মহিউদ্দিন,শাজাহানপুর প্রতিনিধি :বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সহজ ও কার্যকর করতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহানাজ পারভীনের দেওয়া চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমানের উদ্যোগ ও হস্তক্ষেপে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বরাদ্দ থেকে হাসপাতালে স্থাপন করা হয়েছে হেমাটোলজি অ্যানালাইজার। এর আগে সরবরাহ করা হয়েছে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম ও অ্যান্টি-র্যাবিস ভেনম। পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের পানির সুবিধার জন্য হাসপাতালের মূল গেটের সামনে স্থাপন করা হয়েছে একটি টিউবওয়েল। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এডিপির বরাদ্দ থেকে ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওসমান এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে হেমাটোলজি অ্যানালাইজারটি স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা এলজিইডি অফিসের তত্ত্বাবধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন করা হয়। হেমাটোলজি অ্যানালাইজারের মাধ্যমে রক্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিমিতি দ্রুত বিশ্লেষণ করা যায়। বিশেষ করে হিমোগ্লোবিন, শ্বেত রক্তকণিকা, লোহিত রক্তকণিকা, প্লেটলেটসহ বিভিন্ন রক্তকণিকার পরিমাণ নির্ণয়ে এ যন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন এ যন্ত্র চালু হওয়ায় রক্তস্বল্পতা, সংক্রমণ, রক্তকণিকার অস্বাভাবিকতা ও প্লেটলেটের ঘাটতিসহ বিভিন্ন শারীরিক অবস্থার প্রাথমিক মূল্যায়নে চিকিৎসকদের সহায়তা করবে। দ্রুত রিপোর্ট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাতেও সুবিধা হবে। পাশাপাশি অনেক রোগীকে বাইরে গিয়ে রক্ত পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন কমবে। এতে রোগীদের সময়, যাতায়াত খরচ ও ভোগান্তি কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহানাজ পারভীন দায়িত্ব পালনের সময় হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও রোগীদের প্রয়োজন চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ওষুধ সরবরাহের জন্য চাহিদা দিয়ে আসছেন। তাঁর দেওয়া চাহিদার বিষয়গুলো উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে ইউএনও তাইফুর রহমানের উদ্যোগে এডিপির বরাদ্দ থেকে পর্যায়ক্রমে এসব সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় হাসপাতালে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম ও অ্যান্টি-র্যাবিস ভেনম সরবরাহ করা হয়েছে। সাপের কামড় ও জলাতঙ্কের ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের জরুরি চিকিৎসায় এসব ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে এসব জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর প্রাপ্যতা থাকায় সংকটাপন্ন রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতাও বাড়বে। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের পানির সুবিধা নিশ্চিত করতে মূল গেটের সামনে একটি টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। ফলে হাসপাতালে আসা সেবাপ্রার্থীদের খাবার ও ব্যবহারের পানির জন্য বাইরে যেতে হবে না। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোজিনা বেগম বলেন, হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা করার সুযোগ থাকলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের অনেক সুবিধা হবে। বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে সময় ও অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হয়। এখন হাসপাতালেই পরীক্ষা করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভোগান্তি কমবে। আরেক সেবাপ্রার্থী আলী রেজা বলেন, সাপের কামড় বা জলাতঙ্কের মতো জরুরি অবস্থায় প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতালে পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি রক্ত পরীক্ষা ও পানির সুবিধা থাকায় রোগী ও স্বজনদের অনেক সুবিধা হবে। এসব উদ্যোগে হাসপাতালের সেবার মান আরও ভালো হবে বলে আমরা আশা করি। উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক আতাহার আলী কাইয়ুম বলেন, উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা, জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর প্রাপ্যতা এবং রোগীদের মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে। হাসপাতালের প্রয়োজন চিহ্নিত করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহানাজ পারভীনের চাহিদা এবং ইউএনও তাইফুর রহমানের উদ্যোগে নেওয়া এসব পদক্ষেপ হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি রোগীদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাইফুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা উপজেলা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে দেওয়া চাহিদাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। এডিপির বরাদ্দের মাধ্যমে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা, জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী ও রোগীদের মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহানাজ পারভীন বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও রোগীদের প্রয়োজন বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জরুরি ওষুধের জন্য বিভিন্ন সময়ে চাহিদা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হেমাটোলজি অ্যানালাইজার স্থাপনের ফলে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করার সক্ষমতা বাড়বে এবং দ্রুত রিপোর্ট পাওয়ায় রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সুবিধা হবে। পাশাপাশি অ্যান্টি-স্নেক ভেনম ও অ্যান্টি-র্যাবিস ভেনম মজুত থাকায় জরুরি রোগীদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে। রোগী ও স্বজনদের পানির সুবিধার জন্য টিউবওয়েল স্থাপনও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এসব সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা আগের তুলনায় আরও বাড়বে।
উত্তরকোণ
শাজাহানপুর হাসপাতালে ইউএনও তাইফুরের উদ্যোগে বাড়ছে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা
