বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমান অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন পদ্ধতি মাফিয়াদের মতো। মাফিয়ারা যেমন কোন নিয়ম কানুন এবং আইনের তোয়াক্কা করে না তাদের কোন স্বার্থে আঘাত আসলে গুলি পর্যন্ত করে। এই সরকার পুরোপুরিভাবে মাফিয়াদের বৈশিষ্ট সম্বলিত। গোটা দেশটাকে তারা দখল করে দেশের মানুষকে পরাধীন করে রেখেছে। শনিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বিরোধীদলের সভা-সমাবেশের কোন অধিকার নেই। বিএনপি কোন সমাবেশ করতে গেলে প্রেসক্লাবের সামনে চারদিক ঘেরা স্থানে অনুমতি দেওয়া হয়। অথচ গণমাধ্যমে দেখলাম রাজধানীর ৭টি বড় পয়েন্টে আওয়ামী লীগ সমাবেশ করছে। এক দেশে দুই আইন চলছে।
বিএনপির এই মুখপাত্র অভিযোগ করে বলেন, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার বাসভবনে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মিছিল থেকে হামলা চালিয়ে তার বাড়ির আসবাবপত্র, গাড়ি ভাঙচুর করে এবং ৪টি মোটর সাইকেল জ্বালিয়ে দেয়। এছাড়াও আশেপাশের বিএনপি সমর্থিত ব্যবসায়ীদের অন্তত ২৫টির অধিক দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করে এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পুলিশের সহযোগিতায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য বিরতণ করার সময় আওয়ামী, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দুস্থ মানুষের খাদ্য ছিনিয়ে নেয় এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। এসময় বিএনপি’র প্রায় ৫০ জনের অধিক নেতাকর্মী আহত হয়। অথচ এই ঘটনায় স্থানীয় যুবলীগ নেতা- সেলিম বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানার বিএনপির সভাপতিসহ ১৭৫ জন বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। রিজভী অভিযোগ করে বলেন, সরকারের মন্ত্রীদের নির্দেশেই বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর একের পর এক হামলা করা হচ্ছে। ঢাবিতে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলার পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছাত্রলীগকে বাহবা দিয়েছেন। তাদের ভবিষ্যতে আরও হামলা করার জন্য উৎসাহিত করেছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪১৩ম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপির খাবার বিতরণ কর্মসূচি পালনকালে খুলনা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে খাগড়াছড়ি, বেগমগঞ্জসহ বিভিন্নস্থানে বিএনপির কর্মসূচিতে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল খালেক, মো. মুনির হোসেন, তারিকুল ইসলাম তেনজিং,আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ।