চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তাঁর স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল ও গাড়িচালক এস এম ফরহাদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাবেয়া বেগমের আদালত শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিন তাঁদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাঁদের ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন উপপরিদর্শক চুন্নু মিয়া। এর আগে, কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নোবেল ও তাঁর গাড়িচালকের নামে মামলা করেন শিমুর ভাই হারুনুর রশীদ। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুকে পারিবারিক কলহের জেরে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন ঢাকা পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার। জিজ্ঞাসাবাদে স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল মডেল শিমুকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। সোমবার (১৭ জানুয়ারি) দিনগত রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের আটক করা হয়। এর আগে ওই দিন সকালে কেরানীগঞ্জ আলীপুর ব্রিজের পাশ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিমুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুকে তার স্বামী শাখাওয়াত আলী নোবেলই হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শিমুর স্বামীকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম। ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে শিমুর স্বামী জানিয়েছেন- পারিবারিক কলহের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার সমকালকে বলেন, ‘স্বামীই শিমুর হত্যাকারী। হত্যার পর তার লাশ গুমে সহায়তা করেন গাড়িচালক।’ এদিকে শিমু হত্যার ঘটনায় কেরাণীগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন নিহতের ভাই শহীদুল ইসলাম খোকন। ছয়জন আসামির তালিকায় শিমুর স্বামী নোবেল, তার বন্ধু ফরহাদ এবং তাদের গাড়িচালককেও রাখা হয়। মামলা হওয়ার পর নোবেল ও ফরহাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নোবেলের গাড়িটিও জব্দ করা হয়। এর আগে সোমবার রাতে চিত্রনায়ক জায়েদ খানের বাসায় সংবাদ সম্মেলনে নায়িকা শিমুর ভাই শহিদুল ইসলাম খোকন বলেন, আমার বোন জামাই নোবেলই প্রথম আসামি। তার ড্রাইভার এবং বন্ধু ফরহাদ তাকে এ বিষয়ে সাহায্য করেছে। তাদের রক্তমাখা গাড়িটিও উদ্ধার করেছে র্যাব। বোন জামাইকে কেন সন্দেহ করছেন, জানতে চাইলে খোকন বলেন, ‘তার গাড়িতে রক্ত ছিল, তারা রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে ছিল না, এ সময়ের মধ্যেই লাশ ফেলে দেওয়া হয়েছে।’ এ সময় পাশে থাকা জায়েদ খান বলেন, ‘ড্রাইভারকে ধরার পরে সে সব বলেছে।’ স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে রাজধানীর গ্রিনরোড এলাকার বাসায় থাকতেন ৪০ বছর বয়সী শিমু। তিনি নিখোঁজ জানিয়ে সোমবার কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তার স্বামী নোবেল। এদিকে সোমবার সকালে কদমতলী এলাকা থেকে শিমুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সিনেমার পাশাপাশি নাটকে নিয়মিত অভিনয় করতেন শিমু। সাম্প্রতিক সময়ে ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’ নামে একটি ধারাবাহিক নাটকে কাজ করেছেন। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১৯৯৮ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘বর্তমান’ সিনেমা দিয়ে রুপালি পর্দায় তার অভিষেক হয়। এরপর ২৩টির মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ৫০টিরও বেশি নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাও করেছেন তিনি।