রাতুল সরকার, রাজশাহী: রাজশাহী মহানগরীতে উঠতি মোটরবাইকারদের দৌরাত্ম্য কিছুতেই থামছে না। বেপরোয়া গতিতে পুরো নগরী দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। বিশেষ করে নগরীর নতুন সড়কগুলোতে তাদেও দৌরাত্ম্য কিছুতেই থামছে না। মানছেন না ট্রাফিক আইন। ট্রাফিক পুলিশও তাদের নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, উঠতি বয়সের ছেলেরা তাদের বাবা মায়ের কাছে বাইক কেনার জন্য বায়না ধরলে তাদের শখের বশবতী হয়ে অনেক বাবারা তাদের হাতে বাইক তুলে দিচ্ছেন। এতে বেকার ওই যুবকরা হচ্ছেন বিপথগামী। কেউ কেউ গড়ে তুলেছেন কিশোর গ্যাং। ফলে নগরীতে বাড়ছে অপরাধকর্ম। এসব তরুণের অধিকাংশই প্রভাবশালী মহলের সন্তান। কেউ কেউ মতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মী। বেশির ভাগ মোটরবাইকের নেই রেজিস্ট্রেশন। কারও কারও নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। তাদের বেপরোয়া চলাচলে আতঙ্কে থাকেন পথচারীরা। বেপরোয়া গতিতে বাইক চালনার কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা।
পুলিশ বলছে, নিয়ন্ত্রণহীন গতিতে যানবাহন চালানো এবং অদ চালকের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উঠতি যুবকরা নগরীর নতুন নতুন সড়কগুলো ব্যবহার করছে। যেমন, রুয়েট অক্ট্রোয় মোড় ফাইওভাব সড়ক, বিমান চত্বর হয়ে চৌদ্দপায়া সড়ক, সিটি হাট সড়কে বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত প্রতিযোগিতা করে বাইক চালায়।
নগর ট্রাফিক পুলিশ জানায়, নিয়মতিভাবে মোটরবাইকের রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেমলেট না থাকায় মামলা হচ্ছে।
নগরীর অক্ট্রোয় মোড়ের দোকানদার মন্টু, রনি, বাপ্পিসহ কয়েকজন বলেন, যারা বেপরোয়া বাইক চালান তাদের অনেকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। কারও মাথায় নেই হেলমেট। পথচারী জাহাঙ্গির, মামুন ও রাহিদ বলেন, বেপরোয়াভাবে মোটরবাইক চালানো দেখলে রাস্তায় বের হতে ভয় হয়। এদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় এদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলবে। তাদের দ্বারা ঘটবে দুর্ঘটনা। সচেতন মহল বলছে, তরুণরা এমনভাবে গাড়ি চালান যা দেখে অনেকেই হতবাক। প্রতিদিনই নগরীর কোথাও না কোথাও এদের জন্য দুর্ঘটনা ঘটছেই।
সম্প্রতি রাজশাহী মহানগরীতে বেশ কয়েকটি মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় চালক, আরোহী এবং পথচারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত যেসব মোটর সাইকেল দুর্ঘটনা ঘটছে তার বেশির ভাগই কিশোর বাইক চালক।
এ ব্যাপারে রাজশাহী মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ জানান, বিশেষ করে চালক এবং আরোহীদের হেলমেট ব্যবহার করতে হবে এবং নিজেদের সচেতন হয়ে বাইক চালাতে হবে। পাশাপাশি ট্রফিক বিভাগ এব্যাপারে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করছে। চালকদের হেলমেট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্ট জানান, যানজটের ভিতর দিয়েও ট্রাফিক নিয়ম না মেনে বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালায় উঠতি বয়সের যুবকরা।তিনি বলেন, ‘নানাভাবে অভিযান চালিয়েও এদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। অভিযানে বাইক আটকালে কোনো না কোনোভাবে তদবির আসেই। অনেকটা বাধ্য হয়ে ছেড়ে দিতে হয়।’