জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় জোট প্রধান ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে চাই। গত সাড়ে ১৫ বছরে এদেশ থেকে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আমরা সেই টাকা ফিরিয়ে এনে উন্নয়নবঞ্চিত এলাকাগুলো দিয়েই উন্নয়ন শুরু করতে চাই।’ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন নতুন বাংলাদেশ জাগিয়ে তোলার নির্বাচন, জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান জানানোর নির্বাচন, ইনসাফের ভিত্তিতে উন্নয়নের নির্বাচন। দেশের সন্তানেরা জীবন দিয়ে ৩৬ জুলাই আমাদের উপহার দিয়েছে। এই বাংলাদেশে জুলাই সন্তানেরা আর কোনো বৈষম্য ও আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না।’ গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আজাদী না গোলামী?’ এ সময় উপস্থিত জনতা আজাদী আজাদী বলে স্লোগান দিতে থাকে। তিনি ১২ তারিখে প্রথম ভোটটি ‘হ্যাঁ’ দিয়ে শুরু করার আহ্বান জানান। যুবকদের উদ্দেশে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘তোমাদের হাত প্রস্তুত করো, আমরা তোমাদের কাজ দিতে চাই। ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়তে পারলে পুরো বাংলাদেশটাই হবে একটি জীবন্ত উড়োজাহাজ। আর যুবসমাজই হবে সেই উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেন।’ মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পিরোজপুর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইনন সাঈদীর পুণ্যভূমি। নিরপরাধ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে হত্যা করা হয়েছে।’ ‘আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করব, একই সাথে ওসমান হাদি, আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ মুগ্ধসহ সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে,’ বলেন তিনি। ডা: শফিকুর রহমান তার বক্তব্যের শেষ দিকে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দুই ছেলে- পিরোজপুর-২ আসনের প্রার্থী শামীম সাঈদী এবং পিরোজপুর-১ আসনের প্রার্থী মাসুদ সাঈদীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং পিরোজপুর-৩ আসনে জামায়াত সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী ড. শামীম হামিদীর হাতে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দিয়ে তাদেরকে ভোট দেয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। জনসভায় ডা: শফিকুর রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মুস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ। পিরোজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসেন ফরিদের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জহিরুল হক, জেলা পেশাজীবী বিভাগের সভাপতি আব্দুল্লাহিল মাহমুদ, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রব, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা সিদ্দিকুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা শেখ আব্দুর রাজ্জাকসহ স্থানীয় জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।