আজ সোমবার ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন চলাকালে গণঅভ্যুত্থানে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত আহত ফটো সাংবাদিক পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক জনাব তারেক রহমান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের বক্তব্য নিয়ে জনগণের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আমরা মনে করি অন্যান্যরাও তাদের বক্তব্য নিয়ে জনগণের সামনে উপস্থিত হবেন। জনগণই ডিসাইড করবে জনগণ কাকে দায়িত্ব দিবে তাদের দেশ পরিচালনা করার। কাজেই এই বিষয়টিতে যত দেরি হবে আমরা মনে করি তাতে সমস্যা বাড়তেই থাকবে। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে ভোটের অধিকারকে নিশ্চিত করতে হবে।’ ভোটের অধিকারের সাথে সাথে ভোট প্রয়োগের অধিকারের উপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘শুধু ভোটের অধিকার নিশ্চিত করলেই চলবে না। একই সাথে ভোট প্রয়োগের অধিকারকে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা যাতে আমাদের ভোটের মাধ্যমে আমার পছন্দের প্রতিনিধিকে বাছাই করে আনতে পারি সেই অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। আমরা যদি এই অধিকার নিশ্চিত করতে পারি তবে পর্যায়ক্রমে মানুষের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারবো।’ পলাতক হাসিনা সরকারের সময় এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের উপর হুমকি চলে এসছিলো বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন,’রাজনৈতিক অধিকারকে খর্ব করে নেওয়ার ফলে স্বৈরাচার যেভাবে বসেছিলো একই ভাবে দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের উপরও হুমকি চলে এসেছিলো। অস্ত্রের জোরেই বলুন, পেশিশক্তির জোরেই বলুন, অন্য কারো আশীর্বাদেই বলুন যারা বিগত ১৫ বছর ক্ষমতাকে ধরে রেখেছিলো, সেই সময় মানুষের অধিকার ছিলোনা সাথে একই সাথে আমরা দেখেছি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে চলে গিয়েছিলো। বিভিন্ন ভাবে আমরা দেখেছি কিভাবে অন্যদেশের উপস্থিত বাংলাদেশের মানুষের অধিকারকে দাবিয়ে রেখে, অন্য দেশের উপস্থিত, অন্য দেশের নাগরিকদের উপস্থিতি আমরা এই দেশে দেখেছি।কিভাবে তারা বাংলাদেশের মানুষের অধিকারকে দাবিয়ে রেখে বাংলাদেশের মানুষের ন্যায্য অধিকারকে দাবিয়ে রেখে তারা তাদের স্বার্থ এখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছে।’ সংস্কারের জন্য একটি পরিকল্পনা দরকার বলে তিনি মনে করেন। এবিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার যেভাবে দেশকে ধ্বংস করে দিয়ে গিয়েছে, দেশের প্রতিটি সেক্টরকে যেভাবে ধ্বংস করে দিয়ে গিয়েছে, প্রতিটি সেক্টরের মেরামত প্রয়োজন। মেরামত করতে হলে একটি পরিকল্পনা প্রয়োজন, একটি গাইডলাইন প্রয়োজন, একটা পলিসি প্রয়োজন। সেটিই আমরা আড়াই বছর আগে আমরা জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছিলাম।একত্রিশ দফার উদ্দেশ্য একটি গনতান্ত্রিক বাংলাদেশ তৈরি করে। জনগণের রাজনৈতিক পাশাপাশি একই সাথে অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করা। অর্থাৎ এখন যারা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার কথা বলছেন এই কথাটি আমরা অনেক আগেই বলেছিলাম।অনেক দিন আগেই মানুষের সামনে তুলে ধরেছিলাম।’ দ্রুত নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা পালিয়ে গিয়েছে তারা বিপুল পরিমাণ সম্পদ পাচার করে নিয়ে গেছে। সেগুলো তারা ষড়যন্ত্রের পেছনে ব্যয় করবে। কাজেই দেশকে যদি একটা স্ট্যাবল সিচুয়েশনের মধ্যে আনতে হয়, দেশকে যদি ঐক্যবদ্ধ ভাবে ধরে রাখতে হয়, দেশকে যদি একটি স্থিতিশীল অবস্থার মধ্যে ধরে রাখতে হয়ে তবে তার দায়িত্ব অবশ্যই জনগণের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। আমরা সব সময় মনে করি এই দেশের মূল মালিক বাংলাদেশের জনগণ। কাজের বাংলাদেশের মানুষের সেই অধিকার আছে এই দেশ নিয়ে কি হবে না হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার। সমগ্র পৃথিবীতে গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা বলতে যা বোঝায় সেটি হচ্ছে নির্বাচন। নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণ তাদের মতামত ব্যক্ত করে থাকেন। নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণ তাদের জবাব দিয়ে থাকে তারা দেশকে কি বলতে চায়, তারা রাজনীতিবিদ সহ সকলকে কি বলতে চায়। নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণ এসব কাজ করে থাকে। জনগণের অধিকারকে যত দ্রুত ফিরিয়ে দিতে পারবো তত দ্রুত আমরা এই দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবো।’ এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহবায়ক আতিকুর রহমান রুমন। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন— ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সম্মানিত প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা, সদস্য সচিব, সদস্য ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।