ধানের শীষে শিশির বিন্দু, শিশিরে ভেজা ঘাস, ঘন কুয়াশায় চারপাশ ঝাপসা, এমন দৃশ্যগুলো সাধারণত শীতকালেই হয়ে থাকে। তবে শীত না আসলেও শেরপুর ও দিনাজপুরের হিলিতে হঠাৎ করেই বৈশাখের এই খরতাপে পাওয়া গেল শীতের আমেজ।
শেরপুর প্রতিনিধি: বৈশাখ মাসের শেষে হঠাৎ কুয়াশার চাঁদরে ঢাকা পড়ছে শেরপুরের জনপদ। শনিবার ভোরে মাঝারি ও ঘন কুয়াশার কারণে সামান্য দূরের জিনিসও দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল না। ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলেছে কুয়াশার রাজত্ব। তবে শনিবার ভোর থেকে জেলার সড়ক ও মহাসড়কে বাস ও ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলেছে। কুয়াশামাখা বৈশাখের সকালে প্রাতঃভ্রমণে আসা এবং কাজে বের হওয়া অনেকেই বলছেন, এ অসময়ে এ ধরনের কুয়াশা একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। সাধারণত শীতে এমন কুয়াশা দেখা যায়। বৈশাখ মাসের শেষদিকে এমন ঘনকুয়াশা পড়তে ইতোপূর্বে দেখেননি অনেকেই। এটাকে প্রকৃতির ঋতুর বৈচিত্রতা বলেও অনেকে মন্তব্য করছেন। সেইসঙ্গে প্রকৃতি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপ ধারণ করে এটাই স্বাভাবিক বলেও অনেকে মনে করেন। এখন শেরপুরে মাঝে মধ্যেই একদিকে শিলাবৃষ্টি ও ঝড় হচ্ছে এবং অন্যদিকে গরমের মাত্রা বাড়ছে। আবার কখনো হালকা শীতের পরশও লাগছে। এদিকে শনিবার ভোরে কুয়াশার মাখামাখিতে শেরপুরে এক অন্যরকম প্রাকৃতিক পরিবেশ বিরাজ করায় তা মানুষ উপভোগ করেছেন এবং তারা বিস্মিতও হয়েছেন। শনিবার সকালে প্রাতঃভ্রমণকালে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান বলেন, এপ্রিল মাসে সাধারণত এ ধরনের কুয়াশা হয় না। আজকের যে কুয়াশা পড়েছে এটা একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। সকালে যখন রওনা হই বাসা থেকে দেখলাম অনেক কুয়াশা। কুয়শার মধ্যে প্রায় ৪০ মিনিট হেঁটে আসলাম। ভালোই লাগল। প্রকৃতি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপ ধারণ করে- এটাই স্বাভাবিক। রিকশাচালক আব্দুল খালেক বলেন, আজকে সকাল থেকেই ঘন কুয়াশা পড়ছে। কোনো কিছু দেখা যায় না। আমার বয়সে বৈশাখ মাসে এমন কুয়াশা দেখি নাই। এটাই প্রথম দেখলাম। হোটেল শ্রমিক সোলেয়মান বলেন, সকাল থেকে ঘন কুয়াশা। কোনো কিছুই দেখা যায় না। এভাবে আর দেখি নাই। ফুটপাতের দোকানি আবুল মিয়া বলেন, এ রকম কুয়াশা বৈশাখ মাসে আর পড়ে নাই। আজ দেখলাম। প্রাতঃভ্রমণে আসা গৃহবধূ রোখসানা বেগম বলেন, বৈশাখ মাসে এইভাবে কুয়াশা পড়ে, আমরা এতদিন দেখি নাই। সকাল উঠে দেখি অনেক কুয়াশা পড়ছে। গাছপালা এবং চারদিক ধোঁয়া ধোঁয়া লাগছে। আরেক প্রাতঃভ্রমণকারী আব্দুল মালেক বলেন, শীতের মতো খুব কুয়াশা। বৈশাখ মাসে এমন কুয়াশা হতে জীবনে দেখি নাই। শ্রমজীবী নারী মর্জিনা বেগম বলেন, এই রকম কুয়াশা পড়তে আর দেখি নাই। কুয়াশা পড়লে শীতের মধ্যে পড়ে। বৈশাখ মাসে এ রকম কোনোদিন দেখি নাই। এখন দেখতাছি।কাঁচামালের ব্যবসায়ী আমিনুল বলেন, আজ শনিবার বৈশাখ মাসেই শীতের মতো ঘন কুয়াশা, কোনো কিছুই দেখা যায় না।
হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: শনিবার ভোরের দৃশ্যটা ছিল পুরোপুরিই শীতকালের। যদিও শীতকালে যে ধরনের তাপমাত্রা থাকে তেমন তাপমাত্রা ছিল না। শুক্রবার রাত থেকেই হিলির আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় এমন কুয়াশার দৃশ্য দেখা মিলেছে। স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন আগেই এই এলাকায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। দিনে প্রচুর রোদের দেখা মিলছে। আর রাত নামার সঙ্গেই শীতের আমেজের মতো কুয়াশায় ছেয়ে যাচ্ছে। তবে এটি বেশ কয়েকদিন ধরেই চলছে। দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র কর্মকর্তা তোফাজ্জুল হোসেন জানান, সাধারণত বড় বৃষ্টির পরে মাঝে মধ্যে কুয়াশার দেখা মেলে। বৃষ্টির পরে রোদ হওয়ায় জলীয় বাস্পের জন্য কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। এটি স্বাভাবিক একটি অবস্থা।