আজাদুল ইসলাম, মহাদেবপুর (নওগাঁ) সংবাদদাতা ঃ বিশাল ধানের স্তুপ দেখে কেউ ভাবতেই পারবেন না এটি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরের একটি ব্যস্ত সড়ক। অথচ উপজেলা সদরের পশ্চিম গেটের পাশের এই ব্যস্ত সড়কটিতেই দীর্ঘদিন ধরে বসছে ধানের হাট। এতে জন দুর্ভোগ চরম হয়ে উঠেছে। বছরের পর বছর এ অবস্থা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপ কোন উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ হাটটি থেকে প্রতি বছর প্রায় কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও দীর্ঘ দিনেও হাটের জন্য নিজস্ব একটি জায়গার ব্যবস্থা করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। বিপুল পরিমান রাজস্ব আদায় হলেও হাটের উন্নয়ন না হওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা ও উদাসীনতাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। শুধু উপজেলা গেটের সামনের রাস্তাটিই নয় উপজেলা সদরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে শহরের শিবগঞ্জ মোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার বাইপাস সড়কেও সপ্তাহের প্রতি বুধবার ও শনিবার বসছে বিভিন্ন পণ্যের হাট। এই বাইপাস সড়ক দিয়ে নিয়ামতপুর ও পোরশা উপজেলার বাসিন্দাদের জেলা শহরে যাতায়াত করতে হয়। এ সড়কের পাশেই অবস্থিত মহাদেবপুর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়। শহরের কুঞ্জবন এলাকায় আত্রাই নদীর ওপর নতুন সেতু হওয়ার পর সড়কটি প্রশস্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের বক চত্বর মোড় থেকে পোস্ট অফিস মোড় এলাকা পর্যন্ত অস্থায়ী খুচরা ও পাইকারি বাজার বসছে। আর হাট বসছে সপ্তাহের শনি ও বুধবার। হাটের দিন শহরের বক চত্বর মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত সড়কের ওপর প্রায় ৪০০ মিটারে চলে ধান কেনা-বেচা। সড়কের ওপর আড়ত বসিয়ে ধান কেনা-বেচা করেন ব্যবসায়ীরা। হাটের দিনগুলোতে যানজট এতটাই তীব্র হয় যে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রী ও পথচারীদের। স্থানীয় সর্বমঙ্গলা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজসহ কয়েকটি শিা প্রতিষ্ঠানের শিার্থীদের এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। গতকাল বুধবার সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদের প্রধান গেট থেকে বক চত্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে চলছে ধান কেনা-বেচা। ধান কিনে রাস্তার ওপরই স্তূপ করে রাখা হয়েছে। সড়কের মাঝখানেই ট্রাক দাঁড় করিয়ে স্তূপ থেকে ট্রাকে ধান লোড করা হচ্ছে। বক চত্বর মোড় থেকে পোস্ট অফিস মোড় সড়কের দুই পাশে দোকান বসিয়ে ডাব, নারিকেল, কলা, কাঁচা তরকারিসহ বিভিন্ন পণ্য কেনাবেচা করা হচ্ছে। এতে সড়কটি সংকুচিত হয়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা সদরের বাসিন্দা ছাইদুর রহমান বলেন, ‘আগে সড়কটি বাইপাস সড়ক হিসেবে ব্যবহার হতো। তখন সড়কটি দিয়ে মানুষের চলাচল কম হতো। সড়কের ওপর ধানের আড়ত ও বাজার বসলেও সমস্যা হতো না। এখন এটি প্রধান সড়কে পরিণত হয়েছে। এখন যান ও পথচারী চলাচল অনেক বেড়ে গেছে। চকরাজা গ্রামের আনিছুর রহমান বলেন, হাটের দিন পথচারী ও স্কুল,কলেজগামী ছাত্রী-ছাত্রীদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তিনি জনস্বার্থে অবিলম্বে এ হাট সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবী জানান। এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি), রিফাত আরার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সড়কে হাট বসানো ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝেই মোবাইল কোর্টে পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাটের জন্য বিকল্প জায়গা খোঁজা হচ্ছে। জায়গা পেলেই এ সমস্যার সমাধান হবে বলেও তিনি জানান।