ২০১৬ সালের দিকে কাজীরহাট-আরিচা নৌরুটে লঞ্চ ও ফেরির পাশাপাশি স্পিডবোট চলাচল শুরু হয়। প্রায় ১৬ কিলোমিটার দুরত্বের এই নৌপথে ৪টি ফেরি ও ৯টি লঞ্চ চলাচল করে। এর সাথে বর্তমানে ১২ সিটের ১৪২টি স্পিডবোট চলে দুইপাড়ে (আরিচা ও কাজিরহাট)। এতে করে এক ঘন্টারও বেশি সময়ের জলপথ পাড়ি দেয়া যায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটে। এ কারণে প্রতিদিন হাজারেরও অধিক মানুষ যাতায়াত করেন স্পিডবোটে। এছাড়া ঈদের সময়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৫ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। সড়কপথে ঢাকার সাথে পাবনার দুরত্ব ৫ থেকে ৬ ঘন্টার। যানজটের কবলে পড়লে লাগতে পারে ৮ থেকে ১২ ঘন্টা সময়। সেখানে কাজিরহাট-আরিচা নৌপথে ঢাকা যেতে সময় লাগে ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘন্টা। দীর্ঘ সময় ক্লান্তির যাত্রায় ভোগান্তি কমাতে মানুষ এই নৌপথ বেছে নেন।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © 2025 The Daily Uttar Kon. All Rights Reserved.
Powered By Konvex Technologies