মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: রাজশাহীর পবায় দারুসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও নার্সদের বিরুদ্ধে ভোগান্তি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পবার দারুসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরে অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন। নার্সদের দেখা যায় জরুরী বিভাগ (জনবান্ধব জরুরী স্বাস্থ্যসেবা) নামক একটি কক্ষে বসে একসাথে গল্প করতে অথচ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে আয়াদের দিয়ে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্য বিশিষ্ট হওয়ায় অনেক রোগীদের বারান্দায় অবস্থান করতে হয় কিন্তু সেখানেও প্রচুর নোংরা আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভুক্তভোগী মোসা: আয়েশা খাতুন নামের এক রোগী জানায়, তিনি গত ১২ জুন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। কোন বেড না পাওয়ায় বারান্দায় অবস্থান করতে হয়, কিন্তু এই বারান্দাটি খুবই অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় আছে। বিষয়টি নার্স ও আয়াদের অবগত করলে তারা আমাদের সাথে খারাপ আচারণ করেন। সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় এখানে স্যালাইন, গ্যাসের ট্যাবলেট, নাপার মতো সাধারণ ঔষধগুলো পাওয়ার কথা থাকলেও তারা আমাদের কোন ঔষধ এখন পর্যন্ত দেননি। সকল প্রকার ঔষধ আমাদের বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়।
তিনি আরও বলেন, আজ সকালে রাউন্ডে ডাক্তার তানজিমা ফারহানা আসলে, তিনি স্যালাইন দেওয়ার কথা নার্সদের বলে চলে যান। কিন্তু নার্সরা স্যালাইন না দিয়ে সাবিয়া নামের এক আয়া’র মাধ্যেমে আমাকে স্যালাইন দেওয়ায়।
অপর এক ভুক্তভোগীর পিতা মো: সাহাবুল ইসলাম জানায়, গত ১১ জুন রাত ৯টায় আমার মেয়েকে নিয়ে জরুরি বিভাগে এসে দেখি ডাক্তার নেই। আমার মেয়ে পেটের ব্যাথায় কান্নাকাটি ও ছটপট করছিল, প্রায় ১ ঘন্টা অপেক্ষা করি। তারপর আমি মেয়ের কান্না সহ্য করতে না পেরে দ্বিতীয় তলায় গিয়ে ডাক্তারকে ডাকাডাকি করার পর তিনি জরুরি বিভাগে আসেন। তারপর আমার মেয়েকে দেখে কিছু ঔষধ লিখে দেয় এবং ভর্তি নেয়। সরকারি হাসপাতাল হওয়ার পর আমি কোন ওষধ পাইনি, পেয়েছি শুধু একটি মাত্র স্যালাইন। তাও এই স্যালাইনটি কোন নার্স আমার মেয়েকে না দিয়ে, অদক্ষ আয়া আমার মেয়েকে বার বার সুঁই ফুটিয়ে অত্যান্ত কষ্ট দিয়ে স্যালাইন দিয়ে দেয়।
এই বিষয়ে নার্সদের জানতে চাইলে, তারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের সাথে কথা বলে। তাছাড়া কোন বিষয়ে তাদের ডাকলে তারা অত্যান্ত ক্ষিপ্ত হয়ে “বল্লাম না আসছি” এমন ভাবে বাজে ব্যবহার করে। আমার প্রশ্ন সরকারি হাসপাতালে সাধারণত প্রাথমিক চিকিৎসার ঔষধগুলো থাকে, সেইসব ঔষধগুলো কই?
মঙ্গলবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বারান্দা বেশ অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে। রোগীরা বেড না পেয়ে বারান্দায় অবস্থানকালে সেখানেও চোখে পড়ে নোংরা আর্বজনা। এতে অস্বস্তি রয়েছে রোগীরা।
তাছাড়া সাবেয়া (৬০) নামের এক আয়াকে দেখা যায়, রোগীদের স্যালাইন দিচ্ছেন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নার্সরা তাকে বলেছে।
এ বিষয়ে নার্স স্টেশনে গেলে দেখা যায়, কোন নার্সের নেমপ্লেট ব্যাচ নেয়। দায়িত্বরত নার্সের নাম জানতে চাইলে তারা নাম বলতে চায় না। আবার আয়ার বিষয়ে জানতে চাইলেও তারা কোন উত্তর দেন না। তিনি পরিচালক ডা: রাবেয়া বসরীর সাথে কথা বলতে বলেন।
তারপরে জরুরী বিভাগ (জন বান্ধব জরুরী স্বাস্থ্যসেবা) এর রুম বন্ধ দেখে নক করলে দরজা খোলার পর দেখা যায় ৬জন নার্স একত্রে গল্প গুজব ও আড্ডায় মত্তো আছেন। দরজা লাগিয়ে এইভাবে বসে থাকার কারণ জানতে চাইলে, তারা দূব্যবহার করে। সাংবাদিক পরিচয় দিলে তারা কোন উত্তর না দিয়ে পরিচালকের সাথে কথা বলার জন্য বলে।
বেলা সাড়ে ১২টায় পরিচালক ডাঃ রাবেয়া বসরী’র কক্ষে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে অফিস সহকারী নূর নবী বলেন, তিনি অফিসে নেই। তিনি কখন হাসপাতালে আসেন জানতে চাওয়া হলে, তিনি বলেন- আজকে সকালে তিনি আসেননি তবে সাধারণত সকাল ৯টায় হাসপাতালে আসেন।
পরিচালক ডাঃ রাবেয়া বসরী’র মোবাইল নাম্বারে কথা বলা হলে তিনি জানান, উপজেলায় জরুরি মিটিং থাকায় আজকে হাসপাতালে আসতে পারিনি। এরপর জরুরি বিভাগে ডাক্তার অনুউপস্থিত থাকার বিষয়ে জানালে তিনি বলেন. না তো, আমি সকাল ৯টায় আমি ডা: মিথিলাকে জরুরি বিভাগের দায়িত্ব দিয়েছিলাম। তিনি এখন বর্তমানে দায়িত্বরত আছেন।
তবে সাধারণত সকাল ৯টায় হাসপাতালে আসি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, নার্সদের দূব্যবহার, রোগীদের প্রর্যাপ্ত ঔষধ সরবরাহ করতে না পারা, জরুরি বিভাগে ডাক্তার সময়মত উপস্থিত না থাকার বিষয়ে জানালে তিনি বলেন, এর আগে তিনি এমন কোন অভিযোগ পায়নি। তবে অভিযোগের বিষয়গুলো আমি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিব বলেও জানান তিনি।
কিন্তু জরুরি বিভাগে গেলে ডাঃ মিথিলা নামের কাউকে পাওয়া যায়নি বরং রাউন্ডে দায়িত্বরত ডা: তানজিমা ফারহানা’র কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, জরুরি বিভাগের দায়িত্ব তিনি আছেন। তবে কতৃপক্ষ আমাকে রাউন্ডে যাওয়ার জন্য দায়িত্ব দেন।