শহিদুল ইসলাম শাওন, শেরপুর (বগুড়া): নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ কালীন সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তার প্রতিবাদে বগুড়ার শেরপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা জামায়াতের নারী শাখা। আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কয়েক হাজার নারী অংশগ্রহণ করেন। শেরপুর উপজেলা জামায়াতের নারী শাখার উদ্যোগে হামছায়াপুর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে বাসট্যান্ড উপজেলা পরিষদের সামনে দিয়ে শহরের প্রধান সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় হামছায়াপুর এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে শেরপুর উপজেলা জামায়াতের মহিলা নেত্রী সুলতানা পারভীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আলহাজ দবিবুর রহমান। উপজেলা জামায়াতের মহিলা বিভাগের দায়িত্বশীল সুলতানা ইয়াসমিন বলেন, ‘ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের থামানো যাবে না। আমরা প্রশাসনের কাছে স্পষ্টভাবে দাবি জানাই, নির্বাচনের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নারীদের, শিশুদের এবং সব ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে আমরা আবারও রাজপথে নামবো এবং শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাবো।’ সমাবেশে উপজেলা জামায়াতের মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ সদস্য জান্নাত আরা বলেন, ‘বাংলাদেশের নারী সমাজ আর ভয় পায় না। নারীরা জেগে উঠেছে। ইনশাআল্লাহ তাদের আর দমিয়ে রাখা যাবে না। নারীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের অপপ্রচার ও বাধা শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের দিকে ফিরে যাবে।’ এছাড়াও বক্তব্য রাখেন-জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মানছুরুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা নাজমুল হক, সহকারী সেক্রেটারি শাহিন আলম, শামীম ও মাসুদ রানা। বক্তারা বলেন, নির্বাচনি মাঠে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে গেলে জামায়াতের নারী কর্মীদের বাধা, হুমকি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও তাদের মোবাইল ফোন ও ভ্যানিটি ব্যাগ কেড়ে নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা। নারী নেত্রীরা বলেন, এ ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে জামায়াতের নারী কর্মীদের দমিয়ে রাখা যাবে না। দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করতে তারা মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাবেন। সমাবেশ থেকে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে বক্তারা বলেন, প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো অনাকাংখিত পরিস্থিতির দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে। এ সময় শৃঙ্খলা রক্ষায় জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবিরের কয়েকশ নেতাকর্মী স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঊল্লেখ্য, ঢাকা-৪ এবং টাঙ্গাইলের ঘটনা সামনে রেখে দেশব্যাপী পালিত এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে শেরপুরেও এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।