মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: রাজশাহীতে গরমের কারণে বেড়েছে ফ্যানের চাহিদা। এর মধ্যে বিক্রির শীর্ষে রয়েছে চার্জার ফ্যান। চার্জার ফ্যান বিক্রি বাড়ায় বাজারে এক ধরনের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। ফলে যে দোকানগুলোতে চার্জার ফ্যান রয়েছে তারাও বেশি দামে বিক্রি করছেন এমন অভিযোগ ক্রেতাদের। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কিছুদিন থেকে সারাদেশের মতো রাজশাহীতেও ঠিকমত বিদ্যুৎ থাকছে না। এমন অবস্থায় গরম থেকে পরিত্রাণ পেতে মানুষ চার্জার ফ্যানের দিকে ঝুঁকছে। তাই চার্জার ফ্যান বিক্রি বেড়েছে। ফলে দোকানগুলোতে চার্জার ফ্যানের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। আর তাই এক সপ্তাহর ব্যবধানে ফ্যানের দাম ১ হাজার থেকে ১৫০০ টাকা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জুন) মহানগরীর সাহেব বাজার এলাকার ইলেকট্রনিক্সের দোকানগুলোতে দেখা গেছে চার্জার ফ্যান কিনতে ক্রেতাদের ভিড়। বিদ্যুৎ ঠিকঠাক না থাকায় চার্জার ফ্যানের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। তাই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ফ্যানগুলো। দোকানগুলোতে অনেকটাই একদামে ফ্যানগুলো বিক্রি হচ্ছে এমন অভিযোগ ক্রেতাদের। দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ওয়ালটন ছাড়াও বিভিন্ন ব্যান্ডের মধ্য ডিফেন্ডার, ভিক্টর, মিয়াকো, নোভা ব্র্যান্ডের চার্জার ফ্যান বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন সাইজের এসব চার্জার ফ্যানের দাম ৩ হাজার থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। চার্জার ফ্যান কিনতে আসা তামান্না হাবিব নিশু বলেন, কিছুদিন থেকে রাজশাহীতে প্রচুর গরম পড়ছে। ঘনঘন বিদ্যুৎ যাচ্ছে। আমার দুই বছরের ছেলে (শিশু) আযান গরমের কারণে ঘুমাতে পারে না। বিদ্যুৎ গেলে যতক্ষণ পাখা দিয়ে বাতাস করা হচ্ছে ততক্ষণ ঘুমায়। পাখা বন্ধ হলেই কান্না শুরু করে দিচ্ছে। বিদ্যুৎ একবার গেলে আসতে ঘণ্টা পার হয়ে যায়। তাই চার্জার ফ্যান থাকলে অনন্ত শিশু সন্তান ঘুমিয়ে থাকবে।
মহানগরীর কাকন ইলেকট্রনিক্সের মোঃ মসিউর রহমান বলেন, গরমের কারণে চার্জার ফ্যানের প্রচুর চাহিদা, বিক্রিও বেড়েছে। দোকানগুলোতে তেমন চার্জার ফ্যান নেই। কেউ কেউ বেশি দামে ফ্যান বিক্রি করছে বলে ক্রেতারা অভিযোগ করছেন। আগে ওয়ালটনের ৫ হাজার ৪০০ থেকে ৫ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হতো। কিন্তু এখন দাম ঠিকঠাক বলা যাবে না। কেনোনা সারাদেশের চার্জার ফ্যানের চাহিদা বেশি। তাই কোম্পানিগুলো দাম বাড়াতেও পারে।
রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজারে বৃহস্পতিবার (৮ জুন) সকালে চার্জার ফ্যান কিনতে আসা মোঃ দূর্জয় খান বলেন, রাজশাহীতে সড়ক মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুরোনো আমলের গাছগুলি নিধন হওয়াতেই এই রকম তীব্র গরম পড়েছে। তিনি আরও বলেন, মহানগরীতে বড় বড় সড়ক ও মহাসড়ক তৈরী হয়েছে। সে কারনেই পূর্বের সড়কের পাশে থাকা শত-শত বৎসরের পুরোনো গাছগুলি নির্বিচারে নিধন করা হয়েছে। বর্তমানে রাজশাহী মহানগরীতে পুরোনো আকাশ ছোড়া বটগাছ ও কড়াইগাছ সড়কের পাশে নেই। আর তাই বিগত বছরের তুলনায় রাজশাহীতে দাপদাহ ব্যপক হারে বেড়েছে।
নগরীর বোসপাড়া এলাকার বাসিন্দা এ্যাডভোকেট মোঃ নিজাম উদ্দিন বলেন, এখনও মহানগরীর শহর রক্ষা বাঁধের উপর বেশ কিছু পুরোনো কড়াই গাছ রয়েছে। কিন্তু বাঁধের উপর দিয়ে রাস্তা প্রশস্ত করণ কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই তালাইমারী বালুঘাট সংলগ্ন শহররক্ষা বাঁধের উপর দুই-লেনের সড়কের কাজ কাজলা ফুলতলা পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। সেই সুবাদে বাঁধের পেটে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলিও বিলিন হয়ে গেছে। তবে তালাইমারী শহীদ মিনার থেকে শুরু করে মহানগরীর পাঁচানি মাছ পর্যন্ত শহররক্ষা বাঁধের উপর বেশ কিছু পুরোনো কড়াইগাছ ও বট গাছ রয়েছে। রাস্তা বড় হলেও পরিকল্পিত ভাবে গাছগুলি রক্ষার দাবি করেন তিনি।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক রাজিব খান বলেন, রাজশাহীতে বুধবার (৭ জুন) দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই সপ্তাহে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই।