বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) এর ওয়ানডে টুর্ণামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে বগুড়ায় দাপুটে জয় পেয়েছে তারকায় ভরা নর্থ জোন। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে ইষ্ট জোনের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে আকবর আলীর দূর্দান্ত সেঞ্চুরীর পর রিশাদ হোসের ঘুর্ণিতে কাবু ইষ্ট জোন। ব্যাট-বলের অসাধারণ নৈপূণ্যের ম্যাচ অবশেষে নর্থ জোন জিতেছে ৫৪ রানে। নর্থ জোনের গড়া ৩৩৫ রানের জবাবে ইষ্ট জোন ২ বল বাকি থাকতে অল আউট হয়েছে ২৮১ রানে। বিজয়ী দলের আকবর আলী প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন। সকালে ইষ্ট জোন টসে জিতে নর্থ জোনকে ব্যাট করতে পাঠায়। দলীয় ২০ রানে ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান সাজঘরে ফেরার পর আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দলের ভীত রচনা করেন। দলীয় ১০২ রানে তানজিদ তামিম ব্যক্তিগত ৫৪ রানে আউট হলে অল্প রানের ব্যবধানে লিটন দাস এবং তাওহিদ হৃদয়কে হারিয়ে বিপাকে পড়ে নর্থ জোন। তবে, আকবর আলী এসে অধিনায়ক শান্তর সাথে শক্ত জুটি গড়ে দলের বিপর্যয় সামলে নেন। এই জুটিতে যোগ হয় ১২০ রান। অধিনায়ক শান্ত ব্যক্তিগত ৬৮ রান করে সাজঘরে ফিরলেও আকবর আলী তুলে নেন টুর্ণামেন্টের প্রথম সেঞ্চুরী। তিনি টি-টুয়েন্টি মুডে ব্যাট চালিয়ে ৮১ বলে ৮টি চার এবং ৫টি ছক্কার সাহায্যে সেঞ্চুরী পূর্ন করেন। শেষ পর্যন্ত ১১১ রান করে সাইফুদ্দিনের বলে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে পড়ার আগেই দলের স্কোর ৩’শ অতিক্রম করে। শেষ পর্যন্ত ৩৩৫ রানে শেষ হয় নর্থ জোনের ইনিংস। ইষ্ট জোনের খালেদ আহম্মেদ ৪ উইকেট নিয়েছেন। হাসান মাহমুদ এবং সাইফুদ্দিন ২টি করে উইকেট পেয়েছেন। ৩৩৬ রানের অনেক বড় টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ওপেনার জাকিরকে হারায় ইষ্ট জোন। এরপর দলীয় ৬৯ রানের টপ অর্ডারের ৩ ব্যাটার সাজঘরে ফিরলে চাপে পড়ে ইষ্ট জোন। এমন কঠিন মুহুর্তে দলের হাল ধরেন অভিজ্ঞ মমিনুল হক এবং দলনেতা ইয়াছির আলী রাব্বী। এই জুটি দলকে ১৪০ রানের টেনে নিয়ে যান। ইয়াছির রাব্বী ব্যক্তিগত ৪২ রানে আউট হলেও মমিনুল খেলেছেন ৮২ রানের দূর্দান্ত ইনিংস।
দলীয় ২৩৬ রানে ৯ম উইকেটের পতনের পর নাঈম হাসান একাই মাঠভর্তি দর্শকদের মাতাল করে তুলেছিলেন। ওয়ানডে ম্যাচকে টি-টুয়েন্টি বানিয়ে পড়ন্ত বিকেলে রানের ফোয়ারা ছুটিয়েছেন তিনি। ৭টি বাউন্ডারির সাহায্যে মাত্র ৪৩ বলে ফিফটি তুলে নিয়েছেন লেগ স্পিনার নাঈম হাসান। শেষ ব্যাটার হাসান মাহমুদকে সাথে নিয়ে গড়েছেন ৪৫ রানেরর মূল্যবান পার্টনারশীপ। অবশেষে তাদের এই দু:সাহসী পথচলা থেমেছে ২৮১ রানে। হাসানর মাহমুদ আউট হয়েছেন আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইনের বলে নাহিদ রানরার হাতে ক্যাচ দিয়ে। ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে হাসান মাহমুদ করেছেন ১২ রান। এছাড়া পারভেজ হোসেন ইমন ৩৫, অমি করেন ২২ রান। নর্থ জোনের রিশাদ ৪টি, নাহিদ রানা ও মেহেরব ২টি করে এবং শরিফুল ও সাকলাইন ১টি করে উইকেট শিকার করেন। এর আগে সোমবার সকালে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাউল করিম বেলুন উড়িয়ে টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উভয় দলে জাতীয় দলের অধিকাংশ তারকা ক্রিকেটারের উপস্থিতি থাকায় মাঠে বিপুল সংখ্যক দর্শক সমাগম ঘটে। বগুড়ায় বিসিএল এর পরের ম্যাচে ২৬ ফেব্রুয়ারি ইষ্ট জোনের প্রতিপক্ষ সেন্ট্রাল জোন।