জার্মান রাষ্ট্রদূত ‘মিস কোট’ করেছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জার্মানির রাষ্ট্রদূত আখিম ট্র্যোস্টার যে কথাগুলো বলছেন, এ কথাগুলো সঠিক বলেননি। কারণ আমাদের যিনি বক্তব্য রেখেছেন তিনি তাকে কোট করে কোনো কথা বলেননি। তিনি যে জেনারেল কথা বলেছেন, সেটা মিস কোট করেছেন তিনি। ‘কয়েকটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাতে ষড়যন্ত্র করছে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য থেকে প্রমাণিত হয় যে, অবৈধ প্রধানমন্ত্রী এবং অবৈধ যে সরকার আছে, তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে দেশ পরিচালনা করতে। দেশকে সুষ্ঠু জায়গায় নিয়ে আসতে। দেশে সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে তারা ব্যর্থ।তিনি বলেন, দেশের মানুষ দাবি তুলেছে, এ মুহূর্তে এ সরকারের পদত্যাগ করা উচিত। নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নিরপেক্ষ সরকারের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন করা জনগণের দাবি। ‘আওয়ামী লীগের অপরাধটা কী যে সরকার হটাতে চায়’ প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি বলেছেন- তাদের অপরাধ কী। আমি বলছি, উনারদের অপরাধ হচ্ছে ভয়ংকর অপরাধ। এদেশে তারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছেন, দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার অর্জন ধুলিসাৎ করে দিয়ে আজকে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। নিউমাকের্ট সংঘর্ষের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে আবার প্রমাণিত হয়েছে দেশে আসলে কোনো সরকার নাই। এই সরকার সম্পূর্ণ একটা ব্যর্থ সরকারে পরিণত হয়েছে এবং তারা এ রাষ্ট্রকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। মির্জা ফখরুল বলেন, পুলিশের চোখের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সংঘর্ষ হয়েছে। সেটাকে বন্ধ করার কোনো পদক্ষেপ তারা গ্রহণ করে নাই। নিরপেক্ষতার নামে এই সংঘর্ষকে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য তারা আরো বেশি সহযোগিতা করেছে। এ হত্যার জন্য তারাই দায়ী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নবগঠিত আংশিক কমিটির সদস্যদের শপথ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটি শপথ গ্রহণ করেছে। তারা জাতীয়তাবাদী দলকে অত্যন্ত সবল ও গতিশীল এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য তারা সর্বাত্মক শক্তি নিয়োগ করবে। একইসাথে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে সারাদেশে একটি শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করবে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নবগঠিত আংশিক কমিটির সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, সিনিয়র সহসভাপতি রাশেদ ইকবাল খান, প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়াকে নিয়ে বিএনপি মহাসচিব শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। পরে কবরের সামনে নতুন ছাত্র নেতৃত্ব মুঠবদ্ধ হাত উঁচিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দলের চেয়ারপারসনের খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে শপথবাক্য পাঠ করেন। শপথে জিয়া পরিবার ও বিএনপির মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার করেন ছাত্রদলের নেতারা। এ সময়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা ড. আসাদুজ্জামান রিপন, ফজলুল হক মিলন, আজিজুল বারী হেলাল, হাবিবুর রশীদ হাবিব, আকরামুল হাসান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের সদ্য বিদায়ী সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল উপস্থিত ছিলেন। গত ১৭ এপ্রিল ফজলুর রহমান খোকন ও ইকবাল হোসেন শ্যামলের নেতৃত্বে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করে শ্রাবণ ও জুয়েলের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পরে বিএনপি মহাসচিব আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব অতি অল্প সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে সারাদেশে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে অতীত ঐতিহ্য অনুযায়ী একটি শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে তারা তাদের অক্ষুণ্ন রাখবে এবং সামনের দিকে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাবে।
এ সময় ছাত্রদলের নতুন কমিটির সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রুহুল কবির রিজভী, ফজলুল হক মিলন, আজিজুল বারী হেলাল, ফজলুর রহমান খোকন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।