1. nobinbogra@gmail.com : Md. Nobirul Islam (Nobin) : Md. Nobirul Islam (Nobin)
  2. bd.momin95@gmail.com : sojibmomin :
  3. bd.momin00@gmail.com : Abdullah Momin : Abdullah Momin
  4. bd.momin@gmail.com : Uttarkon2 : Uttar kon
বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
ভারতের সংসদ শ্রদ্ধা জানালো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে একটি দলের শীর্ষ নেতারা পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে: বিএনপি প্রযুক্তি খাত থেকেই ভবিষ্যৎ রচনা হবে : ড. ইউনূস বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র-মার্কিন রাষ্ট্রদূত সহিংসতা বন্ধ করে কল্যাণের রাজনীতির পক্ষে দাঁড়াতে চাই-ডা: শফিকুর রহমান বগুড়ায় আসছেন তারেক রহমান বইছে উৎসবের আমেজ বগুড়াতে বিএনপির বাহিরে অন্য প্রার্থীকে ভোট দিবেনা মানুষ-ভিপি সাইফুল মোহনপুরে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের একদিনের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত গাবতলীতে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণা ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে ১০৮টির মধ্যে ৭০টি অবৈধ

নাব্যতা সংকটে সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ি নৌ বন্দর

  • সম্পাদনার সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ৯৯ বার প্রদশিত হয়েছে

আমিনুল ইসলাম হিরো, সিরাজগঞ্জ : নাব্যতা সংকটে প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ি নৌ বন্দরে সরাসরি পণ্যবাহি বড় বড় জাহাজ ভিড়তে পাড়ছে না। ফলে ছোট ছোট লাইটার জাহাজে পণ্য আনতে হচ্ছে বন্দরে। উত্তরবঙ্গে কৃষি উপকরণ ও জ্বালানি সরবরাহের প্রাণকেন্দ্র নদীবন্দরটি পর্যাপ্ত সুবিধার অভাবে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ছে। দূর থেকে ছোট জাহাজে পণ্য আনতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় লোকসান গুণতে হচ্ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। সংশ্লিষ্টরা জানান, আশির দশকে শাহজাদপুর উপজেলায় নির্মিত হয় নদী বন্দরটি। প্রথম কয়েক দশক সার, তেল, কয়লাসহ বিভিন্ন পণ্য বোঝাই কার্গো জাহাজের ভিড়ে সরগরম থাকত এই বন্দর। বর্তমানে উত্তরবঙ্গের বৃহত্তর বাঘাবাড়ি নৌবন্দে প্রতিদিন মোংলা, খুলনা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন নৌবন্দর থেকে সার, কয়লা, পাথর, সিমেন্ট, জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে নৌযান আসে এই বন্দরে। তবে শুষ্ক মৌসুমে চরম নাব্যতা-সংকটে পড়ে বন্দরটি। এবারও দেখা দিয়েছে নাব্যতা-সংকট। এ কারণে বড় বড় জাহাজ সরাসরি বন্দরে ভিড়তে পারে না। এতে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ বন্দরের নাব্যতা-সংকট দূর করতে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরকে দ্বিতীয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করার প্রস্তাব করেছে বাঘাবাড়ী নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ। জাহাজের চালক ও ব্যবসায়ীরা জানান, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর থেকে সার, সিমেন্টের কাঁচামাল, কয়লা, পাথর, তেলসহ বিভিন্ন পণ্য জাহাজে করে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে আসে। বড় জাহাজগুলো এ বন্দরে আসতে নদীতে ১০-১২ ফুট পানির গভীরতা প্রয়োজন। অথচ বর্তমানে এই বন্দরের চ্যানেলে রয়েছে ৫ থেকে ৭ ফুট পানি। ফলে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে ভিড়তে না পারা পণ্যবাহী বড় বড় জাহাজ যাচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা যশোরের নওয়াপাড়া ও দৌলতদিয়া, পাটুরিয়া ঘাটসহ বেশ কয়েকটি স্থানে। পরে লাইটার বা ছোট জাহাজে করে পণ্য আনতে হচ্ছে বাঘাবাড়ী বন্দরে। এতে বেড়েছে পরিবহন খরচ। নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন জাহাজের শ্রমিকেরা। এ ছাড়া এই নৌপথের বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর জেগে উঠেছে। পলি জমে সরু হয়েছে নৌ চ্যানেল। যে কারণে জাহাজগুলো অন্য বন্দরে ভিড়ছে। জাহাজের চালক ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত এই নৌ চ্যানেল খননের দাবি জানিয়েছেন। বাঘাবাড়ী নদী বন্দরের শ্রমিক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এক সময় এই ৫০০ থেকে ৬০০ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করতো। বর্তমানে কাজ না থাকায় এখন অনেকেই বন্দর ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকেছেন। এখন ১০০-১৫০ জন শ্রমিক থাকলেও তাদের আয় যথেষ্ট নয়। তবে দ্বিতীয় শ্রেণির বন্দর হওয়ায় প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুম আসলেই চরম নাব্য সংকট দেখা দেয় বন্দরের নৌ চ্যানেলে। এতে পণ্য নিয়ে বড় জাহাজগুলো বন্দরে ভিড়তে পারছে না। ফলে প্রায় ৫০-৬০ কিলোমিটার আগে থেকে ছোট ছোট লাইটার জাহাজে করে পণ্য বন্দরে আনতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় লোকসান হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। মংলা থেকে বন্দরে আসা সিমেন্টবাহী জাহাজের সুকানি আব্দুল আলিম বলেন, বাঘাবাড়ি বন্দরের যে নৌ চ্যানেল রয়েছে সেখানে পর্যাপ্ত গভীরতা না থাকায় বড় জাহাজগুলো সরাসরি বন্দরে আনা যায় না। দূর থেকে ছোট জাহাজে করে পণ্য আনতে হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। নানা দুর্ভোগের শ্রমিক শিকার জাহাজ পরিবহনেও সংকট তৈরি হয়। ছোট জাহাজে খরচ বেড়ে ব্যবসায়ীদের পণ্য আনতে গুনতে হচ্ছে লোকসান।
জাহাজের মাস্টার ইউসুফ মোল্লা বলেন, নাব্যতা-সংকটের জন্য বাঘাবাড়ী বন্দরে ভিড়তে পারছে না জাহাজ। নদীতে ড্রেজিং (খনন) করে গভীরতা বাড়ানো প্রয়োজন। যাতে বড় জাহাজ বাঘাবাড়ী বন্দরে ভিড়তে পারে। এতে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। বাঘাবাড়ীতে সার গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আনসারী জানান, বর্তমানের সার আনা হচ্ছে নওয়াপাড়া বন্দর থেকে। তবে সেগুলোও সময়মতো পৌঁছায় না বলে অভিযোগ করেছেন এই কর্মকর্তা। জেলায় ১০ হাজার ২৮১ টন সারের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে সাত হাজার ৭৩৪ টন সার। শুধু এই সার না, শুষ্ক মৌসুমে বাঘাবাড়ী বন্দরে শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা তেল ডিপোর কর্মকর্তা আবুল ফজল বলেন, স্বাভাবিক সময়ে তেলবাহী জাহাজগুলো অন্তত ১০-১২ লাখ লিটার তেল পরিবহন করে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে নদীপথে ঝুঁকি থাকায় তাদের ৮ থেকে ৯ লাখ লিটার তেল পরিবহন করতে হচ্ছে। বড়াল নদীর চ্যানেলটি উন্নত করা হলে সব ধরনের জাহাজই বন্দরে খালাস করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। নৌযান লেবার অ্যাসোসিয়েশন বাঘাবাড়ী ঘাট শাখার যুগ্ম-সম্পাদক আবদুল ওয়াহাব মাস্টার জানান, উত্তরাঞ্চলের চাহিদার ৯০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও রাসায়নিক সার বাঘাবাড়ী বন্দর থেকে সরবরাহ করা হয়। আবার উত্তরাঞ্চল থেকে বাঘাবাড়ী বন্দরের মাধ্যমে চাল, গমসহ অন্যান্য পণ্য রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। এ নৌপথের বিভিন্ন স্থানে নাব্যতা-সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। যে কারণে বড় জাহাজগুলো সরাসরি বাঘাবাড়ী বন্দরে ভিড়তে পারছে না। বাঘাবাড়ী ঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত (বিআইডব্লিউটি) সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান জানান, বাঘাবাড়ী-আরিচা নৌপথটি দ্বিতীয় শ্রেণির। এই পথে ৭ ফুট পানি থাকলে জাহাজ চলাচল করতে পারে। বর্তমান এই পথে সাড়ে ৯ ফুট পানি রয়েছে। জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু ব্যবসায়ীরা কখনো যদি বড় জাহাজে অতিরিক্ত মালপত্র নিয়ে বাঘাবাড়ী বন্দরে নিয়ে আসতে চাইলে পারে না। বড় জাহাজ চলাচল করে প্রথম শ্রেণির নৌপথে। দ্বিতীয় শ্রেণির নৌপথে প্রথম শ্রেণির জাহাজ আসতে পারে না। তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাঘাবাড়ি বন্দরটি দ্বিতীয় শ্রেণি ছিল। এই বন্দরটিকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করতে একটি মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যা ইতিমধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে,এটি বাস্তবায়ন হলে এই সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © 2025 The Daily Uttar Kon. All Rights Reserved.
Powered By Konvex Technologies