মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: রাজশাহীতে নাবিল গ্রুপের ডাল ঢাকার সাভারে পৌঁছানোর কথা বলে আত্মসাৎ এর ঘটনায় কভার্ড ভ্যানসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৬ অক্টোবর) রাত সোয়া ২টায় ঢাকার মহানগরীর শিল্পনগর থানার তেজগাঁও এলাকায় একটি ওয়ার্কসপ হতে আসামি মোঃ সাইফুল ইসলাম কার্ভাড ভ্যানসহ গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যমতে অপর আসামি কবিরকে ঐ দিন সকাল সাড়ে ১০টায় লীপুর জেলার রামগঞ্জ থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করো হয়।
বুধবার (১৮ অক্টোবর) বিকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আরএমপি’র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোঃ জামিরুল ইসলাম।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন: মোঃ সাইফুল ইসলাম শুভ(২৪) ও মোঃ কবির হোসেন (৪২)। সাইফুল ইসলাম বরিশাল জেলার সদর থানার দুর্গাপুরের মোঃ আব্দুর রউফ ব্যাপারীর ছেলে ও কবির হোসেন লীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার উত্তর বার্টরার মৃত মোবারকের ছেলে।
অভিযান পরিচালনা করেন আরএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (শাহ্মখদুম) মোঃ নূর আলম সিদ্দিকীর তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এ.এইচ.এম আসাদ হোসেনের নির্দেশনায়, সহকারী পুলিশ কমিশনার শারমিন আকতার চুমকি’র নেতৃত্বে পবা থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোঃ মোবারক পারভেজ, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ আশিক ইকবাল, এসআই মোঃ সাহাবুল ইসলাম, সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার উৎপল কুমার চৌধুরী পিপিএম ও সঙ্গীয় ফোর্স।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহী মহানগরীর পবা থানা এলাকার নাবিল গ্রুপ তাদের পণ্য মসুর ডাল সাভার, ঢাকায় পৌঁছানোর জন্য একটি কভার্ড ভ্যান ভাড়া করে। দুপুর পোনে ২টায় আসামি চালক সাইফুল ইসলাম কভার্ড ভ্যান নিয়ে ভেড়াপোড়ায় নাবিল গ্রুপের অফিসে আসে। সেখানে ট্রান্সপোর্ট অফিসার জাহাঙ্গীরের সঙ্গে সে দেখা করে ডাল বুঝিয়ে দিতে বলে। আসামি সাইফুল এর আগেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালামাল নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছিয়ে দিয়েছে বলে ট্রান্সপোর্ট অফিসারকে আশ্বস্ত করে। ট্রান্সপোর্ট অফিসার জাহাঙ্গীর আসামি সাইফুলের কথায় বিশ্বাস করে তার কভার্ড ভ্যানে ৫৬০ বস্তা মসুর ডাল দিয়ে তাকে চালান ও গেট পাশ প্রদান করে। আসামি সাইফুল ইসলাম পরের দিন সকাল পোনে ১২টায় সেখান হতে সভারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রাতের মধ্যেই সাভারের একটি প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর কথা ছিলো। কিন্তু সভারের ঐ প্রতিষ্ঠান থেকে নাবিল গ্রুপের ডিস্ট্রিবিউশন অফিসারকে জানায় ডালের কভার্ড ভ্যান এখনো পৌঁছাইনি। তখন আসামি সাইফুলের সাথে যোগাযোগ করলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। নাবিল গ্রুপের অ্যাডমিন অফিসার মোঃ মাসুদ রানার উক্ত অভিযোগের পরিপ্রেেিত পবা থানায় একটি মামলা রুজু হয়।
পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় আসামির হেফাজত হতে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত ৫০ কেজি ডাল উদ্ধার হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামি সাইফুল ইসলাম নিজেকে মতি মিয়া পরিচয় দিয়ে কাভার্ডভ্যানের নাম্বার প্লেট পরিবর্তন করে ডাল আত্মসাৎ করে। এরপর নাবিলের চালান পরিবর্তন করে ভুয়া ডিলার সাজিয়ে ডালগুলো বিক্রি করে। তারা পেশাদার অপরাধী, বিভিন্ন জেলা হতে বিশেষ কায়দায় সংগঠিত হয়ে এই চক্রটি এই ধরনের অপরাধ করে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। অবশিষ্ট ডাল ও সহযোগি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) পবা থানা পুলিশ আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করলে আসামিরা দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।