শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪২ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে তার কর্মময় জীবনের উপর আলোচনা সভায় বক্তরা বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তার স্বাধীনতার ঘোষণায় আমরা একটি স্বাধীন দেশ ও পতাকা পেয়েছি। এই মহান ব্যক্তির শাহাদৎ বার্ষিকীতে আমরা তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সর্বকালের একজন সর্বশ্রেষ্ঠ দেশ প্রেমিক। জিয়াউর রহমান একজন দূরদর্শী সম্পন্ন রাজনৈতিবিদ ছিলেন। জিয়াউর রহমান সর্বশ্রেষ্ঠ সংগঠক। একটি রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য সাংগঠনিক দক্ষতা দরকার। এটি অল্প সময়ের মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান করতে পেরেছিলেন। তাই আমরা যেন ভুল করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে অন্য কারো তুলনা করতে না যাই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবেন। বক্তারা বলেন, যেদিন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের লাশ চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। গার্ড দেয়ার জন্য সেনা সদস্যরা দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু তার কফিন দেখে সেই শৃঙ্খল বাহিনী তার লাইন ভেঙে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। তার জানাজায় ইমাম সাহেব দোয়ায় বলেছিলেন, হে আল্লাহ বাংলাদেশকে হেফাজত করো। তারা একটি কথাই বলেছিল, এমন প্রেসিডেন্ট পাবো কিনা জানি না। যতই তাকে খলনায়ক বানানোর চেষ্টা করুক না কেন, কিন্তু তাকে মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা যায়নি, যাবে না। এটা ধ্রুব তারা মতো স্পষ্ট। বগুড়া জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আলোচনা সভায় বক্তরা এসব কথা বলেন।
আলোচক হিসাবে বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এ্যাড. একেএম মাহবুবর রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জীবনে তিনটি সফল ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন, এক সৈনিক জীবন, রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে তিনি সফল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আধুনিক রাষ্ট্রের রূপকার। তিনি আমাদের অহংকার, তার কথা বলতে গেলে শেষ করা যাবে না। তিনি আমাদের এই দেশকে বিশ্বের কাছে পরিচিত করে দিয়েছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ১২ কোটি মানুষের ২৪ কোটি হাতকে কাজে লাগিয়েছেন। আলোচক হিসাবে বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবেক এমপি মোঃ হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সর্বকালের একজন সর্বশ্রেষ্ঠ দেশ প্রেমিক। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও মরণশীল ছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন শুধু রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, তিনি একজন সামরিক নেতাও ছিলেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ছিলেন। বিশ্বের বুকে তিনি বাংলাদেশের তুলে ধরেছিলেন। মুসলিম দেশগুলোকে আগামী বিশ্বের আধুনিকায়ণ করার জন্য তিনি শীর্ষ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সাবেক এমপি লালু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মরেনি। তিনি মৃত্যুঞ্জয়ী। ৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে এই আওয়ামী লীগ। আর তারা এখন মায়া কান্না করেন। আওয়ামী লীগের গুণ হত্যা, লুণ্ঠন, গুম, ধর্ষণ, খুন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজায় যত লোক হয়েছিল তা পৃথিবীর কোনো দেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছে কিনা মনে হয় না। জিয়াউর রহমানের স্লোগান ছিলো বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে কোনো প্রভু নাই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কোনো স্বজনপ্রীতি ছিল না।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনার সভাপতিত্বে আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন জিয়া পরিষদ বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডঃ মোঃ মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল। আরো বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাবেক এমপি গোলাম মোঃ সিরাজ, সাবেক এমপি মোশাররফ হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জয়নাল আবেদীন চাঁন, লাভলী রহমান, বিএনপি নেতা এ্যাড. সাইফুল ইসলাম, ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, এম আর ইসলাম স্বাধীন, শহর বিএনপির সভাপতি এ্যাড. হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সহিদ-উন নবী সালাম, কেএম খায়রুল বাশার, জাহিদুল ইসলাম হেলাল, ভ্যাব বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি ডাঃ শাহ মোঃ শাহজাহান আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, বগুড়া জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলাম খাদেম, যুগ্ম আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবু হাসান, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইদুল ইসলাম, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা আক্তার, শহর যুবদলের আহ্বায়ক আহসান হাবিব মমিসহ বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এর আগে সকাল ৬টায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা অর্থ নির্মিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৬.৩০ মিনিটে শহীদ জিয়ার প্রতিকৃতিতে পুস্প মাল্য অর্পণ ও কালো ব্যাচ ধারন করা হয়। এছাড়া বাদ যোহর বগুড়া জেলার বিএনপির উদ্যোগে বায়তুর রহমান সেন্টারে দোয়া মাহফিল ও শিববাটি অন্ধ হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও পূর্ব পালশা সিরাজ উদ্দিন হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এতিমদের মঝে খাবার বিতরণ করা হয়।