বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, উন্নয়নের কথা বলে ফ্যাসিস্ট এই সরকার জনগণকে বোকা বানাচ্ছে। আওয়ামী লীগের স্লোগান হলো— আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব। সসম্মানে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। অন্যথায় জনগণ আপনাদের বিদায় করে দিবে। শনিবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি কার্যালয়ে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার সাধারণ মানুষকে শীতের কষ্টের সঙ্গে ভাতের কষ্টেও রেখেছে। মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা বিদায় না নিলে যেভাবে আইয়ুব খানকে বিদায় করেছে, এরশাদকে বিদায় করেছে, সেভাবে আপনাদেরকেও বিদায় করে দেবে জনগণ। তিনি বলেন, আমরা আগে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে ভোট দিয়েছি, সেখানে কোনো গণ্ডগোল হয়নি। কখনো বিএনপি জিতেছে, কখনো আওয়ামী লীগ জিতেছে। কিন্তু এখন আওয়ামী লীগ নিজেদের অধীনে ভোট করে। কারণ, বার বার তাদেরকেই জিততে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, এখন আবার ইভিএম নামের একটা মেশিন বের করেছে। যাতে ভোট দিবেন ধানের শীষে আর তা চলে যাবে নৌকায়। এ মেশিনে ভোট দিলে একটা কাগজ দেয়ার কথা। কিন্তু সেটি দেয়া হবে না। ফলে আপনি কোথায় ভোট দিলেন তার ডকুমেন্ট থাকবে না। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগে স্লোগান ছিল আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। এখন আওয়ামী লীগ নতুন স্লোগান চালু করেছে, আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমিই দেব। আমরা পরিস্কারভাবে বলছি, জনগণকে নিয়ে এসব মশকরা চলবে না’। তিনি বলেন, আমরা সমস্ত জনগণ, রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে যে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করেছি তাতে জয়লাভ করলে একটি জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। যে সরকারে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি থাকবে। আমরা যে সাতাশটি প্রস্তাব দিয়েছি তা সে সরকার বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেছেন, এ সরকার সবকিছুর দাম বাড়িয়েছে। আপনাদের শীতের কষ্ট, ভাতের কষ্টেও রেখেছে। চালের দাম বাড়িয়ে দ্বিগুণ করেছে। গ্যাসের দাম, ডালের দাম, বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে কষ্টে রেখেছে। গরিব মানুষ গরিব হচ্ছে, আর তারা ধীরে ধীরে ফুলছে। ব্যাংকের ঋণ নেয়ার নামে বিদেশে টাকা পাচার করছে। যার স্যান্ডেল পরার ক্ষমতা ছিল না সে এখন গাড়িতে ঘুরছে, দশ তলা বাড়ি করছে। আজকে বাড়ি থেকে অফিসে হেঁটে আসলাম। আসার পথে দেখলাম রাস্তাঘাটের অবস্থা একেবারে নাজেহাল।
সব উঠে গেছে রাস্তার। এটাই হচ্ছে ১৪ বছরের তাদের বাস্তব চিত্র। আর উন্নয়নের নাম দিয়ে এ সরকার জনগণকে বোকা বানাচ্ছে। আমরা আমাদের ২৭ দফা প্রস্তাব দিয়েছি। আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই। তবে আওয়ামী লীগের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ নয়। কারণ তারা কাউকে ভোট দিতে দেয় না। তাদের কথা হলো, আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব। আগামীতে আর এরকম করতে দেয়া হবে না। শান্তিপূর্ণভাবে এর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
কিছু বললেই তারা মামলা দিয়ে দেয় মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকার খারাপ এ কথাটা বললে তারা মামলা দিবে। তাদের বিরুদ্ধে কোন কথা বলা যায় না। যদি কথা বলায় না যায় তাহলে আমরা দেশকে স্বাধীন করেছিলাম কেন। আমরা গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি। পাকিস্তান আমাদের সাথে জুলুম করতো আমরা তাদের কে বলেছি আসসালামু আলাইকুম। অথচ তাদের মতোই শাসন ব্যবস্থা কায়েম করছে এ সরকার। তবে তা আর করতে দেয়া হবে না।
বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কারাগারে রাখার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমাদের চেয়ারপার্সনের সাথে সাধারণ মানুষের ন্যায় আচরণ করা হয়েছে। হাজী সেলিমের জামিন হয়, ক্যাসিনো সম্রাটের জামিন হয়, ১৭ বছর কারাদন্ড হওয়ার পর মোফাজ্জল হোসেন মায়া আওয়ামী লীগের বড় নেতা হয়ে ঘুরে বেড়ায় অথচ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জামিন হয় না।
তিনি আরোও বলেন, জনগণের কোন মূল্য তাদের কাছে নাই। জোর জবরদখল করে বুকের উপর তারা বসে আছে। বারবার ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান। আর ঘুঘুকে ধান খেতে দেয়া হবে না। আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। আমাদের চেয়ারপার্সন কে মুক্তি করে, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। সেই সাথে জনগণের সরকার গঠন করা হবে।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আমরা পঞ্চাশ বছর আগে যে লক্ষ্য নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম তা হলো, দেশের গণতন্ত্রের জন্য। যেখানে দেশের মালিক হবে জনগণ। এখানে সবার মান অধিকার হবে। জজ ব্যারিস্টারের যে অধিকার, সাধারণ জনগণেরও সেই অধিকার হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সব নষ্ট করে দিয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, দপ্তর সম্পাদক মামুনুর রশিদ, অর্থ সম্পাদক শরিফ, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন তুহিন, জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নুরুজ্জামান নুরু, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা সহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য শেষে বিএনপি মহাসচিব কয়েক শ’ দারিদ্র মানুষের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন।