জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, লাগামহীন দ্রব্যমূল্য না কমালে এবং দুর্নীতি বন্ধ না করা হলে জনগণের সাথে জাতীয় পার্টিও রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ ভালো নেই। মানুষ খুব কষ্টে আছে। কোভিডের কারণে মানুষের চাকরি গেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যেই সরকার জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এত দাম যা মানুষের সহ্যের বাইরে, ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। অথচ সরকারের মন্ত্রীরা বিষয়টি নিয়ে হাস্যকর কথা বলছেন। তিনি বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রী বলছেন – নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস তথ চাল-ডালের অভাব নাই। অভাব নাই তাহলে বাবা মূল্যটা বাড়লো কেন? যারা মূল্য বাড়ায় তাদের কি এতই ক্ষমতা? তোমার প্রশাসন আছে, পুলিশ আছে, আর্মি আছে, এগুলো নিয়ে বসে আছো কেন। তার মানে তুমিও কি ওই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত? তা না হলে ব্যবস্থা নিচ্ছো না কেন? খাদ্যমন্ত্রী বললেন, দেশে এযাবৎকালের সবচেয়ে বেশি খাদ্য মজুদ আছে। প্রায় ২০ লক্ষ টন! তাহলে সাধারণ মানুষ খাদ্য পাচ্ছে না কেন। তাহলে কি মনে করবো চালের ব্যবসায়ীদের সাথে আঁতাত করে আপনি কোটি কোটি টাকার মালিক হচ্ছেন?’ শুক্রবার বিকেলে তার নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার উরদীঘি দাখিল মাদরাসার নতুন ভবন উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে গিয়ে জাপ মহাসচিব এই মন্তব্য করেন। মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘দেশের পাঁচ কোটি মানুষ বেকার। লাখ লাখ ছেলেমেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মাদরাসায় পড়ালেখা করে বসে আছে, চাকরি নাই। সরকারের এ ব্যাপারে কোনো চিন্তাই নেই। তাদের শুধু ক্ষমতায় থাকার লড়াই। জনগণের দিকে কোনো লক্ষ্য নেই তাদের।’ জাতীয় পার্টির অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাথে আমাদের নির্বাচনী জোট ছিল। এখন আমাদের কোনো জোট নেই। কিসের আবার মহাজোট-ফোট। আমরা বিরোধী দলে আছি। সরকার অন্যায় করলে এটার প্রতিবাদ করতে হবে।’ ‘এই সরকার ৪০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে খেয়ে ফেলেছে তাদের বড় বড় নেতারা। এগুলোর হিসাব আমরা চাই। সোজা কথা, দ্রব্যমূল্য যদি না কমাতে পারে, সরকার সুশাসন যদি কায়েম না করে, দুর্নীতি বন্ধ না করে জাতীয় পার্টিও জনগণের জন্য রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। আর তখন এ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত না করে ঘরে ফিরবে না’, বলেন চুন্নু। আওয়ামী লীগ তিন-চারবার জাতীয় পার্টির সমর্থনে ক্ষমতায় এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এখন বাঘের পিঠের মধ্যে বসেছে। ক্ষমতা হারালে, আর বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় এলে, তাদের যে কী অবস্থা হবে আল্লাহই জানেন। আওয়ামী লীগ কর্মীদের বাড়িছাড়া, ঘরছাড়া করবে। পালানোর জায়গা পাবে না তারা। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে বিএনপিও নিরাপদ আওয়ামী লীগও নিরাপদ। সে লক্ষ্যেই জাতীয় পার্টি কাজ করে যাচ্ছে।’ আগামীতে জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে নির্বাচন করবে বলে জানিয়ে দেন তিনি। উরদীঘি দাখিল মাদরাসা মাঠে আয়োজিত সভায় চুন্নু আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মারা যাওয়ার চার বছর পর চার-পাঁচটা ভাগ হয়ে গেছিল আওয়ামী লীগ। মনে আছে? মিজান গ্রুপ, বাকশাল গ্রুপ আরো কত কী। এই সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না।’ চুন্নু বলেন, ‘আমাদের মাটির নিচ দিয়ে টানেল দরকার নাই মাটির উপরে দিয়ে ট্রেন দরকার নাই। আমাদের দরকার লাখ লাখ বেকারের চাকরি। মানুষের চিকিৎসার জন্য প্রত্যেক উপজেলায় বড় বড় হাসপাতাল দরকার।’
করিমগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি আবু জাহেদ মাস্টারের সভাপতিত্বে ও গুণধর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল হক আব্দুল আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খান দিদার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল সাকির নুরু সিকদার, গুণধর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া রতন প্রমুখ।