1. nobinbogra@gmail.com : Md. Nobirul Islam (Nobin) : Md. Nobirul Islam (Nobin)
  2. bd.momin95@gmail.com : sojibmomin :
  3. bd.momin00@gmail.com : Abdullah Momin : Abdullah Momin
  4. bd.momin@gmail.com : Uttarkon2 : Uttar kon
বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
ভারতের সংসদ শ্রদ্ধা জানালো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে একটি দলের শীর্ষ নেতারা পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে: বিএনপি প্রযুক্তি খাত থেকেই ভবিষ্যৎ রচনা হবে : ড. ইউনূস বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র-মার্কিন রাষ্ট্রদূত সহিংসতা বন্ধ করে কল্যাণের রাজনীতির পক্ষে দাঁড়াতে চাই-ডা: শফিকুর রহমান বগুড়ায় আসছেন তারেক রহমান বইছে উৎসবের আমেজ বগুড়াতে বিএনপির বাহিরে অন্য প্রার্থীকে ভোট দিবেনা মানুষ-ভিপি সাইফুল মোহনপুরে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের একদিনের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত গাবতলীতে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণা ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে ১০৮টির মধ্যে ৭০টি অবৈধ

সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগীতায় চাকুরী দেয়ার নামে ১৪ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়া স্বামী-স্ত্রী আটক

  • সম্পাদনার সময় : মঙ্গলবার, ২২ মার্চ, ২০২২
  • ২১৩ বার প্রদশিত হয়েছে

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি: সরকারী হাসপাতালে চাকুরী দেয়ার নামে ৩২ জনের কাছ থেকে ১৪ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে এক দম্পতিকে আটক করেছে প্রতারণার শিকার কয়েক যুবক। আটকরা হলেন মোঃ জাহিদুল ইসলাম (৪৮) ও তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস (৪০)। সোমবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাতে সৈয়দপুর শহরের রেলওয়ের বাজার থেকে আটক করে তাদের স্টেডিয়াম এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ আটক স্বামী-স্ত্রী কে সৈয়দপুর থানায় নিয়ে আসে। জানা যায়, পঞ্চগড় সদরের পাটোয়ারিপাড়ার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ঢাকাস্থ মতিঝিলের ৩৫ দিলকুশা (৪ তলা) ঠিকানার “গোল্ডেন সার্ভিস লিমিটেড কোম্পানি”র নির্বাহী পরিচালক পরিচয়ে বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে চাকুরী দেয়ার নামে দিনাজপুর, সৈয়দপুর, জয়পুরহাট ও কুড়িগ্রামের প্রায় ৩২ জনের কাছ থেকে ১৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দীর্ঘ দিন থেকে আজকাল করে চাকুরীপ্রার্থীদের সাথে প্রতারণা করে আসছে। এর মধ্যে দুইজনকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে চুক্তিভিত্তিক ‘ওয়ার্ড বয়’ পদে চাকুরী দিয়েছেন।এর বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে তিন লাখ ৫০ হাজার করে সাত লাখ টাকা নিয়েছেন জাহিদুল ইসলাম। তারা হলো দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার রুহিগাঁও এলাকার মহেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে দুলাল চন্দ্র রায় (৩০) ও সিশেন চন্দ্র রায়ের ছেলে স্বপন চন্দ্র রায় (২৮)। গত ১৭ মার্চ তারা যোগদান করেছে। এছাড়াও একইভাবে তিন থেকে ৫ লাখ করে টাকা নিয়ে আরও ৩ জনকে ইতোমধ্যে চাকুরী দিয়েছেন। যারা গত তিনমাসে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা করে বেতন পেয়েছে। যা চুক্তি অনুুুুযায়ী একেবারে নগন্য। মূলতঃ এই চাকুুুরী ও নামকাাওয়াস্তে বেতন দেয়াটা অন্য চাকুরী প্রার্থীদের হাতে রাখতে আইওয়াস মাত্র বলে অভিযোগ। যাতে হাতিয়ে নেয়া টাকা ফেরতে চাপ দেয়া না হয়। অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দুই একজনকে এভাবে ভূয়া নিয়োগ দিয়ে বিশ্বাস জিইয়ে রেখে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়াই জাহিদুলের কারবার। এমতাবস্থায় গত ১৭ মার্চ সৈয়দপুরের পার্শবর্তী দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার বিন্যাকুড়ি এলাকার আজিজার রহমানের ছেলে আতিকুর রহমানকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে যোগদানের জন্য নিয়োগপত্র প্রদান বাবদ ৫ লাখ টাকা দাবী করে। আতিকুর ইতোপূর্বে নিয়োগপ্রাপ্তদের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষন করে বুঝতে পারে যে নিয়োগের নামে এটা প্রতারণা।কারণ নিয়োগপ্রাপ্তদের চুক্তিমত বেতন না দেয়ায় মানবেতর অবস্থায় পড়ে অনেকে চাকুরী ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এতে চাকুরীর জন্য দেয়া টাকা মার যায়। সেইসাথে অনেকে নিয়োগপত্র নিতে চাহিদামত টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের চাকুরী যেমন হয়না তেমনি অগ্রীম দেয়া ৩০-৫০ হাজার টাকাও ফেরত পায়না। অনেকে চাকুরীতে যোগদান করেও বছর শেষে লাভবান হওয়া তো দূরের কথা চাকুরীর জন্য দেয়া মূল টাকাও তুলতে পারেনা। মাঝখান থেকে সময় ও শ্রম নষ্ট করে চুক্তির মেয়াদ শেষে খালিহাতে বাড়ি ফিরতে হয়। সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালেরই এমন ২৮ জন কর্মচারী দীর্ঘ ৮ মাস যাবত বেতন না পেয়ে চরম দূর্বিসহ পরিস্থিতিতে দিনাতিপাত করছে।এমন অবস্থার প্রেক্ষিতে চাকুরীর নিয়োগপত্র নিতে দাবীকৃত ৫ লাখ টাকা দেয়ার কথা বলে কৌশলে জাহিদুল কে সৈয়দপুরে ডেকে আনে আতিকুর রহমান। সোমবার রাতে জাহিদুল স্বস্ত্রীক সৈয়দপুরে আসলে আশেপাশের আরও অনেক চাকুরীপ্রার্থী উপস্থিত হয়ে তাদের সৈয়দপুর স্টেডিয়ামে নিয়ে যায়। সেখানে তারা অগ্রীম দেয়া টাকা ফেরত চায়। এতে জাহিদুল ১৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকার মধ্যে মাত্র ২ লাখ টাকা দিতে চায়। বাকী টাকা দিতে পারবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেয়।,এতে বাধ্য হয়ে যুবকেরা স্বামী-স্ত্রী কে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আটক জাহিদুল ইসলাম বলেন, সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে লিখিত চুক্তির ভিত্তিতেই আমি জনবল নিয়োগ দিয়েছি। সেই আলোকেই হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসকের সুপারিশকৃত ১৬ জন জনবলসহ আমার নিয়োগকৃত ৭ জন কর্মরত। উপ-পরিচালকের অনুমতিক্রমেই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি সবই জানেন। এদিকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা: মো: আব্দুল্লাহেল মাফির কার্যালয়ে গেলে তিনি ক্যামেরার সামনে সংবাদকর্মীদের কোনরকম বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে প্রশ্নের প্রেক্ষিতে বলেন, জাহিদুল প্রতারণা করায় তার নিয়োগকৃত দুইজনকে সোমবার বের করে দিয়েছি। তার চাকুরী দেয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়া বিষয়ে আমাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। কিসের ভিত্তিতে আপনি জাহিদুলের সরবরাহকৃত জনবলকে হাসপাতালের কাজে লাগিয়েছিলেন? সব চিকিৎসক মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিয়ে মৌখিকভাবে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত কোন লিখিত রেজুলেশন দেখাতে ব্যর্থ হন সকল চিকিৎসকেরাই। আপনাদের ও প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে এতবড় প্রতারণার পরও কেন আপনারা জাহিদুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন না? এমন প্রশ্নে তিনি চুপসে যান এবং আমতা আমতা করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি সংবাদকর্মীদের বসিয়ে রেখে গোপনে সটকে পড়েন। সূত্রের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি এই নিয়োগ বাণিজ্য সিন্ডিকেট এর সাথে জড়িত। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “সৈয়দপুর ইউনাইটেড ভলেন্টিয়ার এসোসিয়েশন (শোভা) এর দেশ আলোচিত সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে কৌশলে সেই পদ্ধতিতেই ভলেন্টিয়ার নিয়োগের নামে ওই সিন্ডিকেট কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আটক জাহিদুল এদের একজন সদস্যমাত্র। গোপন আতাত যাতে ফাঁস হয়ে না পড়ে এজন্য জাহিদুলের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন আইনী ব্যবস্থা নেয়নি। সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসনাত খান বলেন, আটক জাহিদুল চাকুরী দেয়ার নামে টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেছে। তবে এখনও প্রতারণার বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। কারণ অভিযোগকারীদের কাছে তেমন কোন প্রমাণপত্র নেই। কিন্তু ঘটনা সত্য হওয়ায় স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © 2025 The Daily Uttar Kon. All Rights Reserved.
Powered By Konvex Technologies