আজাদুল ইসলাম, মহাদেবপুর (নওগাঁ) সংবাদদাতা ঃ নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরের ব্যস্ত সড়কে দীর্ঘদিন ধরে বসছে হাট। এতে জন দুর্ভোগ চরম হয়ে উঠেছে। বছরের পর বছর এ অবস্থা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয়রা জানান, ১৯৮৩ সালের দিকে তৎকালিন সদর ইউপি চেয়ারম্যান সফিউদ্দীন সরদার উপজেলা সদরের বরেন্দ্র অফিস এলাকায় হাটের জন্য কয়েক বিঘা জমি ক্রয় করেন। কিন্তু সেই জমি গুলো বেদখল থাকায় সেখানে হাট বসানো সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা ওই জমি গুলো উদ্ধার করে সেখানে হাট স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন। জানা গেছে, উপজেলা সদরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে শহরের শিবগঞ্জ মোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার বাইপাস সড়কে সপ্তাহের প্রতি বুধবার ও শনিবার হাট বসছে। এই বাইপাস সড়ক দিয়ে নিয়ামতপুর ও পোরশা উপজেলার বাসিন্দাদের জেলা শহরে যাতায়াত করতে হয়। এ সড়কের পাশেই অবস্থিত মহাদেবপুর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়। হাটবারে হাটে আসা লোকজনদের ভিড় ঠেকাতে বন্ধ রাখতে হয় উপজেলার পশ্চিম গেট। এতে বিভিন্ন কাজে উপজেলায় আসা লোকজনদেরকে অনেক ঘুরে পূর্ব গেট দিয়ে উপজেলা চত্বরে প্রবেশ করতে হয়। শহরের কুঞ্জবন এলাকায় আত্রাই নদীর ওপর নতুন সেতু হওয়ার পর সড়কটি প্রশস্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের বক চত্বর মোড় থেকে পোস্ট অফিস মোড় এলাকা পর্যন্ত অস্থায়ী খুচরা ও পাইকারি বাজার বসছে। আর হাট বসছে সপ্তাহের শনি ও বুধবার। হাটের দিন শহরের বক চত্বর মোড় থেকে পূর্ব দিকে উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত সড়কের ওপর প্রায় ৪০০ মিটারে চলে ধান কেনা-বেচা। সড়কের ওপর আড়ত বসিয়ে ধান কেনা-বেচা করেন ব্যবসায়ীরা। হাটের দিনগুলোতে যানজট এতটাই তীব্র হয় যে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রী ও পথচারীদের। স্থানীয় সর্বমঙ্গলা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদের প্রধান গেট থেকে বক চত্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে চলছে ধান কেনা-বেচা। ধান কিনে রাস্তার ওপরই স্তূপ করে রাখা হয়েছে। সড়কের মাঝখানেই ট্রাক দাঁড় করিয়ে স্তূপ থেকে ট্রাকে ধান লোড করা হচ্ছে। বক চত্বর মোড় থেকে পোস্ট অফিস মোড় সড়কের দুই পাশে দোকান বসিয়ে আলু বেগুন প্রভৃতি পণ্য কেনাবেচা করা হচ্ছে। এতে সড়কটি সংকুচিত হয়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা সদরের বাসিন্দা ছাইদুর রহমান বলেন, ‘আগে সড়কটি বাইপাস সড়ক হিসেবে ব্যবহার হতো। তখন সড়কটি দিয়ে মানুষের চলাচল কম হতো। সড়কের ওপর ধানের আড়ত ও বাজার বসলেও সমস্যা হতো না। এখন এটি প্রধান সড়কে পরিণত হয়েছে। এখন যান ও পথচারী চলাচল অনেক বেড়ে গেছে। অনতিবিলম্বে এই সড়কের ওপর হাটবাজার বসা বন্ধ করা উচিত। এ হাট থেকে প্রতিবছর মোটা অংকের রাজস্ব আদায় হলেও হাটের স্থায়ী জায়গা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এ হাটে আসা ক্রেতা বিক্রেতারা। এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহকারী কমিশনার ভূমি জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জণভোগান্তির কথা স্বীকার করে বলেন, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে এ সমস্যাটি সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।