1. nobinbogra@gmail.com : Md. Nobirul Islam (Nobin) : Md. Nobirul Islam (Nobin)
  2. bd.momin95@gmail.com : sojibmomin :
  3. bd.momin00@gmail.com : Abdullah Momin : Abdullah Momin
  4. bd.momin@gmail.com : Uttarkon2 : Uttar kon
শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
পাকিস্তানে ‘ভারতসমর্থিত’ ৪১ সন্ত্রাসী নিহত: আইএসপিআর জয়পুরহাটে আবারো কাটা তারের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান আমরা বাংলাদেশের নেতৃত্ব যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই-লক্ষ্মীপুরে জামায়াত আমির ভোট দিয়ে প্রমাণ করুন বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি: তারেক রহমান বগুড়ার বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে জুম্মার নামজ আদায় করলেন তারেক রহমান যে যার অবস্থান থেকে প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান তারেক রহমানের বিএনপি সরকার গঠন করলে শুধু বগুড়া নয় সারাদেশে উন্নয়ন করা হবে- তারেক রহমান আমরা ক্ষমতায় গেলে রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নকাজ, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করব- তারেক রহমান প্রয়োজনে জীবন দেব, তবু জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে দেব না-জামায়াত আমির

নওগাঁয় মুসাফিরদের আশ্রয় স্থান পোরশার মুসাফিরখানা

  • সম্পাদনার সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর, ২০২২
  • ১৫৩ বার প্রদশিত হয়েছে

নওগাঁ প্রতিনিধি: শত বছর আগের কথা। সময়টা ছিল ১৯০৮ সাল। বনজঙ্গলে ঘেরা এবং উঁচু-নিচু বরেন্দ্র ভুমির এলাকা নওগাঁর পোরশা থানা। সে সময় ভাল রাস্তাঘাটও ছিলনা। ছিলনা চলাচলের জন্য কোন যানবাহন। পাঁয়ে হেঁটে চলতো মানুষজন। আর মেঠোপথে চলতে চলতেই হতো দুপুর তারপর দুপুর গড়িয়ে সন্ধা। তখনকার যুগে যেমন ছিল চোর-ডাকাতের উপদ্রব তেমনি ছিল হিং¯্র বিভিন্ন প্রাণী ও বিচ্ছুর ভয়। এ এলাকার পথে হাঁটতে হাঁটতে যখন সন্ধা নামতো তখনি মানুষ রাত যাপনের জন্য পোরশার গ্রামগুলিতে আশ্রয়ের স্থান খুঁজতো। ওই সময় কাহারও ভাগ্যে নিরাপদ আশ্রয় মিলতো আবার কাহারও ভাগ্যে মিলতো ভোগান্তি আর কষ্ট। পথিক মুসাফির মানুষের ওই ভোগান্তি আর কষ্টের কথা চিন্তা করে শতবছর আগে তৎকালীন এ এলাকার জমিদার খাদেম মোহাম্মদ শাহ্ মুসাফিরখানা নাম দিয়ে তৈরি করেছিলেন টিনের ছাউনি সম্বলিত একটি মাটির ঘরের প্রতিষ্ঠান। পথিক মুসাফিররা যেন বিপদে আপদে এই ঘরে এসে আশ্রয় পান এবং তাদের রাত বা দিনে আশ্রয় এবং বিশ্রামের জন্যই এটি নির্মান করেছিলেন তিনি। মুসাফিরদের রাত ও দিনে থাকার পাশাপাশি বিনামূল্যে খাবারেরও ব্যবস্থা করেছিলেন জমিদার খাদেম মোহাম্মদ শাহ্। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা এবং সকল ধরনের খরচ পরিচালনার জন্য তিনি মুসাফিরখানার নামে দান করেছিলেন প্রায় ৮০ বিঘা জমি। দানকৃত ওই জমির ফসল বিক্রি করে আয়কৃত অর্থ দিয়ে চালানো হয় প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে বিশিষ্ট আলেম ও সমাজসেবক আলহাজ্ব শরিফ উদ্দিন শাহ্ এর পরিচালনায় মুসাফির খানাটি দুইতলা বিশিষ্ট বিল্ডিং এ উন্নীত করা হয়। এতে মুসাফিরদের জন্য ১৩টি বেড রুম সহ একটি মিলনায়তন, একটি রান্নাঘর, ও ৮টি দোকান ঘর রয়েছে। দোকান ঘর গুলি থেকে আয়কৃত অর্থ মুসাফিরদের জন্য খরচ করা হয়। বর্তমান সময়ে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকার কারনে আর ভোকান্তি পোহাতে হয়না এ এলাকায় এসে তারপরেও টিকে রয়েছে নওগাঁর পোরশা উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মুসাফিরখানাটি। আর দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসাফির পথিকদের আগের মতোই সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। পোরশা গ্রামের আনিসুর রহমান শাহ্ জানান, নওগাঁ জেলা শহর থেকে ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং বিভাগীয় শহর রাজশাহী থেকে ১শ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে পোরশা উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মুসাফিরখানাটি। তৎকালিন বাদশা আলমগীরের সময়ে ইরান থেকে শাহ্ বংশের ফাজেল শাহ, দ্বীন মোহাম্মদ শাহ, মুহিদ শাহ, জান মোহাম্মদ শাহ, খান মোহাম্মদ শাহ ও ওমর আলী শাহ্ নামে আরো কয়েকজন মুরুব্বী স্ত্রী-সন্তান সহ হিজরত করতে বাংলাদেশের বরিশালে আসেন। পরবর্তীতে বরিশাল থেকে তারা পোরশায় আসেন। সে সময় এখানে কোন বসত-বাড়ি ছিলনা। চারিদিকে বন-জঙ্গলে ভরে ছিল কিন্তু এলাকাটি তাদের ভাল লাগায় এখানে তারা ঘর বাড়ি নির্মান করে বসবাস করতে শুরু করেন বলে তিনি জানান। ওই সময় তাদের নিজেদের পারিবারিক ভাবে পারস্পরিক সন্তানের বিয়ে দিয়ে তারা বংশ বিস্তার করেন এবং প্রথাটি আজও চালু রয়েছে বলে তিনি জানান। তবে ওই সময় এ এলাকায় তারা বসবাস শুরুর পর থেকে এখানকার জমি পেয়ে তাদের পরবর্তী বংশধররা এখানে জমিদারী করেন। তাদেরই বংশধর খাদেম মোহাম্মদ শাহ্ ভারতের কলকাতা শহরের জাকারিয়া স্ট্রিটের নাখোদা মসজিদের পাশে অবস্থতি মুসাফির খানার অনুকরণে এই মুসাফিরখানাটি নির্মান করেছিলেন বলে আনিসুর রহমান জানান। মুসাফিরখানার ম্যানেজার সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য জন্য একটি কমিটি রয়েছে। বর্তমান পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারী মঞ্জুরুল হক শাহ্। তিনি মুসাফিরখানার সকল বিষয়ে খোঁজ খবর নেন এবং দেখাশোনা করেন। সিরাজুল জানান, তিনি এখানে প্রায় ২৭বছর যাবৎ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রতিদিনই এখানে অনেক মানুষ আসে এবং তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে এখানে প্রায় ৬০জন মানুষ একসাথে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে বলেও তিনি জানান। এছাড়াও অনান্য দিনের তুলনায় রমজান মাসে এখানে প্রতিদিন প্রায় ৫০০-৭০০ মানুষ ইফতার করে এবং ২০০-২৫০জন মানুষ ইপতার-সেহরি দুইটি খায় বলে জানান পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারী মঞ্জুরুল হক শাহ্ জানান, ১৯০৮সালে এটি প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ৮০ বছর মাটির ঘরেই এর কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে মুসাফিরখানার জমিজমা থেকে ও অন্যদেন দেওয়া অনুদান থেকে আয়কৃত টাকা দিয়ে বর্তমান ভবনটি নির্মান করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আসা করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © 2025 The Daily Uttar Kon. All Rights Reserved.
Powered By Konvex Technologies