মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে ২ হাজার ৬০০ জন হাজতি ও কয়েদি রয়েছেন। তাদের মধ্যে মাত্র ২০৪ জনই পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। রবিবার দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোঃ শাহ আলম খান। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান শুরু হয়। শুরু থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত ২০৪ জন বন্দি ভোট প্রদান করেছেন। ভোট প্রদান শেষে তাদের ব্যালটগুলো পোস্ট অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারাগারে বন্দিদের মধ্যে মোট ২ হাজার ৬০০ জন হাজতি ও কয়েদি থাকলেও, শুধুমাত্র ২৭৩ জনই পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নাম নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে ২০৪ জনের নামে ব্যালট আসে, আর তাদের ভোট প্রদান করা হয়েছে। সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, আমরা সকল বন্দিকেই ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম, যাদের ইচ্ছা তারা নাম নিবন্ধন করেছিলেন। কারাগারের বন্দিদের প্রায় অর্ধেকই সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি, যারা দীর্ঘদিন ধরে বন্দি থাকার কারণে নেগেটিভ ভোটারযোগ্যতা থাকায় ভোটার তালিকায় নাম থাকতে পারেনি। জামিন হলে ভোট দেওয়া যাবে না। পোস্টাল ব্যালটে নাম নিবন্ধন করার পর কেউ যদি জামিনে মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে যান, তারা বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না। এর ফলে ৩২ জন বন্দি জামিনে বের হয়ে যাওয়ায় তাদের ভোট গ্রহণ সম্ভব হয়নি। এছাড়াও এই কারাগারে বন্দি আছেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ ও রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সাবেক এমপি এনামুল হক। তবে আওয়ামী লীগের এ দুই নেতা ভোট দেননি। ভোট দেওয়ার জন্য তারাও নাম নিবন্ধন করেননি। নিবন্ধিত ২৭৩ বন্দির মধ্যে নাম, ঠিকানা ও সংসদীয় আসনের সব তথ্য সঠিক থাকায় ২০৪ জনের নামে ব্যালট এসেছিল। তারা সময়মতো ভোট দিয়েছেন এবং ভোটগুলো পোস্ট অফিসে পাঠানো হয়েছে। পোস্টাল ব্যালট ভোট কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত এই ভোট প্রদানের হিসাব পাওয়া গেছে। পোস্টাল ব্যালটগুলো এখন পোস্ট অফিস থেকে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে প্রেরিত হচ্ছে, এরপর তা যাচাই করে গণনা করা হবে। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা লোকেরা ভোট প্রদানে আগ্রহী হলেও নানা আইনি ও বাস্তব অসুবিধার কারণে খুব কম সংখ্যকই পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন বলে জানান জেল সুপার।