মহাদেবপুর (নওগাঁ) সংবাদদাতাঃ নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০ ছাত্রীকে পেটানোর ঘটনায় এলাকায় এখনো টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয়রা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ছাত্রী পিটানোর অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষিকা আমোদিনি পালের বাড়ি ও দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে গতকাল শনিবার জেলা শিক্ষা অফিসার মো. লুৎফর রহমান বিদ্যালয়ে এসে এ ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা, ছাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেছেন। অভিভাবক ও ছাত্রীরা অভিযোগ করেন, গত বুধবার দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা আমদিনি পাল স্কুলে হিজাব পড়ে আসার অপরাধে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর ২০ জন ছাত্রীকে বাঁশের ছড়ি দিয়ে বেধরক পেটায়। অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী সাদিয়া জানায় জাতীয় সংগীত শেষ হওয়ার পর শিক্ষিকা আমোদিনি হিজাব পড়ে আসা বিভিন্ন শ্রেণীর ২০ জন ছাত্রীকে ডেকে বলে তোমরা হিজাব পড়ে এসেছো কেন? ছাত্রীরা তখন জানায়, আমরা মুসলিম মেয়ে এ কারণে হিজাব পড়েছি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষিকা আমোদিনি মারপিট শুরু করে বলে অভিযোগ করা হয়। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা আমোদিনি পাল হিজাব পরে আসার অপরাধে মারপিটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্কুল ড্রেস না পরার কারণে ছাত্রীদেরকে শাসন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রীদের অভিভাবকরা গত বৃহস্পতিবারই ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির পর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল মালেককে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।