বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক খেলার মাঠ বানিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, তাদের কারণে বাংলাদেশের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। শুক্রবার (২৩ জুন) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এখন দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য কামনায় এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিইঅ্যাব) ঢাকা জেলা শাখা।
রিজভী বলেন, ‘গোটা দেশকে আন্তর্জাতিক খেলাধুলার মাঠ বানিয়েছেন এই অবৈধ সরকার। অটুট সার্বভৌমত্বের দিশারী ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি দেশের সার্বভৌমত্বকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। কোনো দেশ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো টু শব্দ করতে পারতো না। কিন্তু আজকে বর্তমান সরকারের কারণে বাংলাদেশের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। এ সরকারের কারণে বাংলাদেশ নিয়ে অন্যরা কথা বলতে পারছে।’
তিনি বলেন, ‘এ সরকার দিনের ভোট রাতে করে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। ভোট চুরি নয়, ভোট ছিনতাই করে জোর করে ক্ষমতা দখল করে রেখেছে। জনগণ তো এখন ভোট দিতে যায় না। অথচ সরকারের তল্পিবাহক নির্বাচন কমিশন বলে যে, ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। কিন্তু জনগণ এটা বিশ্বাস করে না। কারণ নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা এমন বলেন চাকরি রক্ষার জন্য।’
‘চুরি করা জিনিস উদ্ধার করা যায়। কিন্তু ভোট তো আত্মসাৎ করে গণভবনে বন্দী রেখেছে। এখন আওয়ামী লীগ সরকারকে জোরে ধাক্কা দিয়ে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে,’ বলেন রিজভী।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উনি কারো কাছে মাথানত করবেন না, কাউকে পাত্তা দেন না। তিনি সেন্টমার্টিন দেন নাই বলে ক্ষমতায় না থাকার সংশয় প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এসব পরিস্থিতির জন্য কি তিনি দায়ী নন? আপনি গণতন্ত্রের ভোটকে ছিনতাই করেছেন। গণতান্ত্রিক অধিকার যে স্বাধীনভাবে ভোট দেয়া- সেটিকে নির্বাসনে পাঠিয়েছেন- এটা কি অসত্য কথা?’
রিজভী বলেন, ‘জনগণের অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে উন্নয়নের ইন্দ্রজাল তৈরি করেছে সরকার। তাদের লোকজনই বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করেছে। অনেকেই বলছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতি হলে ক্ষমতাসীনদের অনেকেই ধরা পড়ে যাবে, সেজন্যই তারা টাকা সরিয়ে ফেলছে।’
‘যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসে থেকে জনগণের টাকা লুটপাট করেছে তাদের বিচার এই দেশেই হবে,’ বলেন রিজভী।
রিজভী বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সারাজীবন গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণকে সাথে নিয়ে কাজ করেছেন। আজকে তাকে কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে। তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ হচ্ছে কসাই। আমাদের প্রত্যেকটি নেতাকর্মী নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়েছে। তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তার পরিবর্তে তারই সুযোগ্য সন্তান দেশনায়ক তারেক রহমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আমরা তার নেতৃত্বে ইনশাআল্লাহ এগিয়ে যাবো।’
এসময় যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সহ-সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর, বর্তমান সেক্রেটারি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, গোলাম মাওলা শাহিন, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুসহ আটক সকল নেতাকর্মীর দ্রুত সময়ের মধ্যে মুক্তি দাবি করেন রিজভী।
সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এইচ এম আমিনুর রহমান আমিনের সভাপতিত্বে ও প্রকৌশলী মো: জুয়েল রানার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হক, হাফেজ মাসুম বিল্লাহ, মৎস্যজীবী দলের মো: আবদুর রহিম, তাঁতী দলের খন্দকার হেলাল উদ্দিন, সিলেট জেলা বিএনপির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সহ-সম্পাদক তামিম ইয়াহিয়া আহমদ প্রমুখ।