পাবনা প্রতিনিধি: বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও সাংবদিকদের হয়রানী বন্ধের দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন হয়েছে। সোমবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে জেলা শহরের আব্দুল হামিদ সড়কে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা এই কর্মসুচি পালন করেন। কর্মসুচিতে সাংবাদিকসহ শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচি থেকে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের মামলা প্রত্যাহার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানানো হয়। প্রায় ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, সাংবাদিক হয়রানি বন্ধ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ও নিজস্ব প্রতিবেদকের মামলা প্রত্যাহার সহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়।
প্রেসক্লাবের এসব দাবির সঙ্গে একাত্বতা প্রকাশ করে পাবনা রিপোর্টার্স ইউনিটি, জেলা সংবাদপত্র পরিষদ, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি পাবনা জেলা শাখা ও বন্ধুসভা সহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধন চলাকালে পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পাভেল মৃধার সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, জেলা সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি আব্দুল মতীন খান, প্রেসক্লাব সম্পাদক সৈকত আফরোজ আসাদ, সাবেক সহ-সভাপতি কামাল আহম্মেদ সিদ্দিকী, পাবনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহবুব মোর্শেদ, পাবনা সিটি কলেজের সহযোগি অধ্যাপক শামসুন্নাহার বর্ণা ও সাংবাদিক মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের পর থেকেই দেশে এই আইন ব্যবহার করে সাংবাদিকদের হয়রানী করা হচ্ছে। শতাধিক সাংবাদিককে এই আইনে ফাঁসানো হয়েছে। প্রথম আলোর মত একটি জনপ্রিয় দৈনিকের সম্পাদকও এই আইন থেকে রেহাই পাননি। ফলে সাংবাদিকরা অবিলম্বে সাংবাদিক নিধনের এই আইন বাতিল চায়।
আব্দুল মতীন খান বলেন, সাংবাদিকরা কারো পক্ষ নয়। সাংবাদিকরা জনগণের পক্ষ, জনগণের জন্য কাজ করে। তাই তাদের বিপক্ষ ভেবে বিরোধীতার কোন কারণ নেই। মামলা-হামলা দিয়ে ভয় দেখানোরও কিছু নেই।
সভাপতির বক্তব্যে এবিএম ফজলুর হমান বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রনয়নের পর থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বহু সংগঠন এর বিরোধিতা করছে। কারণ, দেশের মানুষ মুক্তভাবে চলতে চায়। মুক্তভাবে বলতে চায়, লিখতে চায়। সাংবাদিকরাও মুক্তভাবে লিখতে চায়। তাই অবিলম্বে আমরা এই কালো আইন বাতিলের দাবি করছি। একই সঙ্গে এই আইনে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ও নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধেদায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবি করছি।