শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে শহরের আলাইপুরে নাটোর জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী মঞ্চে বিএনপির সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশ শুরু হওয়ার পরই পুলিশী বাধার মধ্যেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে প্রধান অতিথির বক্তব্য ছাড়াই শেষ হয় বিএনপির সমাবেশ।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে শহরের আলাইপুরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী মঞ্চে বিএনপিরসমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশ শুরুর পরপরইবৃষ্টির মধ্যেই জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরহাদ বিন আজিজ ও সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শাহিনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে বিএনপির সমাবেশের দিকে আসতে থাকে। বিএনপি অফিসের পাশের বিদ্যুৎ অফিসের সামনে মহাসড়কে মোটরসাইকেল রেখে বাঁশের লাঠি নিয়ে বিএনপি কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।
আরো জানা যায়, নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদা শারমিন নেলির নেতৃত্বে শতাধিক পুলিশ এ সময় ছাত্রলীগ নেতাদের বিএনপির সমাবেশের দিকে যেতে না দিয়ে ঘিরে রাখেন। এর মধ্যেই সমাবেশের দিকে ঢিল ছুড়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরে পালটাপালটি ঢিল ছোরাছুড়ি শুরু হলে প্রধান অতিথি খালেদা জিয়ার উপদেষ্ঠা পরিষদের সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর বক্তব্য ছাড়াই সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করে বিএনপি। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মী প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেই মহাসড়কে পুলিশী বেষ্টনীর মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকে দুলু ও বিএনপি বিরোধী বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে। প্রায় এক ঘণ্টা পর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিএনপি অফিসের এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ১০ দফা দাবিতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বাচ্চুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক কাজী গোলাম মোর্শেদ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রহিম নেওয়াজ, যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী শাহ আলম, জেলা যুবদল সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিম ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাবুল চৌধুরী।
এদিকে বিএনপির সমাবেশে আসার সময় দলীয় নেতাকর্মীদের ওপরে পথে পথে হামলার ঘটনায় ১০ বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়েছে। সকালে বিএনপির সমাবেশ শুরুর আগে কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ হয়। পরে পুলিশ দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে। ককটেল বিস্ফোরণ ও এসব হামলার জন্য দলের জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রহিম নেওয়াজ আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন। তবে জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আসলাম হোসেন সকল হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।