মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: শুধু ফুটপাত নয়, দখল হয়েছে সড়কের অংশ। এমন অবস্থা রাজশাহী নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে। ফলে সড়কে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। এই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে চলাচলরত রিক্সা, অটোরিক্সা, মোটরসাইকেলসহ সকল যানবাহনের। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর ফুটপাতে ব্যবসায়ীদের দোকানের কারণে বাধ্য হয়ে মানুষকে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ফলে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফুটপাত দখল করে হকাররা বসিয়েছেন দোকান। হকারদের পাশাপাশি সড়কের পাশের দোকান মালিকরাও নিজেদের পণ্য সাজিয়ে রেখেছেন ফুটপাতে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে ফুটপাত। এ নিয়ে কথা বলতে গেলেই হকারদের দুব্যবহারের শিকার হন পথচারীরা। শুধু তাই নয়, ফুটপাতের এসব দোকানগুলোর সামনে রিক্সা বা মোটরসাইকেল রাখা নিয়ে বাকবিতান্ডার মতো ঘটনা ঘটে। নগরী ঘুরে দেখা গেছে, তালাইমারি, ভদ্রা, আলুপট্টি, কুমারপাড়া, সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট, মনিচত্বর, গণকপাড়া, লক্ষ্মীপুর, রেলগেট, কোর্ট স্টেশন ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কের পাশের ফুটপাতে গড়ে উঠেছে। সেখানে বিভিন্ন পণ্যের ভ্রাম্যমাণ দোকান দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। এরমধ্যে নগরীর ভদ্রা থেকে শুভ তেল পাম্প পর্যন্ত সড়কের একপাশের পুরো ফুটপাত দখল করেছে ভাঙ্গাড়ি ব্যবসায়ীরা। এই ব্যবসায়ীরা রিতিমতো তাদের মালামাল ফুটপাতের উপরে সাজিয়ে রেখেন। এছাড়া সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট, মনিচত্বর, গণকপাড়ার সড়কের দুপাশের ফুটপাত দখল করে দোকান দেওয়া হয়েছে। শুদু তাই নয়, এই এলাকায় সড়কের ধারে ভ্রামম্যাণ দোকান পেতে বসেছে ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন পণ্য বিক্রির জন্য দিনভর থাকে দোকানগুলো। পথচারী আব্দুর রহমান বলেন, মানুষের হাঁটার জন্য আর ফুটপাত নেই। সব গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে। ফুটপাত ধরে চরাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। ফুটপাত দিয়ে হাঁটা যায় না। সড়ক দিয়ে হাঁটতে মানা। এছাড়া সড়ক দিয়ে হাটায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। উপাই নেই ফুটপাতের উপরের বিভিন্ন দোকানের ফাঁক-ফকর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনকে উদ্যাগ নিতে হবে। নগরীর বাসিন্দা মোহাম্মদ ফারুক আলী বলেন, সিটি করপোরেশন চাইলে ফুটপাত দখলমুক্ত করে দিতে পারে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না। এখনও সিটি মেয়র আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। হয়তো দায়িত্বগ্রহণ করলে ফুটপাত দখল মুক্ত হবে। আবার হঠাৎ করে এই ছোট ব্যবসায়ীদের তুলে দিলে তারা আর্থিক তির মুখে পড়বে। তাই ফুটপাতের এই ব্যবসায়ীদের সিটি করপোরেশনের প থেকে নির্দিষ্ট জায়গা করে দেওয়া উচিত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, তাদের ছোট ব্যবসা। কোনমতে সংসার চলে। দোকান ভাড়া নেওয়ার মতো টাকা নেয় তাদের। এছাড়া তাদের ব্যবসা ফুটপাতকেন্দ্রিক। ফুটপাতের এসব দোকানগুলো থেকে মানুষ অল্প দামে জিসিন কেনে। তারা জানান, তাদের দোকানের কারণে পথচারীদের সমস্যা হচ্ছে। তবুও পেটের তাগিদে ফুটপাতে ব্যবসা করতে হচ্ছে তাদের। নাম প্রকাশন না করা শর্তে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচন হয়েছে। নতুন পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণ হয়নি। সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন দায়িত্ব নিলে বিষয়টি দেখবেন।