1. nobinbogra@gmail.com : Md. Nobirul Islam (Nobin) : Md. Nobirul Islam (Nobin)
  2. bd.momin95@gmail.com : sojibmomin :
  3. bd.momin00@gmail.com : Abdullah Momin : Abdullah Momin
  4. bd.momin@gmail.com : Uttarkon2 : Uttar kon
শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
দুঃস্হদের মাঝে ঈদ সামগ্রী ও অসহায় পরিবারকে হুইলচেয়ার বিতরণ করলেন সাবেক এমপি লালু দেশের আকাশে চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদুল ফিতর শনিবার আ.লীগের কার্যক্রম বন্ধ আছে, বন্ধ থাকবে: মির্জা ফখরুল নীলসাগর ট্রেন দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের লাইনচ্যুত ৯টি বগির উদ্ধার কাজ শেষ ; প্রায় ২২ ঘন্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু শাজাহানপুরে ২ হাজার পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার পৌঁছে দিলেন এনামুল হক শাহীন সান্তাহারে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার নওগাঁয় ৭শতাধিক অসহায়দের মাঝে ঈদ সামগ্রি উপহার বিতরণ করলেন তুহিন মানবিক দৃষ্টান্ত: অসহায় পঙ্গু সেই জালালের পাশে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমানের গণসংযোগ অব্যাহত

বিএনপি-জামায়াতসহ সকলকে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে-মির্জা আব্বাস

  • সম্পাদনার সময় : বুধবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৫
  • ৫৯ বার প্রদশিত হয়েছে

বিএনপি-জামায়াতসহ সকলকে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, আমাদের দেশটা এখন খুব খারাপ অবস্থায় আছে। আমাদের দেশের জনগণের, জাতির, দলের প্রত্যেকটা মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। যদি বাংলাদেশের জনগণকে বিভক্ত করা যায়, এদেশকে আবারো ভারতীয় আধিপত্যবাদের হাতে চলে যেতে হবে। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মত-বিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু, যে দলই হোক, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ অন্য সকল দলকে জাতীয় স্বার্থে, দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বুধবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে গণতন্ত্র ফোরাম আয়োজিত ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র, সংস্কার ও বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমানকে নিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা আজকে থেকে ২০ বছর আগে তাকে যেরকম দেখেছি ২০ বছর পরে দেখছি অনেক তফাৎ। আজকে তারেক রহমান সত্যি সত্যি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন এবং সঠিকভাবে পালন করছেন। যারা এক সময় তাকে পছন্দ করতেন না, তারাও আজকে বলতে বাধ্য হচ্ছেন যে তারেক রহমানের মধ্যে ম্যাচুরিটি এসেছে। এটা শুনতে ভালো লাগে আমাদের।’

তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের দেশের একটা অবস্থা এসেছে; নির্বাচন না সংস্কার। তবে আমি বলতে চাই নির্বাচনের বিকল্প কেবল নির্বাচনই হতে পারে। অন্য কোনো কিছু হতে পারে না। নির্বাচনের বিকল্প নির্বাচন। এখন আমি কথা বললেই বলবে যে মির্জা আব্বাস সংস্কারের বিরুদ্ধে কথা বলে, সংস্কার চায় না। কিন্তু না, আমাদের জন্য, নির্বাচনের জন্য, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য যে সংস্কারটুকুর প্রয়োজন আমরা সেই সংস্কারটুকু চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমি একবার বলেছিলাম যে, আপনারা যে সংস্কারের কথা বলছেন সব সংস্কার তো মানা যাবে না। সেই কথাটিকে টুইস্ট করে আমাদের বিদেশে অবস্থানরত তথাকথিত সাংবাদিক এমনভাবে বলল, বিএনপি সংস্কার চায় না, মির্জা আব্বাস সংস্কার চায় না। এমন কী সালমান রহমানের টাকা খেয়ে যার স্বাস্থ্য-চেহারা মোটা হয়েছে তিনি প্রায়ই ফেসবুকে এসে বলে কেন মির্জা আব্বাস মানবেন না। আমি বলতে চাই, তোমার যেমন বিদেশে পালিয়ে থেকে কথা বলার অধিকার আছে, আমার কী দেশে থেকে কথা বলার অধিকার নাই?’ আমি এই দেশে মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে জেলে থেকেছি সহকর্মীদের নিয়ে। পালিয়ে যাইনি। আপনারা তো পালিয়ে গিয়ে লম্বা লম্বা কথা বলতেছেন। আমি আপনাদের উদ্দেশে সম্মান রেখেই বলতে চাই, যারা দেশের বাইরে আছেন, ইউটিউবার যারা আছেন; ভাই আমরা রাজনীতি ছেড়ে দিব আপনারা দেশে আসেন। আপনাদের অনেক জ্ঞান, অনেক বুদ্ধি। আপনাদের জ্ঞান বুদ্ধি আমাদের অনেক প্রয়োজন। আপনারা দয়া করে দেশে আসেন। বুদ্ধি দেন, কথা বলেন, কাজ করেন, মেনে নিব।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এনসিপির একজন বলে ফেললেন এখন নির্বাচন করা সম্ভব না। কারণ প্রসাশনের সব জায়গায় বিএনপির লোক বসা আছে। আরে ভাই, ১৭ বছর আওয়ামী লীগ দেশ শাসন করল, আপনি বিএনপির লোক কই পাইলেন আমি বুঝলাম না। এই সমস্ত কথা নেহাতই বাচ্চাদের কথার মতো বলতেছেন।’ তিনি বলেন, ‘ইদানিং একটা গ্রুপ ফেসবুকে বলার চেষ্টা করছে যে বিএনপি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছে। আরে ভাই ১৭ বছর এদের (আওয়ামী লীগ) যন্ত্রণায় পাগল হয়ে গেছি। পরিবার-পরিজনসহ অশান্তিতে ভুগেছি। বিএনপি অনেকের পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে আওয়ামী লীগের অত্যাচারের কারণে। বরং আমি বলতে চাই আওয়ামী লীগকে যারা দেশে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। এই দেশে আওয়ামী লীগের অবস্থান থাকতে পারে না। এবং শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের সকল নেতা কর্মীসহ প্রশাসনের ব্যক্তি, তাদের সবার বিচার হতে হবে।’ কৃতিত্বের দাবিদার একা হওয়ার চেষ্টা করবেন না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টে আমিও রাজপথে ছিলাম। টিয়ার সেলের মুখে। আমাদের ৪৬২ জন ছেলে মারা গেল, ৩০ হাজারের মতো আহত হলো, আমাদের কোনো অবদান নাই? যদি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা না বের হতো, যদি ইসলামী ছাত্রশিবির কিংবা বিএনপি না বের হতো, ছাত্রদল বের না হতো তাহলে কি অবস্থা দাঁড়াতো? সুতরাং কৃতিত্বের দাবিদার একা হওয়ার চেষ্টা করবেন না। ক্ষতি হবে দলের এবং দেশের।’

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘আমাদের দেশটা এখন খুব খারাপ অবস্থায় আছে। আমাদের দেশের জনগণের, জাতির, দলের প্রত্যেকটা মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। যদি বাংলাদেশের জনগণকে বিভক্ত করা যায়, এদেশকে আবারো ভারতীয় আধিপত্যবাদের হাতে চলে যেতে হবে। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মত-বিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু, যে দলই হোক, বিএনপি-জামায়াত, এনসিপিসহ অন্য সকল দলকে জাতীয় স্বার্থে, দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বাংলাদেশী জনগণের একটাই শক্তি রয়েছে, সেটা হলো ঐক্য। সেটা আমরা জুলাই-আগস্টে প্রমাণ করেছি। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে আমরা এদেশকে থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করতে পেরেছি। আমাদের বিপরীত শক্তি আমাদেরকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।’

সোশ্যাল মিডিয়ার একটিভিস্টদেরকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এদের কাজ হলো দেশের মধ্যে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে রাখা। এদের থেকে আমাদেরকে সাবধান থাকতে হবে। জাতির বিবেক এখনো অন্ধ হয়ে যায়নি। দু’একজন লোকের কথায় সব শেষ হয়ে যায়নি। শেষ হয়ে যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের যে নির্বাচন ব্যবস্থা এটা কিন্তু ধসে পড়া। এই নির্বাচন ব্যবস্থাকে ড. ইউনুস ঠিক করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু, নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রকার ধোঁয়াশা সৃষ্টি করা যাবে না। যদিও এখন কিন্তু নির্বাচন নিয়ে একটা ধোঁয়াশা সৃষ্টি হচ্ছে।’

ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগে শফিউর রহমান নামের একজন লোক নিয়োগ হয়েছে। এ তো আওয়ামী লীগের প্রোডাক্ট। আরো আওয়ামী লীগের প্রোডাক্ট কিন্তু আপনার (ড. ইউনূস) ডানে বামে আছে। আপনি একটু ওদের কাছ থেকে সাবধানে থাইকেন। সচিবালয়ের চারজন সচিব, এর বাইরে আরেকজন সচিব মর্যাদায় রয়েছে, এই মোট পাঁচজন এবং আপনার উপদেষ্টা পরিষদের কিছু লোক আপনাকে সঠিক রাস্তায় চলতে দিবে না। আপনার সারা জীবনের অর্জন কিন্তু এরা শেষ করে দিবে। আপনি দয়া করে এদের কাছ থেকে সাবধানে থাকবেন। আমরা আপনার সম্মান রক্ষা করে দেশটাকে সুন্দর করতে চাই। আপনি সফল হলে দেশটা ভালো হবে। আপনার সফলতা আমরা চাই। আপনার সফলতার ওপর নির্ভর করছে আমাদের দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব।’

‘জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এই নির্বাচন কমিশন নির্বাচন দিবেন। ড. ইউনূস বলেছেন নির্বাচন ডিসেম্বর না হলেও জুনের মধ্যে হবে। এই কথাটাই আমাদেরকে একটা বিব্রত অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। একবার বললেন ডিসেম্বর, এরপরে আবার বললেন জুনের কথা। ড. ইউনূস ভোট ডিসেম্বরে বলার পরপরই, অন্য আরেকজন বলে দিলো ভোট জুনে হবে। পরে আপনি (ড. ইউনূস) তাকে ইন্ট্রোডিউস করলেন। এই বিষয়টাকে সন্দেহ করার মতো যথেষ্ট যুক্তি আছে। এই নির্বাচনটা যেন না হয়। আমার মনে হচ্ছে, সম্ভবত নির্বাচন খুব তাড়াতাড়ি ওনারা করবেন না। নির্বাচন শিগগিরই দেয়ার কোনো লক্ষণ আমি দেখি না।’

কয়েকটা দল বলা শুরু করেছে এইটা না হলে নির্বাচন হবে না, ওইটা না হলে নির্বাচন হবে না। যদি এগুলো বলতে থাকে তাহলে নির্বাচন কেমনে হবে! কেউ কেউ আবার বলেই ফেলেছেন যে, আমরা নির্বাচনে যাব না। কয়েক দিন আগে হলে আপনারা নির্বাচনে গেলেই কি আর না গেলেই কি! আপনাদেরকে বাংলাদেশে কে চিনতো! এখন ধমক দেন আপনারা নির্বাচনে যাবেন না। এগুলো করে কোনো লাভ নেই। নির্বাচনটা যথাসময়ে হবে, এটা আমরা আশা করতে পারি। খুব শিগগিরই নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু, আমি আশা করছি নির্বাচনটা হবে।’

‘আমার সম্পর্কে বেশ কিছু কথা ব্লগাররা লিখতেছে। তাদের আজেবাজে লেখা দেখে মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়। এরপর দেখলাম শুধু আমি না, তারা আমাদের ইশরাক, মির্জা ফখরুল, আমীর খসরু, সালাহ উদ্দিন আহমেদ এবং শেষ পর্যন্ত তারেক রহমানকে নিয়েও বলছে। তারা কিন্তু, অন্য কোনো জুনিয়র নেতাদের নিয়ে কিছু বলছে না। শুধুমাত্র বিএনপির মধ্যে যাদেরকে মানুষ পছন্দ করে, এদের বিরুদ্ধে লিখতেছে কয়েকটা লোক। আমি মনে করি, এরা দেশ ও জাতির শত্রু।’

গণতন্ত্র ফোরামের সভাপতি ভিপি ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ওবায়দুর রহমান টিপুর সঞ্চালনায় এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © 2025 The Daily Uttar Kon. All Rights Reserved.
Powered By Konvex Technologies