কুমিল্লার রেল ক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় দায়িত্বে থাকা দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় রেলওয়ের পক্ষ থেকে দু’টি ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের (চট্টগ্রাম) বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে কুমিল্লার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিংয়ে উঠে পড়া এক বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। শনিবার দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত ১২ জনের মধ্যে সাতজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং দুই শিশু রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ বাস-ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার বইতে তাদের নাম-পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতরা হলেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সালামত উল্লার ছেলে মো. বাবুল চৌধুরী (৫৩), ঝিনাইদহের মহেশপুরের পিন্টু মিয়ার স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬), তার দুই মেয়ে খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৪), চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (৪৬), যশোরের চৌগাছা উপজেলার ফকির চাঁদ বিশ্বাসের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৬২) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫), নোয়াখালীর সুধারাম এলাকার মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৩৩), লক্ষ্মীপুর সদরের সিরাজউদ্দৌলার মেয়ে সায়েদা (৯), ঝিনাইদহ সদরের মুক্তার বিশ্বাসের ছেলে জোয়াদ বিশ্বাস (২০), মাগুরার মোহাম্মদপুর এলাকার ওহাব শেখের ছেলে ফচিয়ার রহমান (২৬) এবং চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৮)। এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহন নামের একটি বাসের সাথে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এসময় এক ধাক্কায় বাসটিকে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি। ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। এ ছাড়াও ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব এ উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। প্রায় ৫ ঘণ্টা পর সকাল ৮টার দিকে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়। নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা ঘোষণা করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ বের করতে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ঢাকা মেইল লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মামুন স্পেশাল পরিবহনের বাসটি চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষীপুরের দিকে যাচ্ছিল।