বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে দেশে আজ শাসরুদ্ধকর অবস্থা বিরাজ করছে। জনগণের কাছে জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা নেই বলেই বর্তমান সরকার দফায় দফায় পানি, তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনজীবনে এক দুর্বিসহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। এই দখলবাজ সরকার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। তিনি বলেছেন, জনগণের হারানো অধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে দরকার নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার। তাই ফ্যাসিস্ট সরকার হঠাতে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সকল পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ করে চূড়ান্ত আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। সোমবার বিকেলে খুলনা নগরীর কে ডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের চরম ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনায় মহানগর বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, কেন্দ্রীয় নেতা আলহাজ রকিবুল ইসলাম বকুল, বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, সহপ্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামীম, যুবদল নির্বাহী সংসদের সিনিয়র সহসভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির এজাজ খান, জেলা সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, মহানগর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তারিকুল ইসাম জহীর, জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হোসেন বাবু। সমাবেশে মহানগর ও জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য রাখেন। আমির খসরু বলেন, দুর্নীতি আর লুটপাটের বদৌলতে সরকার ও তার অনুসারীরা ফুলে ফেপে বড়লোক হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা প্রতিনিয়ত কমছে। নূন্যতম পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহ করতে পারছে না অধিকাংশ পরিবার। সরকার যখন মধ্যম আয়ের দেশের মিথ্যা দাবি তুলছে, সেই সময় একটি প্রজন্ম বেড়ে উঠছে প্রয়োজনীয় পুষ্টিচাহিদা পূরণ না করে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে সরকার জনগণের পকেট কাটছে, আর সরকারি সিন্ডিকেট মুনাফা লুটে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে জনজীবনে নাভিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু জনদুর্ভোগ লাঘবে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। কারণ তারা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসেনি। তারা অবৈধভাবে দখলদারীর মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয় দাবি করে তিনি সকল গণতান্ত্রিক পক্ষশক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে চূড়ান্ত আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান।