পাবনা প্রতিনিধি: অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা আর পানি নিষ্কাশনের অপ্রতুলতায় সামান্য বৃষ্টিপাতে জলজট একাকার হয়ে যায় পাবনা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা। গত সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোররাত থেকে বুধবার বিকেল পর্যন্ত অবিরাম বর্ষনে দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসী। বেশকিছু এলাকায় পানিবন্দিতে নাকাল বাসিন্দা ও পথচারীরা।
বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে পাবনা পৌর এলাকার শালগাড়িয়া, উত্তর শালগাড়িয়া, মুজাহিদ ক্লাব সড়ক, আতাইকুলা সড়ক, রাধানগর, আটুয়া, বৈরামখান সড়ক, বড় বাজার গুড় পট্টি, দিলালপুর পাথরতলা, কালাচাঁদপাড়া, ছোট শালগাড়িয়া, মাঠপাড়া, মোশাররফ ডাক্তারের গলি, নিউ মার্কেট সড়কসহ পৌর এলাকার অধিকাংশ পাড়া মহলার সড়কগুলোতে সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।
এমনও পাড়া মহল্লা রয়েছে, যেখানে কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। সে সব এলাকার মানুষ আরও দূর্বিসহ যন্ত্রণার মধ্যে বসবাস করছেন। এর মধ্যে অন্যতম একটি মহল্লা ৯ নং ওয়ার্ডের উত্তর শালগাড়িয়ার সরদার পাড়া, আজিজল মেম্বার সড়কসহ বেশ কিছু মহল্লা রয়েছে। যেখানে নেই কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা।
উত্তর শালগাড়িয়া মহল্লার বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, আমাদের মহল্লায় কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যায়। যে কারনে দৈনন্দিন কাজেও আমাদের বিঘ্ন ঘটে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার পাশাপাশি নেই বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা।
পৌরবাসীর অভিযোগ, ময়লা আবর্জনা ফেলানোর স্থায়ী কোন ডাস্টবিন না থাকায় যত্রতত্র ভাবে ময়লা আবর্জনা ফেলে রাখে। বৃষ্টি হলে সেসকল ময়লা আবর্জনা সড়কে ছড়িয়ে গিয়ে চলাচলে দেখা দেয় মারাত্বক স্বাস্থ্য ঝুঁকিসহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা। এছাড়াও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নির্দিষ্ট স্থানে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পৌরবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই।
পৌর এলাকার ১৩ নং ওয়ার্ডের বাবলা তলার বৈরামখান সড়কের বাসিন্দা আহমেদ উল হক বলেন, এই মহল্লার ৩০টি পরিবার সামান্য বৃষ্টি হলেই চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। বাসা থেকে বের হওয়া দায় হয়ে যায়।
ওই মহল্লার শিক্ষার্থী মারজিয়া ইসলাম মিতু ও নাবিলা তাবাসসুম জানায়, বৃষ্টি হওয়া মানেই সেদিনে স্কুল কলেজে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। প্রয়োজনে জুতা সেন্ডেল খুলে হাতে নিয়ে কাপড় উঁচু করে গন্তব্যে যেতে হয়। আমরা মহল্লাবাসী খুব বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছি।
শালগাড়িয়া ৭ নং মহল্লার বিদ্যুৎ চক্র কালীবাড়ি মন্দির মহল্লার বাসিন্দা শর্মিলা সিদ্দিকী জানান, সামান্য বৃষ্টির পানি জমলেই আমরা ঘর থেকে বেরুতে পারিনা। এই মহল্লায় কমপক্ষে ৪০টি পরিবার এই সমস্যার মধ্যে রয়েছে। নেই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা। পানি শুকিয়ে যাওয়ার উপর নির্ভর করে।
নানা শ্রেণিপেশার কমপক্ষে ২০ জন পৌর নাগরিকের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, বর্তমান মেয়র ঘোষিত বাজেটে পৌর নাগরিকদের হতাশ করেছন। সবখানে যখন বার্ষরিক বাজেট বৃদ্ধি পায়, সেখানে পাবনা পৌরসভার বাজেট কমপক্ষে অর্ধশতকোটি টাকা কম হওয়ায় নাগরিক সুযোগ সুবিধা পাওয়ায় সবাই হতাশ।
পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, অপরিকল্পিতভাবে নগরায়ন করার ফলে পৌরবাসীকে সীমাহীন দূর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়েছে। পৌর নাগরিক তথা ব্যবসায়ীসহ ক্রেতা বিক্রেতারা জলাবদ্ধতার কারনে নাজেহালের এক শেষ। এই সমস্যা থেকে পরিত্রান পেতে দ্রুত পরিকল্পিতভাবে সড়ক ও ড্রেনেজ নির্মান এবং নিষ্কাশনের পানি সঠিক জায়গায় পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
শহরের তাতি মার্কেটের খাজা হোমিও হলের স্বত্বাধিকারী গোলাম খাজা সাদী বলেন, শহরের পৌর এলাকার ড্রেন ও পানি নিস্কাশন ক্যানেলের চেয়ে শহর দিয়ে প্রবাহিত ইছামতি নদীর গভীরতা কমে যাওয়ার এই জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। নাগরিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে ইছামতি নদী খননের বিকল্প নেই।
এ বিষয়ে পৌরসভার মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধান বলেন, নাগরিক সুযোগ সুবিধা প্রদানে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। অসচেতন পৌরবাসী যত্রতত্র পলিথিনসহ ব্যবহ্ত জিনিস ফেলার কারনে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও ব্যবসায়ীসহ মাছ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কার্টুন, পলিথিন, মোড়ক ড্রেনের মধ্যে ফেলার কারনে ড্রেন আটকে গিয়ে জলাবদ্ধতা তৈরী হচ্ছে। বাড়িওয়ালারা নির্মাণ সামগ্রী ড্রেনের উপরে রাখার কারনেও সমস্যা হচ্ছে।
মেয়র শরীফ প্রধান বলেন, আমাদের কর্মিরা নিয়মিতভাবে কাজ করছেন। পূর্বের মেয়রদের অপরিকল্পিত কাজগুলো পরিকল্পনার মধ্যে আনতে কিছুটা সময় লাগছে। গত বছরের বাজেটের চেয়ে সদ্য ঘোষিত বাজেট প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা কম হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বাজেট কম হলেও নাগরিক সুযোগ সুবিধায় কোন সমস্যা হবে না। অন্যান্য মেগা প্রকল্প দিয়ে সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।