ঈশ্বরদীতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি রেকর্ড করার এক দিন পর বুধবার (১৯ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় আবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। মৃদু, মাঝারি ও তীব্র তাপপ্রবাহ শেষে এবার অতি তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে ঈশ্বরদী, পাবনা ও লালপুর উপজেলাতে। তাপদাহে লিচু ও আমের গুটি, ধানের শীষ ঝরে যাচ্ছে। সবজি ক্ষেতসহ সকল প্রকার চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে শিশু রোগের সংখ্যা প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঈশ্বরদী আবহাওয়া অধিদফতরের ইনচার্জ হেলাল উদ্দীন জানিয়েছেন, আজ টানা ১৭ দিনের মতো এ অফিসের আওতাধীন এলাকায় দেশের সর্বোচ্চ, কখনো দ্বিতীয় রেকর্ড করা হয়েছে। গত সোমবার বিকেল ৩টায় ৪৩ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, সহজে দেখা মিলছে না বৃষ্টির। এবারের গরমে ভিন্নমাত্রা রয়েছে। বাতাসের আদ্রতা স্বাভাবিকের চেয়ে কম। তাই তাপদাহের মধ্যে ঠোঁট শুকিয়ে ও ফেটে যাচ্ছে। বাতাসের জ্বলীয়বাস্প কম থাকায় মূলত এমন হচ্ছে। সকালে সূর্য উঠার সাথে-সাথে তীব্র রোদ। বেলা বাড়ার সাথে-সাথে এ রোদ যেন আগুনের ফুলকি হয়ে ঝরছে। বিশেষ করে দুপুরের পর আগুনঝরা রোদেও তেজে বাইরে বের হওয়া মুশকিল হয়ে পড়ছে। গত ১৭ দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
তিনি জানান, ইতিপুর্বে ঈশ্বরদীতে এত বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়নি। প্রখর খরতাপে প্রায় প্রতিদিন রূপপুর আনবিক প্রকল্পের শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে জানায় ভুক্তভোগী শ্রমিকরা।
এদিকে, টানা তাপদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমের সাধারণ ও কর্মজীবী মানুষেরা অস্বস্তিতে পড়েছেন। তাপমাত্রাজনিত কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রখর রোদের ঘাম ঝরানো তাপমাত্রার কারণে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষজন চরম বিপাকে। বিশেষ করে তীব্র রোদের তাপের কারণে দিনমজুর, রিকশাচালক, ঠেলা ও ভ্যানচালকরা কাজ করতে পারছেন না। ফলে তীব্র তাপদাহে অনেকে অলস সময়ও পার করতে দেখা গেছে। আবার অনেকেই জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রচণ্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে কাজে বেরিয়েছেন। এছাড়া এই তাপপ্রবাহে রোজাদারদের কষ্টও বেড়েছে। তীব্র গরমে বয়স্ক, শিশুরা পড়েছে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে।
রোজার মাস হওয়ায় একটু স্বস্তি পেতে ঠান্ডা শরবত, পানি, আইসক্রিম খেয়ে তৃষ্ণা মেটাতে পারছে না সাধারণ মানুষ। আরো সপ্তাহখানেক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে জানা গেছে।
বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জীব-বৈচিত্র্যের ওপর।
এমন প্রচণ্ড গরমে নাভিশ্বাস উঠেছে এ এলাকার মানুষের। সেই সাথে প্রাণীকূলেও দেখা যাচ্ছে অস্থিরতা।এতে করে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। একটু শীতলতার জন্য শিশু-কিশোর সবাই পুকুর-নদী-বিলে ছোটাছুটি করছে। অসহনীয় প্রচণ্ড গরমে গ্রামাঞ্চল কিংবা শহরে শিশু, বয়স্কদের জ্বর-সর্দি- ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। তাপের কারণে নানা বয়সীদের দেখা দিয়েছে চর্ম রোগও। তীব্র তাপদাহে কয়েক দিন থেকে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারে মানুষের সমাগম কিছুটা কমেছে। প্রচণ্ড গরমেই অনেকে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানও বন্ধ রেখেছেন।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আসমা খান জানান, তীব্র খরতাপে প্রায়ই মার্কেট করতে আসা মহিলা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
তিনি জানান, এ তাপদাহে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়া উচিত নয়। এ অবস্থায় বেশি বেশি ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর ভিজিয়ে রাখা এবং বেশি বেশি তরল খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
তিনি জানান, শিশু বৃদ্ধদের বিশেষ যত্ন নেয়া দরকার।