রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে একটি রূপরেখা তুলে ধরেছে নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ঐকমত্য কমিশনের সাথে সংলাপে অংশ নিয়ে কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজের কাছে রূপরেখাটি হস্তান্তর করেন এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন। রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার প্রশ্নে ক্ষমতার ভারসাম্য, জবাবদিহিতা ও বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দিয়েছে এনসিপি।আখতার হোসেন বলেন, ‘মৌলিক সংস্কার বলতে নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার নয় বা দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের মতো বিষয়গুলোকে মনে করি না। বরং ক্ষমতার ভারসাম্য, জবাবদিহিতা ও বিকেন্দ্রীকরণ- এ তিন বিষয়কে অর্জন হচ্ছে মৌলিক সংস্কারের মূল ভিত্তি।’তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক ও রাষ্ট্র-কাঠামোকে কিভাবে স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী উপাদানগুলো থেকে মুক্ত করতে পারি, সাংবিধানিক পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয়করণের বাইরে এসে কিভাবে জাতীয় স্বার্থকে প্রতিফলিত করতে পারি, কিভাবে বিচারবিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে সত্যিকার অর্থে ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে হাজির করা যায়, প্রত্যেকটা বিষয়কে মৌলিক সংস্কারের অন্তর্ভুক্ত বলে আমরা মনে করি।’ এনসিপির মৌলিক সংস্কারের রূপরেখা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহায়তা করবে বলে মন্তব্য করেছেন ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ। আলী রীয়াজ বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনায় আনুষ্ঠানিক, অনানুষ্ঠানিকভাবে অগ্রসর হচ্ছি। তার মধ্য দিয়ে আমরা চেষ্টা করছি, একটি জাতীয় সনদ তৈরি করতে। যার লক্ষ্য হচ্ছে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথরেখা তৈরি করা। সেই প্রক্রিয়া আপনাদের মৌলিক সংস্কারের রূপরেখাগুলো অবশ্যই সহায়তা করবে।’