৭ জানুয়ারি হয়ে গেলো বাংলাদেশের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে বিএনপির পক্ষ থেকে পৃথিবীর ইতিহাসে সব থেকে হাস্যকর, প্রহসন ও অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু। মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে বর্জন করেছেন বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ। সরকারের এই পাতানো নির্বাচনে তারা সমর্থন না করে বিএনপি ও সমমনা দলের নির্বাচন বর্জনের আহ্বানে সারা দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এজন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একইসাথে এই অবৈধ ও ডামি সরকারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিতারিত করে গণতান্ত্রীক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারেক জিয়া।
মিনু বলেন, যেসকল দেশ এই ডামি সরকারকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু ও গ্রহণ বলে বিবৃতি দিয়েছে প্রকৃত সেসকল দেশে কোনো গণতন্ত্র নাই। সেসকল দেশে চলে রাজতন্ত্র বা একনায়কতন্ত্র। এর মধ্যে রাশিয়া অন্যতম।
এছাড়া যেসকল পর্যটক নির্বাচনকে গ্রহনযোগ্য বলে আখ্যায়িত করে বিবৃতি দিয়েছেন তারা ওই সকল দেশেরই পর্যবেক্ষক। আর আমেরিকা, ইউরোপিন ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাননি। যারা বাংলাদেশে এসেছেন তারা নিজ দায়িত্বে এসেছেন বলে জানান তিনি। আর ওই সকল পর্যটকের বিবৃতি তাদের নিজের, দেশের নয় স্ব স্ব দেশ জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মিনু আরো বলেন, এই ডামি নির্বাচনে জনগণ কেউ ভোট কেন্দ্রে যায়নি। দেশের প্রতিটি ভোটকেন্দ্র একই অবস্থা ছিল। যেখানে এই নির্বাচনে ১০-১২ ভাগ ভোটও পরেনি, সেখানে আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন প্রায় ৪২ বা (৪১ দশমকি ৮) পার্সেন্ট ভোট কাস্ট হয়েছে বলে মিথ্যাচার করেছেন।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন দেশবাসী মানে না। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণকে এই বাকশাল সরকারের কবল থেকে রক্ষা করতে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছেন।
বিএনপি ও সমমনা দলগুলো প্রহসনের ও এক তরফা এবং শেয়ালের রুটি ভাগাভাগীর নির্বাচন বলে তা বর্জনের জন্য দেশবাসীর প্রতি যে আহ্বান জানিয়েছিলেন। জনগণ তা পালন করায় তিনি আবারও সকলকে বিএনপির এবং রাজশাহী বিএনপির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে কঠোর আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার জন্য দেশবাসীসহ রাজশাহীবাসীকে আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্য শেষে তিনি উপস্থিত সকল নেতাকর্মী ও মমর্থকদের নিয়ে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা লিফলেট বিতরণ এবং সেইসাথে মালোপাড়াস্থ বিএনপি দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে লিফলেট বিতরণ ও শুভেচ্ছা মিছিল করেন। মিছিল নিয়ে তারা সাহেববাজার জিরো পয়েন্টসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাটার মোড়ে এসে শেষ করেন। সেখানে সভাপতির বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে শুভেচ্ছা লিফলেট বিতরণ সমাপ্ত করেন।
রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে বিএনপি রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশার সভাপতিত্বে বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ-বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও রাসিক সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট তোফাজ্জাল হোসেন তপু, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল হুদা, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক বিশ্বনাথ সরকার, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুন অর রশিদ মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন, শফিকুল হক শাফিক, বজলুল হক মন্টু, জেলা বিএনপির সদস্য রায়হানুল আলম রায়হান ও গোলাম মোস্তফা মামুন, মহানগর বিএনপির সদস্য আলাউদ্দিন ও গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম।
আরো উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম কুসুম, রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন রিমন, বর্তমান আহ্বায়ক মীর খালেদ, সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান জনি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান লিটন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরফিন কনক, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনন্দ কুমার মন্ডল, কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটি রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী জেলা কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক আল-আমিন সরকার টিটু ও জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক শফিকুল আলম সমাপ্ত।
এছাড়া জিয়া পরিষদ রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক প্রফেসর আকতার, রাজশাহী মহানগর মহিলা দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট রওশন আরা পপি, সাধারণ সম্পাদক অ্যধ্যাপিকা সকিনা খাতুন, নারী নেত্রী অ্যাডভোকেট সিফাত আরা তুলি, জরিনা, ডেইজ ও লাবনী, মহানগর তাঁতী দলের আহ্বায়ক আরিফুল শেখ বনি ও রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি আকবর আলী জ্যাকিসহ রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।