1. nobinbogra@gmail.com : Md. Nobirul Islam (Nobin) : Md. Nobirul Islam (Nobin)
  2. bd.momin95@gmail.com : sojibmomin :
  3. bd.momin00@gmail.com : Abdullah Momin : Abdullah Momin
  4. bd.momin@gmail.com : Uttarkon2 : Uttar kon
শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৪:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
দুঃস্হদের মাঝে ঈদ সামগ্রী ও অসহায় পরিবারকে হুইলচেয়ার বিতরণ করলেন সাবেক এমপি লালু দেশের আকাশে চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদুল ফিতর শনিবার আ.লীগের কার্যক্রম বন্ধ আছে, বন্ধ থাকবে: মির্জা ফখরুল নীলসাগর ট্রেন দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের লাইনচ্যুত ৯টি বগির উদ্ধার কাজ শেষ ; প্রায় ২২ ঘন্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু শাজাহানপুরে ২ হাজার পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার পৌঁছে দিলেন এনামুল হক শাহীন সান্তাহারে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার নওগাঁয় ৭শতাধিক অসহায়দের মাঝে ঈদ সামগ্রি উপহার বিতরণ করলেন তুহিন মানবিক দৃষ্টান্ত: অসহায় পঙ্গু সেই জালালের পাশে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমানের গণসংযোগ অব্যাহত

পাঁচবিবিতে কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে পিঁড়িতে বসা সেলুন

  • সম্পাদনার সময় : মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
  • ১৬৮ বার প্রদশিত হয়েছে

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) সংবাদদাতাঃ এক সময় গ্রামগঞ্জের হাট বাজারে পিঁড়িতে বসে বৃদ্ধ,যুবক ও ছোট্ট বাচ্চাদের চুল কাটার ব্যস্ত সময় পার করত নাপিত বা নর সুন্দররা। একটি কাঠের বাক্সে ক্ষুর, কাঁচি, চিরুনি, সাবান, ফিটকারি, পাউডার ও বসার জন্য থাকত জল চৌকি কিংবা পিঁড়ি। এগুলো দিয়ে মানুষকে বসিয়ে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে মাথাকে দুই হাঁটুর মাঝে ঢুকিয়ে পিতলের চিরুনি আর কাঁচি দিয়ে কাটতেন চুল। আশি নব্বইয়ের দশকে এভাবে পিঁড়িতে বসিয়ে গ্রামবাংলার মানুষের চুল-দাড়ি কাটার সেই পরিচিত দৃশ্য এখন আর সচরাচর চোখে পড়ে না। সভ্যতার বির্বতনে মানব জীবনের গতিধারায় পরিবর্তন ও নতুনত্বের ছোঁয়াই জেন্টস পার্লারগুলোতে বাহারি রংঙের হেয়ার স্টাইলের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে হাট- বাজারে পিঁড়িতে বসা সেলুনগুলা। আধুনিতায় সেই সকল নরসুন্দরদের স্থান দখল করে নিয়েছে নামি দামি সেলুনগুলো।
পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা ইউনিয়নের চকসমশের গ্রামের এমনই একজন নরসুন্দর হলেন মহিনী শীল। তিনি তার পূর্বপুরুষের ঐতিহ্যগত পেশা টিকিয়ে রেখেছেন । তার পিতা কালিপদ শীল এর মৃত্যুর পরে তিনিই এখন বিভিন্ন হিন্দু পাড়ায় ঐতিহ্যগতভাবে নরসুন্দরের কাজ করছেন। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিয়ে, শ্রাদ্ধ, শিশু ভূমিষ্ট হওয়ার পরবর্তীতে সেই সব বাড়িতে ডাক পড়ে তার। তিনি বলেন, ‘২০ বছর ধরে এই পেশায় আছি। বাপ দাদার রেখে যাওয়া আদি পেশা তাই ধরে রেখেছি। এখন আর ব্যবসা নেই। তখন ধানের বিনিময়ে চুল দাড়ি কেটে দেওয়া হতো। বছর শেষে দেড়-দুইশ মণ ধান পেতাম। তরি -তরকারীও খুব একটা কিনা লাগতনা। ওই দিনগুলোই ভালো ছিল। এখন দিন শেষে ৯০-১০০ টাকা কাজ করতে পারি। আমার কাছে যারা আসেন তাদের বেশির ভাগই বয়স ষাটের ঊর্ধ্বে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আগে সাপ্তাহিক বাজার ছাড়াও সারা বছর মানুষ আমাদের বাড়িতে এসে বাবার কাছে পিঁড়িতে বসে চুল কাটাতো। চুলের কি স্টাইল হবে তা মুরুব্বিরা ঠিক করে দিতো। অনেকে এসে বলতেন মাথা একেবারে মুন্ডন করে দিবে। মুন্ডন মানে ন্যারা করে দেওয়া। চুল হাতে ধরা যাবে না। কারো চুল সামনে দিয়ে একটু বড় হলে মুরুব্বিরা আবার বাচ্চার কান ধরে নিয়ে আসতেন। এক সঙ্গে চার-পাঁচজন মানুষ আসতেন, তখন অনেক জাঁকজমক ছিল।
উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে সরাইল বাজারের নর সুন্দর বেলাল বলেন, ৪৭ বছর ধরে বাপদাদার ঐ পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছি। ১০ পয়সা থেকে চুল দাঁড়ি কাজ কাজ করছি। এখন আর তেমন লোকজন হয় না। হাট বাজারের আনাচে কানাচে সেলুন ও জেন্টস পার্লার গড়ে উঠেছে। সেখানে কাঁচির পরিবর্তে মেশিন দ্বারা চুল কাটায় মধ্য বয়স্করা পর্যন্ত সেখানেই চুল দাঁড়ি কাটতে ভীড় করেন। তারপরও আমাদের নিকট যে কয়জন আসে তারাও বয়স্ক লোকজন। ফলে আমরা যারা, পূর্বপুরুষের পেশা ধরে আছি তাদের ব্যবসা কমে গিয়ে দিন চলা কঠিন হয়ে গেছে।
উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দু’একজন পিঁড়িতে বসা নরসুন্দর কে পাওয়া গেলেও কাজের খড়ায় ভুগছেন তারা। তাই অনেকেই পেশা বদলীয়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন বলে জানান। অপরদিকে সময়ের সঙ্গে সেলুন পেশার চাকচিক্য ও কদর বেড়েছে। বেড়েছে আয়। কমেছে হাট-বাজারে বট বৃক্ষের শীতল ছায়ার নিচে কিংবা প্রখর রোদ্রে লোহার উঁচু শিখে টানানো ছাতায় ঘেরা পিঁড়িতে বসা সেলুনের। তাই এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-গঞ্জে গাছের নিচে পিড়িতে বসা সেলুন গুলো। হয়ত ধীরে ধীরে এগুলো একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © 2025 The Daily Uttar Kon. All Rights Reserved.
Powered By Konvex Technologies