সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, এ অবৈধ সরকারের পতন ঘটাতে আরেকটি গণতান্ত্রিক যুদ্ধের জন্য সবাইকে প্রস্তুত হতে হবে। তিনি জানান, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব শিগগিরই সরকার পতনের আন্দোলনের ঘোষণা দিবেন। সে আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। সোমবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ঢাকার নবাবগঞ্জের কলাকোপা পুকুরপাড়ে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা পৃথক বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। গয়েশ্বর বলেন, ‘সরকার জনগণকে ভয় পায় বলে তারা বিএনপিকে খোলা মাঠে সমাবেশ করতে দেয় না।’ এসময় তিনি বলেন, ‘বিএনপি বিদেশী প্রভুত্বের উপর বিশ্বাস করে না। বিএনপি জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ সরকার অবৈধ সরকার, মামলাবাজ সরকার, লুটপাটের সরকার। লুটপাটে দেশটাকে দেউলিয়া করে দিয়েছে। লুটপাট স্থায়ী করতে প্রশাসনের সহযোগিতায় রাতে ভোট দিয়ে টিকে আছে। কাজেই নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া এ সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না।’ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ‘স্লোগান আর ভাষণ দিয়ে এই জালিম সরকারকে পতন ঘটানো সম্ভব নয়। দেশের মঙ্গল চাইলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘দরবেশ বাবারা দেশ চালাচ্ছেন। এই দরবেশ বাবারা জনগণকে ভয় পায় বলেই তারা বিরোধী দলকে সভা-সমাবেশ করতে দেয় না। আপনারা দরবেশ বাবাদের ভয়ে ভীত হবেন না কয়েকদিন পর দেখবেন এই দরবেশ বাবারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবে।’ সম্মেলন উদ্বোধন করেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা: দেওয়ান সালাহউদ্দিন বাবু। প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক। নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আজাদুল ইসলাম হাইয়ের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপির জাতীয় কমিটির সদস্য তমিজ উদ্দিন, অ্যাড. নিপুণ রায় চৌধুরী। সম্মেলনে আজাদুল ইসলাস হাই পান্নুকে সভাপতি ও আবুল কালাম খন্দকারকে সাধারণ সম্পাদক করে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে দুপুরে একই স্থানে নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সম্মেলনের মাধ্যমে দোহার উপজেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে নজরুল ইসলাম মেছেরকে দোহার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও মাসুদ পারভেজকে সাধারণ সম্পাদক ও জীবন বেপারীকে সহ-সভাপতি নির্বাচিত করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়। এদিকে, সম্মেলনের শুরুর আগে নবাবগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপির পদবঞ্চিত কিছু নেতাকর্মী। বিএনপির সাবেক উপজেলা সভাপতি আবেদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ এ বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃত্ব দেন। এ সময় নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, বিএনপির ত্যাগী, পরীক্ষিত, বিভিন্ন সময় হামলা-মামলার শিকার নেতাদের বাদ দিয়ে অযোগ্য, অপেক্ষাকৃত নতুন ও আত্মীয়-স্বজনদের দিয়ে পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। সভাশেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি নবাবগঞ্জ উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফিরে আসে।