রাতুল সরকার, রাজশাহী: প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর পেলাম কিন্তু ঘর থেকে বের হবার রাস্তা পেলাম না, মূল সড়কে যেতে হয় সাধারণ মানুষের জমির আইল রাস্তা দিয়ে। গৃহহীনদের জন্য তৈরি এই আবাসনের পশ্চিম, উত্তর, পূর্বদিকে স্থানীয় সাধারণ মানুষের জমি আর দক্ষিণ-পূর্ব দিকে সরকারি জমি পত্তন নিয়ে স্থানীয় কৃষক চাষাবাদ করলেও রাস্তার জন্য জমি নেই। দীর্ঘদিন স্থানীয় প্রভাবশালীর নিকট দখলে থাকা এই খাস জমি উদ্ধার করে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ দুর্যোগ সহনীয় গৃহ আমাদের মাঝে বিতরণ করার কারণে বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য পাশর্^বর্তী জমির মালিকগণ কেউ রাস্তা দেয় না, এমনই কথা বলেছেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের চককৃষ্ণপুর গুচ্ছগ্রামের উপহারভোগী বাসিন্দা গঞ্জেরা বেগম। তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও এসি-ল্যান্ড বরাবর আবেদন করে, বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত রাস্তা না হওয়ায় দুর্ভোগে দিন কাটছে উপহারভোগী পাচঁ জনের।
চককৃষ্ণপুর গুচ্ছগ্রামের উপহারভোগীর পাচঁ জনের মধ্যে দুইজন আজদার ও হাফিজুর পেশায় ভ্যান চালক। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে রাস্তা না থাকায় তাদের ভ্যানগুলো ভাড়া জায়গায় রাখতে হয়। চুরি হয়ে যাওয়ার আশংকায় দুপুরে খাবারের সময় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মূল সড়কে ভ্যান পাহারা দিয়ে রাখতে হয়।
নিমপাড়া ইউনিয়নের চককৃষ্ণপুর গুচ্ছগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প দুর্যোগ সহনীয় গৃহনির্মাণে গ্রামীণ অবকাঠামো কাবিটা কর্মসূচীর আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য তৈরি পাচঁটি ঘর ২০২০ সালে ২৩শে ডিসেম্বর পাচঁজন উপহারভোগীদের নিকট বিতরন করা হয়।
ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দ জমি ও ঘর মূল রাস্তা থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ঘর থেকে মূল সড়কে উঠতে অন্যে জমির সরু আইল দিয়ে যেতে হয়। রাস্তা না থাকায় জন দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে নিমপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করেছি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন চককৃষ্ণপুর গুচ্ছগ্রামের রাস্তা না থাকার বিষয়টি অবগত রয়েছি। জায়গা পরিদর্শন সাপেক্ষে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ হবে।