সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি: মরণব্যাধি ক্যানসার রোগে আক্রান্ত সৈয়দপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল হক প্রতারণার শিকার হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে প্রতারকচক্র তাঁর কাছ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ডাকবিভাগের মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যম নগদ একাউন্টর মাধ্যমে দুই দফায় এই টাকা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে সৈয়দপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টায় তামিম নামে একজন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক পরিচয় দিয়ে মোবাইলে জানায় আপনার অসুস্থতার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অবগত আছেন। এসময় ফোনে তাঁর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার ব্যয়ের প্রয়োজনীয় টাকার পরিমান জানতে চায় প্রতারক চক্রের ওই সদস্য। এতে তিনি ভারতে চিকিৎসার জন্য আরও ৭ লাখ টাকার প্রয়োজন বলে জানান শয্যাশায়ী বীরমুক্তিযোদ্ধা একরামুল হক।
এসময় তামিম পরিচয় দেওয়া ওই প্রতারক জানান, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে আজ সোমবার বিকেলের মধ্যে চিকিৎসার জন্য ৬ লাখ টাকা পাবেন। এজন্য ওই মন্ত্রণালয়ের একটি ফরম কিনতে হবে। ফরম কেনা বাবদ সাড়ে ৫ হাজার টাকা পাঠাতে হবে। সে তার বস শামিম মোরশেদ নামে এক ব্যক্তির মোবাইল নাম্বার দিয়ে তার সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
তাদের কথায় ত্রান ও দূর্যোগ মন্ত্রণালয়ের ফরম কেনার জন্য ০১৭৪০৯২১৪৬৯ হতে ৪ হাজার টাকা (যার ট্রানজেকশন নাম্বার-৭১৮
-এফআর৯২বিএন) ও ০১৮২১০৫৪৫৫৫ নাম্বার থেকে ১ হাজার ৫শত টাকাসহ সাড়ে ৫ হাজার টাক ০১৬১৩৬৩১৪৫৮ নাম্বারের নগদ এ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়।
পরে ওই নাম্বারে ফোন দেওয়া হলে প্রতারক চক্রের মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে ক্যানসার আক্রান্ত রোগি বীরমুক্তিযোদ্ধা একরামুল হক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
তিনি জানান, অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিনা। বিভিন্নজনের কাছে ধারদেনা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু প্রতারকরা আমাকেও ছাড়লনা।
সৈয়দপুর থানার ডিউটি অফিসার এসআই সাহিদুর রহমান বলেন, ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতারক চক্রকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। দ্রুত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। (ছবি আছে)