বিএনপি সিনিয় যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘যারা ১৫ বছর পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনাকে পাহারা দিয়েছে, সেই সুবাদে তারাই ব্যাংক লুট করেছে, অন্যের সম্পদ লুট করেছে, অর্থ পাচার করেছে। গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা ও তার দোসর পালিয়ে গেলেও বাকিরা দেশের অভ্যন্তরে লুকিয়ে রয়েছে। দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করে আসছে। দোসরদের প্রধানের নির্দেশে দেশের ভেতরে থাকা দোসররা পরিকল্পিতভাবে ভাস্কর শিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষের বাড়িতে আগুন দিয়েছে। ‘আজ বুধবার (২৩ এপ্রিল) সকালে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার সদর উপজেলার গড়পাড়া ঘোষের বাড়ি এলাকায় আগুনে পুড়ে যাওয়া ভাস্কর মানবেন্দ্রের বাড়ি পরিদর্শন শেষে প্রেসব্রিফিং কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মেধাবী শিল্পী শুধু শিল্পী সত্ত্বা দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন মানবেন্দ্র। আর সেই কারণেই গ্রামের বাড়িতে টার্গেট করা হয়। তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দোসরদের অনুসারীরা ঘাপটি মেরে আছে বিভিন্ন তৃণমূলে, সমাজের নানা জায়গায়। ওদের কাছে পেট্রোল কিনে বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার যে অর্থ, মানুষকে হত্যা করার জন্য যে অস্ত্র লাগে তার অর্থ তাদের কাছে আছে। সেটাকে দমন করতে আপনাদের (অন্তর্বর্তী সরকার) কি আইন প্রণয়ন করতে সেটা আপনারা জনগণের কাছে খোলাসা করুন। যেহেতু প্রশাসন আপনাদের হাতে।’ বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দোসরদের অনেকেই পালিয়ে গেছে পার্শ্ববর্তী দেশ সহ অনেক দেশে। কিন্তু যারা নৈরাজ্য ছড়াচ্ছে তারা প্রশ্রয় পাচ্ছে কার দ্বারা। প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গের তো এটা জানার কথা। যারা ১৫ বছর যাবত শেখ হাসিনাকে পাহারা দিয়েছে, ব্যাংক লুট করেছে, অন্যের সম্পদ লুট করেছে, টাকা পাচার করেছে তারা আজ এই জনসমুদ্রের ভিতর কোথায় লুকিয়ে আছে অন্তর্বর্তী সরকার যদি খুঁজে বের করতে না পারে তাহলেতো এই সরকারকে মানুষ ব্যর্থ সরকার বলবে।’ এই সরকার নির্বাচন নিয়ে কি তালবাহানা করছে তা আমরা দেখছি। এই সরকার তো গণতন্ত্রকামী সংগ্রামের ফসল। তারতো প্রতিটা ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা থাকতে হবে। জনগণের কাছে জবাবদিহিতা করতে হবে যে মানবেন্দ্র ঘোসের বাড়িতে আগুন লাগলো কি করে। যে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তার চিত্রকর্ম দিয়ে, শৈল্পিক চেতনা দিয়ে সে সেটাকে প্রতিবাদ করেছে। মানবেন্দ্র ঘোষের মতো আরো কত লোক যে সামনে ক্ষতিগ্রস্ত হবে যারা গণতন্ত্রের কথা বলেছে, বহুদলীয় গণতন্ত্রের কথা বলেছে, যারা লড়াই করেছে, গুলির সামনে বুক চেতিয়ে দাঁড়িয়েছে, এখনো যারা ক্ষত বরে বেড়াচ্ছে তারা প্রত্যেকেই আওয়ামী ফ্যাসিস্ট দোসরদের টার্গেটে পরিণত হয়ে আছে। তারা এক-এক করে তাদের উপর আক্রমণ করবে।’ তিনি বলেন, ‘সমস্ত গণতন্ত্রকামী মানুষ আপনাদের (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু কনস্টিটিউশনালি বা আইনগতভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের কোন ভিত্তি নেই। যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে তারা প্রত্যেকেই আপনাদের সমর্থন করেছে, সে অনুযায়ী আপনারা দেশ চালাচ্ছেন। এখন আওয়ামী লীগ কিভাবে রাজনীতি করবে সে দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের। কারণ প্রশাসন আপনাদের হাতে, অন্য সব স্টেট মেশিনারি আপনাদের হাতে। আওয়ামী লীগকে নিয়ে আপনারা কি করবেন সেটা আপনাদেরই ঠিক করতে হবে।’ তিনি বলেন, “অপরাধীদের খুজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।” শিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষ ও তার পরিবারের পাশে বিএনপি রয়েছে। পরে তিনি মানবেন্দ্র ঘোষের পরিবারের হাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের পক্ষে আর্থিক সহায়তা তুলেন দেন। গত ১৫ই এপ্রিল গভীর রাতে,পয়লা বৈশাখে ঢাকায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখাকৃতি বানানোর অভিযোগে মানিকগঞ্জে চিত্র শিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষের বাড়ীতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে তাঁর একটি ঘর পুড়ে যায়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে ৯ জন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে সদর থানা পুলিশ |