মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মুখোমুখি রয়েছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের ভোটাররা। নিয়োজিত মোট ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন এর প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
এ আসনে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিবেশে দুই প্রধান প্রার্থীর লড়াই ভোটারদের দাবী, সংগঠনিক শক্তি ও পরিচিতির ভিত্তিতে মূলত শ্রদ্ধেয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। শহরের ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বিএনপি থেকে মনোনীত মিনু, যিনি রাজশাহীর সাবেক মেয়র ও (এমপি)। এছাড়াও স্থায়ী রাজনৈতিক পরিচিতি সম্পন্ন এক নেতা। তিনি ভোটারদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন অনেকেই।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনীত ডা. জাহাঙ্গীর একটি শক্ত সংগঠনের পক্ষে অংশ নিলেও তিনি রাজশাহী-২-তে নির্বাচনী কাজে নবীন এবং তুলনামূলকভাবে কম জনপ্রিয় হিসেবে অভিহিত হচ্ছেন। ভোটাররা বলেন, তিনি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, এবং শহরের বাস্তব চাহিদার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রস্তাব তুলে ধরছেন। তবে পরিচিতি ও সংগঠনিক পরিধি বৃদ্ধির নিরিখে তাকে বিএনপি প্রার্থী মিনুর চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। এ আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা নির্দিষ্ট কিছু ভোটার গোষ্ঠীর মধ্যে তাদের কিছু সমর্থন রয়েছে; তবে সাধারণভাবে এগুলি এই আসনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, রাজশাহী-২, আসনে ভোটাধিকারের মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সংগঠিত নেতৃত্বের সক্ষমতা, উন্নয়ন কর্মসূচি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি। অনেক ভোটার বলছেন যে প্রার্থীরা যেভাবে তাদের উন্নয়ন কর্মসূচি ও পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করছেন, সেই ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন এবং ধানের শীষ ও দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকের লড়াই তাদের কাছে প্রধান লড়াই মনে হচ্ছে। বর্তমানে সরকার বা নির্বাচন কমিশন থেকে কোন আনুষ্ঠানিক বা ফলাফলভিত্তিক ভুটি-ভিত্তিক জনমত জরিপ প্রকাশিত নেই। তাই নির্বাচনী প্রচারণা-ভিত্তিক জনমত ও ভোটারদের প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যাচ্ছে, বিএনপি-র প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু তুলনামূলকভাবে এগিয়ে অবস্থান করছেন। রাজশাহী-২ আসনে ভোটারদের মধ্যে বিএনপি মনোনীত মোঃ মিজানুর রহমান মিনু ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন-এর প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রধান আকর্ষণ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনমত ও ভোটাভোটির ভিত্তিতে নির্বাচন প্রচারণা পর্যায়ে মিনু খানিকটা এগিয়ে থাকা দেখা গেলেও ভোটগ্রহণের পর আনুষ্ঠানিক ফলাফলই আসল সিদ্ধান্ত হবে।