1. nobinbogra@gmail.com : Md. Nobirul Islam (Nobin) : Md. Nobirul Islam (Nobin)
  2. bd.momin95@gmail.com : sojibmomin :
  3. bd.momin00@gmail.com : Abdullah Momin : Abdullah Momin
  4. bd.momin@gmail.com : Uttarkon2 : Uttar kon
শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
আমরা ক্ষমতায় গেলে রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নকাজ, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করব- তারেক রহমান প্রয়োজনে জীবন দেব, তবু জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে দেব না-জামায়াত আমির সান্তাহারে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি যুব রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ হজরত শাহ মখদুম (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করলেন তারেক রহমান ভারতের সংসদ শ্রদ্ধা জানালো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে একটি দলের শীর্ষ নেতারা পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে: বিএনপি প্রযুক্তি খাত থেকেই ভবিষ্যৎ রচনা হবে : ড. ইউনূস বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র-মার্কিন রাষ্ট্রদূত সহিংসতা বন্ধ করে কল্যাণের রাজনীতির পক্ষে দাঁড়াতে চাই-ডা: শফিকুর রহমান বগুড়ায় আসছেন তারেক রহমান বইছে উৎসবের আমেজ

সমৃদ্ধ দেশ গড়ার শপথ: মহান বিজয় দিবস পালিত

  • সম্পাদনার সময় : শনিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ১৩৪ বার প্রদশিত হয়েছে

বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বীর শহীদদের স্মরণের মধ্যদিয়ে সারা দেশে পালিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস। এদিন সবার মুখে মুখে উচ্চারিত হয়েছে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার শপথ। সারা দেশে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে দিবসটি। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন লাল-সবুজের উৎসবে। সকালে ৩১বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে শুরু হয় দিবসের কর্মসূচি। সূর্যোদয়ের সময়ে সাভার জাতীয়
স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। স্মৃতিসৌধে ঢল নামে সাধারণ মানুষের। করোনা মহামারির বিধিনিষেধ না থাকায় এবার ব্যাপকসংখ্যক লোক সমাগম হয় জাতীয় স্মৃতিসৌধে। বিজয় দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয় রাষ্ট্রপতির বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। এতে প্রেসিডেন্ট সালাম গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন।

দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়। এ ছাড়া সব সরকারি-আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় করা হয় আলোকসজ্জার ব্যবস্থা। রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা ও রঙ-বেরঙের পতাকায় সাজানো হয়। জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব ধর্মের উপাসনালয়ে মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়। হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, শিশু পরিবার ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলোয় উন্নতমানের খাবার সরবরাহ করা হয়। সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হয় নানা অনুষ্ঠানের।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর হাতিরঝিল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, চন্দ্রিমা উদ্যান, রমনা, সংসদ ভবন এলাকা, ঢাবি’র টিএসসি, কলাভবন, কার্জন হলসহ গোটা রাজধানীজুড়ে ছিল উপচে পড়া মানুষের ভিড়। মাথায় জাতীয় পতাকা ও লাল-সবুজ টি-শার্ট পরে টিএসসিতে হই-হুল্লোড়েই ব্যস্ত ছিল প্রতিটি প্রাণ। বিজয়ের চেতনা ধারণ করে ছবি তোলার অলিখিত প্রতিযোগিতা চলছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে চলে নৃত্য, অঙ্কন, রক্তদান কর্মসূচি, পথনাটক ও আলোচনা সভা। চলে সংগীত ও গণসংগীত পরিবেশনও।

স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল: ৫১তম মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বীর শহীদদের প্রতি লাখো জনতার শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে ওঠে জাতীয় স্মৃতিসৌধ। গতকাল সকাল থেকেই হাতে লাল সবুজের পতাকা আর রঙ-বেরঙের ফুল নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসেন লাখো জনতা। সাধারণ মানুষ তাদের ভালোবাসা দিয়ে স্মরণ করেন স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ জাতির সূর্য্য সন্তানদের। দিনের শুরুতেই জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। তখন তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাদের সালাম জানায়। এরপর পুনরায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, তিন বাহিনীর প্রধান, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও দেশি-বিদেশি কূটনৈতিকরা। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করার পর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় স্মৃতিসৌধ। বিজয়ের ৫১তম বার্ষিকীতে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের বিজয় এখনো সংহত হয়নি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরাজিত আর সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার যে প্রত্যয় দিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যেভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন, অপ্রতিরোধ্য গতিতে যেভাবে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ, সেই ধারা অব্যাহত রাখাই আমাদের প্রত্যয়।

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আমরা স্বাধীনতার ৫১ বছর পাড়ি দিয়েছি। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা ছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের এবং শহীদ জিয়ার স্বপ্ন ছিল দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে, দেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক মর্যাদা ও মানবিক অধিকার এবং এ দেশের মানুষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে, সেই স্বপ্ন নিয়ে এই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। দুর্ভাগ্য আমাদের, ৫১ বছর পরেও আজ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পূর্ণ ভূলুণ্ঠিত। দেশে গণতন্ত্র নেই।
খন্দকার মোশাররফ আরও বলেন, দেশে মানবাধিকার নেই, অর্থনীতি লুটপাট হচ্ছে, চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। আমাদের সম্পদ দেশ থেকে বিদেশে পাচার করে দেয়ায় অর্থনীতি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। দেশের মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশাহারা। লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত। ভোট ডাকাতি করে সরকার ক্ষমতায় এসেছে অভিযোগ করে খন্দকার মোশাররফ আরও বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য গায়ের জোরে দিনের ভোট রাতে ডাকাতি করে ক্ষমতায় এসেছে। আবারো এ ধরনের একটি নির্বাচন করার জন্য বিএনপি’র নেতাকর্মীদের নির্যাতন-নিপীড়ন করছে। ঢাকায় ১০ই ডিসেম্বরের গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে ৭ই ডিসেম্বরের আগে ও পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে কারাগারে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই সরকার যে তাদের পুরনো দমননীতি ফের চালাচ্ছে, এসব নগ্ন চরিত্র তার বহিঃপ্রকাশ। আজকে সারা দেশের মানুষ বিক্ষুব্ধ। শুধু আমাদের দেশে নয় আন্তর্জাতিকভাবেও বিক্ষুব্ধ। দেশের মানুষের আশা সুষ্ঠু নির্বাচন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ একটি নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলেও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। এবারের বিজয় দিবসে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ১০ দফা বাস্তবায়নের জন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহাজাহান ওমর, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মীর সরাফত আলী সপু ও বিএনপি’র ঢাকা জেলার নেতা সালাউদ্দিন বাবুসহ বিএনপি’র সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ওদিকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, ‘পঞ্চাশ বছরেও স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা এখনো মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারিনি। শোষণ, বঞ্চনা, দুর্নীতি ও দুঃশাসনসহ সম্পদের সুষম বণ্টন করতে পারিনি। সুশাসন ও গণতন্ত্র কায়েম করতে না পারায় দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি মেলেনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তফা আল মাহমুদ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা জেলা সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হেলাল উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক এম এ রাজ্জাক খান, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক বাহারুল ইসলাম ইমতিয়াজসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা প্রমুখ। জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, যারা এখনো বিএনপি’র সঙ্গে মিটমাটের কথা বলে তারা কার্যত রাজাকারকে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিচ্ছে। সুতরাং কোনো মিটমাটের জায়গা নেই। ’৭৫ এর পরে যে আপস রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসর রাজনীতির বিষবৃক্ষ বিএনপি’র সঙ্গে সেই আপসের রাজনীতিটা পরিত্যাগ করা উচিত।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © 2025 The Daily Uttar Kon. All Rights Reserved.
Powered By Konvex Technologies