রাজশাহী: রাজশাহীর বাঘা উপজেলার নাজমুল হোসেন হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১৫ জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এছাড়া রায়ে প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডেরর আদেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া মামলার অভিযুক্ত বাকি ৪ আসামি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তাদের বিচার শিশু আদালতে করা হবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন বাঘা উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের মো: মিন্টু আলী (৩৫), মো: রানা (২১), মো: পানা (২৫), মো: আরিফ হোসেন (২৫), মো: শরীফ হোসেন (২২) ও নাটোরের লালপুর উপজেলার মনিহারপুর গ্রামের আরজেদ আলী ওরফে ভোলা (৪৭)। রায় ঘোষণাকালে আসামিরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত আসামিদেরকে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নিজের বোনের মেয়েকে উত্যক্তের ঘটনার প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছিলেন নাজমুল। মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের নাজমুল হোসেন তার নবম শ্রেণিপড়ুয়া ভাগ্নিকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ জানান। এ সময় আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে প্রকাশ্যে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহত নাজমুলের বাবা আজিজুর রহমান বাদী হয়ে বাঘা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তশেষে পুলিশ ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। পরে বিচারে মিন্টু, রানা, পানা, আরিফ, শরীফ ও ভোলার বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায়ে প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরো এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।
রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু গণমাধ্যমকে জানান, আদালতে ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ১৫ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। আর বাকি ৪ আসামি পূর্ণবয়স্ক না হওয়ায় তাদের বিচারের ভার শিশু আদালতের ওপর দেয়া হয়। সেখানে তাদের বিচার চলছে।
এদিকে, মামলার বাদী নিহত নাজমুল হোসেনের বাবা আজিজুর রহমান রায় ঘোষণার পর তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তিনি ন্যায়বিচার পাননি। অপরাধ বিবেচনায় আসামিদের ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল। প্রকাশ্যে অপরাধ করেছেন তারা। কী করা যায় ভেবে দেখবেন।
নিহত নাজমুলের যে ভাগ্নিকে উত্যক্ত করা হয়েছিল ওই সময় সে বাঘার খানপুর জেপি উচ্চবিদ্যালয়ের দশম ছাত্রী ছিল। রায় ঘোষণার পর এই ছাত্রীও হতাশা ব্যক্ত করেন। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে দীর্ঘদিন স্কুলের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন।
নিহত নাজমুলের চাচা আবু তালেব গণমাধ্যমকে বলেন, প্রকাশ্যে নাজমুলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছেন আসামিরা। কিন্তু রায়ে অনেকেই বেকসুর খালাস পেয়েছেন। তারা এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।