1. nobinbogra@gmail.com : Md. Nobirul Islam (Nobin) : Md. Nobirul Islam (Nobin)
  2. bd.momin95@gmail.com : sojibmomin :
  3. bd.momin00@gmail.com : Abdullah Momin : Abdullah Momin
  4. bd.momin@gmail.com : Uttarkon2 : Uttar kon
বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
আমরা ক্ষমতায় গেলে রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নকাজ, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করব- তারেক রহমান প্রয়োজনে জীবন দেব, তবু জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে দেব না-জামায়াত আমির সান্তাহারে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি যুব রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ হজরত শাহ মখদুম (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করলেন তারেক রহমান ভারতের সংসদ শ্রদ্ধা জানালো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে একটি দলের শীর্ষ নেতারা পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে: বিএনপি প্রযুক্তি খাত থেকেই ভবিষ্যৎ রচনা হবে : ড. ইউনূস বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র-মার্কিন রাষ্ট্রদূত সহিংসতা বন্ধ করে কল্যাণের রাজনীতির পক্ষে দাঁড়াতে চাই-ডা: শফিকুর রহমান বগুড়ায় আসছেন তারেক রহমান বইছে উৎসবের আমেজ

কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে পাঁচবিবিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা

  • সম্পাদনার সময় : বুধবার, ১৪ জুন, ২০২৩
  • ১৯৮ বার প্রদশিত হয়েছে

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) সংবাদদাতাঃ কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে টুং টাং শব্দে দা, বটি, ছুরিসহ মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা । এসব সরঞ্জাম নতুনভাবে তৈরি এবং পুরনোগুলোতে শান দিতে ব্যস্ত তারা। ঈদের দিন পর্যন্ত চলবে এমন কর্মব্যস্ততা। তবে কয়লা, লোহাসহ সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ নেই আর এ ব্যবসায়। কিন্তু পূর্ব পুরুষের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান।
বছরের অন্যান্য দিন গুলোতে তেমন কাজ না থাকায় অলস সময় কাটাতে হলেও কোরবানির ঈদের সময়টাতে তাদের কর্ম ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এ সময়টাতে তাই প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করতে হয় তাদের। প্রতিবছর কোরবানির ঈদে তাদের জিনিসপত্রের কেনা-বেচা বেড়ে যায়। এ থেকে অর্জিত টাকায় সারা বছরের খোরাক জোগাড় করেন।
একসময় সকালে ঘুম থেকে উঠলেই কামারপড়ায় শোনা যেত কামারশালার টুং-টাং শব্দ, যা এখন শুধুই স্মৃতি। কেননা, তাদের তৈরি তৈজসপত্রের স্থান দখল করেছে বিভিন্ন আধুনিক ওয়ার্কশপে যন্ত্র দ্বারা তৈরি হওয়া রেডিমেড দা, বটি , কাস্তে সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। একটা সময় গরু, মহিষ ও ঘোড়ার গাড়ির নতুন চাকায় লোহার হাল (লোহার বেড়) তুলত কর্মকাররা, কিন্তু গরু, মহিষ ও ঘোড়ার গাড়ি বিলুপ্ত হওয়ায় আজ তারা বঞ্চিত।
পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা গ্রামের মহিত কর্মকার ও সুব্রত কর্মকার জানায়, এখন ব্যবসায় মন্দা চলছে। কোরবানী ব্যতিত বছরের অনান্য মাসগুলোতে আমারা কোনমতে দিন পার করছি। বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নেওয়ায় ঋণ পরিশোধে আমাদের হিমশিত খেতে হচ্ছে। একারণে অনেকেই পেশা বদলিয়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়েছে।¬
একই এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি যিনি কামার শিল্পের সাথে জড়িত কৃষ্ণ কর্মকার বলেন, এলাকায় কাজ কম হওয়ায় জিবীকার তাগিদে অনেক বছর পূর্বে আমি ঢাকায় গিয়ে কামার এর কাজ করতাম। কিন্তু সেখানেও ব্যবসা কম হওয়ায় ঘর ভাড়া ও থাকা খাওয়া সব মিলিয়ে না পোষানোয় এলাকায় চলে আসি।
পাঁচবিবির লাঙ্গল হাটে ফনি কর্মকার। যিনি তার দক্ষ হাতে দা-ছুড়ি নির্মাণের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পরে তার এক ছেলে রয়েছে সে এই ব্যবসা আর করে না।
ধরঞ্জী ইউনিয়নের রতনপুর বাজারে কাজ করতে আসা অমল কর্মকার বলেন, এখানে ছোট্ট একটি জায়গা নিয়ে কার্মকার ব্যবসা চালাই। প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার ও সোমবার দুটি হাট বসে । পূর্বে ইরি ও আমন মৌসুমে এই এলাকায় ধান কাটার জন্য কাস্তে ও আষাঢ় শ্রাবণ মাসে পাট কাটার জন্য বড় বড় হাসুয়া তৈরির বায়না পেতাম। এখন হাটে বাজারে লোকের তেমন সমাগম নেই। ফলে খুব কষ্টে দিন যাপন করছি। এনজিওর ঋণের কিস্তির টাকাও জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছি। ফলে ছেলে মেয়ে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হয়। তিনি আরও বলেন, পার্শ্ববর্তী পাঁচবিবির হাটে জয়পুরহাট থেকে আগত বিশাল বিশাল কর্মকারদের দোকান থাকায় সেখানে সবরকমের রেডিমেড ছুড়ি, দা, কাস্তে, খড় কাটা যন্ত্র ইত্যাদি তৈরি অবস্থায় কিনতে পাওয়ায় আমাদের ব্যবসা কমে গেছে ও আমরা অতি কষ্টে দিন পার করছি।
একই এলাকার কামার সুব্রত বলেন, এ পেশায় এক জন সহযোগীর প্রয়োজন হয় এবং এই সহযোগীর দৈনিক মজুরি দিতে হয় ৩০০ টাকা। দিনে ৩০০ টাকা আয় না হওয়ায় আমার প্রতিবন্ধী ছোট ভাই গোবিন্দকে সঙ্গে নিয়ে কোনমতে আমার পিতা ভাদু কর্মকারের এ পেশাকে টিকিয়ে রেখেছি।

পাঁচবিবি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে প্রতিটি দা তৈরিতে প্রকারভেদে মজুরি নেওয়া হচ্ছে ২০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত। চাকু তৈরিতে নেওয়া হচ্ছে ১০০ টাকা। বড় ছুড়ি তৈরিতে নেওয়া হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকা। বটি তৈরিতে নেওয়া হচ্ছে দেড়শ টাকা থেকে আড়াইশ টাকা।
ক্রেতারা জানান, কয়েক দিন পরেই ঈদ, গরু ও ছাগল জবাই দিতে এবং মাংস কাটতে প্রয়োজন চাকু ও ছুরির, সে কারণে দা, বটি ও ছুরি কিনতে বাজারে এসেছি । তবে গতবছরে এসব জিনিসের যে দাম ছিল তার চেয়ে এবারে দাম খানিকটা বেশি।
পাঁচবিবি বাজারের কামার শিল্পের পাইকাররা জানান, সারাবছরই তারা দা, বটি, চাকু, ছুরি বিক্রি করেন। কিন্তু কোরবানির মৌসুমেই এসব সরঞ্জামের কেনা-বেচার ধুম পড়ে। এবারও ভালো বিক্রি হচ্ছে। তবে কয়লা ও লোহার দাম খানিকটা বেড়ে যাওয়ায় কামারদের কাছ থেকে খানিকটা বেশি দামে এসব জিনিসপত্র কিনতে হচ্ছে। যার ফলে কিছুটা বেশি দামে আমাদের বিক্রি করতে হচ্ছে।
বাগজানা ব্যবসায়ী দীপক মহন্ত বলেন, “৭০০টাকা কেজি দরে দা-কুড়াল, হাসুয়া-বটি ২৫০-৩০০ টাকা ও ছুড়ি ১৬০-১৫০ টাকা কেজি দরে প্রকারভেদে বিক্রি হয়। সব জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ায় আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। দা, বটি, ছোরা, চাকুর পাশাপাশি মাংস বানানোর কাজের জন্য গাছের গুঁড়ির চাহিদাও বেড়েছে ব্যাপক। স্থানীয় করাতকলগুলোয় গাছের গুঁড়ি কিনতে এখনই ভিড় জমাতে শুরু করেছেন কশাইসহ অনেকে। বর্তমানে ৫০ থেকে ২০০ টাকায় মিলছে এসব গুঁড়ি।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © 2025 The Daily Uttar Kon. All Rights Reserved.
Powered By Konvex Technologies