বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তাদের বিতর্কিত ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের লাখ লাখ মা-বোনের সম্মানহানি হয়েছিল। কাজেই এদের কাছ থেকে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে। এদের ব্যাপারে জনগণকে সতর্ক রাখতে হবে। তারা মুখে বলবে একটা, আর কাজ করবে আরেকটা। “বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং ফরিদপুরে বিভাগ গঠন করলে যদি জনগণের উপকার হয়, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়, তবে ফরিদপুরকে বিভাগ করা হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে দেশের সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। সেই বিশ্বাস থেকেই দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুর শহরের রাজেন্দ্র কলেজের মাঠে বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উক্ত কথা বলেন। ভোটারদের উদ্দেশ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ফজরের নামাজ জামাতে পড়ে ভোটের লাইনে দাঁড়াবেন। ভোট দিয়ে চলে গেলে হবে না, ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে যেন আপনার ভোট অন্য কেউ দিয়ে দিতে না পারে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামে। মাঠ ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। তিনি বলেন, ১২ই ফেব্রুয়ারি শুধু নির্বাচনের দিন নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দিন। গত ১৫ বছর যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তাদের সেই দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে দেশের প্রতিটি মানুষকে ৫ আগস্টের মতো রাজপথে এবং ভোটকেন্দ্রে নেমে আসতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারেক রহমান আরো বলেন, ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না। এখনো কেউ কেউ বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি কার্ড ও বিকাশ নম্বর নিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা গত কয়েক বছরে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি দেখেছি। এই অবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে হবে। মনে রাখবেন, এ দেশ কোনো দলের নয়, কারো ব্যক্তিগত নয়, এ দেশ জনগণের।’ তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণের স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকারের বিরুদ্ধে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। এই ষড়যন্ত্র করা করছে, এই ষড়যন্ত্র যারা করছে তাদেরকে জনগণ একটি নামে ডেকে থাকে, জনগণের পক্ষ থেকে তাদের একটি নাম দেয়া হয়েছে। কি নাম জানেন? গুপ্ত। জনগণ তাদেরকে গুপ্ত নামে ডাকে। ‘কারণ জনগণ দেখেছে যখনই সময় হয় এদিক তখন এক রূপ, আবার যখন সময় ওদিক, তখন আরেক রূপ। বিভিন্ন সময় তারা রূপের পরিবর্তন করে’—বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘যারা নির্বাচনের আগেই অসৎ পথ অবলম্বন করছেন, তারা নির্বাচিত হলে কীভাবে সৎ পথে দেশ পরিচালনা করবেন?।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার আগে পাক সেনারা এ দেশের নারীদেরকে যেভাবে অবমূল্যায়ন করত, সেভাবেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি নারীদের অপমান করে ক্ষমতায় যেতে যেতে চায়।’ রূপরেখার কথা তুলে ধরে চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপি দেশের উন্নয়নে একটি রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে। নির্বাচিত হলে সেই রূপরেখার আলোকে দেশের প্রত্যেকটি জেলায় উৎপাদিত পণ্যের ওপর ভিত্তি করে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা হবে। জনসভায় ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইসার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাসুকুর রহমান মাসুক প্রমুখ।